পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, এখনো কিছু মানুষ ফিসফিস করে প্রশ্ন তোলে, ১২ তারিখে ভোট হবে কিনা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ১২ তারিখে ভোট না হওয়ার কী আছে? সরকার প্রস্তুত, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত, রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুত, এমনকি ভোটাররাও প্রস্তুত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজবাড়ী শহিদ খুশি রেলওয়ে মাঠে ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভ্যান, গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ র্যালির উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আজকে যার বয়স ৩৮ বছর, সেও গত ২০ বছর ভোট দিতে পারেনি। এই জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়ে মানুষ মুখিয়ে আছে। তারপরও কেন কানে কানে প্রশ্ন করা হয়- ভোট হবে তো? কারণ, পতিত স্বৈরাচার ১৬ বছর ধরে সমাজের সর্বত্র তার লোক রেখে গেছে। সেই স্বৈরাচারের লোকেরাই এ ভয় ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যখন কেউ আপনাদের জিজ্ঞেস করবে ভোট হবে কি-না, তখন দাঁড়িয়ে বলবেন- অবশ্যই ভোট হবে। পতিত স্বৈরাচারের লোকেরা দেশে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চায়। তারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চায়। আপনারা তাদের কথায় ভয় পাবেন না। তাদের কথায় ভয় পেলে এ আন্দোলন কখনোই সফল হতো না।
গণভোট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আপনারা যদি চান জনগণ ক্ষমতায়িত হোক, তাহলে অবশ্যই হ্যাঁ ভোট দেবেন। এবারের ভোট অনেকের জীবনের প্রথম গণভোট। গণভোট মানে হলো- আপনারা আগের মতো চলতে চান, নাকি একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ চান। তিনি বলেন, এই যে আমাদের সন্তানেরা প্রাণ দিয়েছে ভাবা যায়? ১৮ বছরের একজন যুবক তার চোখ হারিয়েছে। সে কিন্তু ক্ষমতা চায়নি। সে চেয়েছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, কথা বলার অধিকার।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, সরকার আইন করে অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারে কিন্তু নির্বাচিত সরকার চাইলে সেগুলো রাখতে পারে বা নাও রাখতে পারে। সে কারণেই কোথায় কোথায় সংস্কার প্রয়োজন, প্রশাসনকে জনমুখী করা, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা, ক্ষমতার ভারসাম্য আনা-এসব বিষয় চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ১১টি কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়। এরপর সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়। জুলাই সনদের ভিত্তিতেই জনগণের সামনে প্রশ্ন উপস্থাপন করা হয়েছে- এই সংস্কারগুলো আপনারা চান কি না। তিনি বলেন, আপনারা যদি জুলাই আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখাতে চান, তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।
অনুষ্ঠান শেষে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নিজেও অংশগ্রহণ করেন। র্যালি শেষে শহরের ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ।



















