ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এলপিজিবাহী জাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি, ক্যাপ্টেনের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলো চট্টগ্রাম বন্দর

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

ক্যাপ্টেনের দক্ষতায় এক বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী চ্যানেলে বার্থিং করতে আসার সময় ট্যাংকার ভেসেল ‘গ্যাস হারমনি’ জাহাজের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে এ সমস্যা তৈরি হয়। প্রথমে নিয়ন্ত্রণ হারালেও জাহাজ চালনাকারী ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ দক্ষতার সঙ্গে জেটি কাঠামো থেকে মাত্র ৫ ফুট দূরত্বে জাহাজটি থামাতে সমর্থ হন। জাহাজটি ৫ হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ে এলপিজিবাহী জাহাজ গ্যাস হারমনি বড় দুর্ঘটনার দিকে যাচ্ছিল। যেসময় জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছিল, তখনই তাৎক্ষণিক দৃঢ় সিদ্ধান্ত, বুদ্ধিমত্তা ও অসীম সাহসিকতায় জীবনের মায়া তুচ্ছ করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে ক্যাপ্টেন জাহাজটি জেটি কাঠামো থেকে আনুমানিক এক দশমিক ২ মিটার দূরত্বে থামিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। ক্যাপ্টেনের সাহসিকতার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সুনামও উজ্জ্বল হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস হারমনি জাহাজটি ৫ হাজার টন এলপিজি নিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে বার্থিং করার জন্য জাহাজটি কর্ণফুলী চ্যানেলে প্রবেশ করে। টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশমুখে কর্ণফুলী চ্যানেলে। জাহাজটিতে ৫১৫ টন প্রোপেন ও ৪ হাজার ৫৭০ টন বিউটেন গ্যাস ছিল।

 

বন্দর সূত্র জানায়, বার্থিং করার সময় ১৫৯ দশমিক ৯ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাফকো অ্যামোনিয়া জেটিতে আঘাত হানার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এসময় ক্যাপ্টেন দুর্ঘটনা প্রশমনের জন্য যথাসময়ে জাহাজের নোঙর ও টাগবোট ব্যবহার করেন। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সময়মতো এ পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে জাহাজের গতি কমে যায় এবং দিক পরিবর্তন হয়ে শেষ পর্যন্ত জেটি কাঠামো থেকে আনুমানিক এক দশমিক ২ মিটার দূরত্বে জাহাজটিকে থামিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। অন্যথায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে জান-মালসহ জেটি ও চ্যানেলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

বহির্নোঙর থেকে জাহাজটি বন্দর চ্যানেলে আনার কাজে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মহান আল্লাহ নিজ হাতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছেন। যে সময়ে জাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, তখন সরু চ্যানেলে জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করা একেবারে দুঃসাধ্য। কিন্তু ক্যাপ্টেন দক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে জাহাজটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পদক্ষেপ নেন। তাতে জেটিতে ধাক্কা দেওয়ার মাত্র ৫ ফুট দূরত্বে জাহাজটিকে থামাতে সমর্থ হন। অভিজ্ঞ ও দক্ষতা না থাকলে এ ধরনের ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব ছিল বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশপ্রেমিক হওয়ার কারণে কি আমার স্বামীকে হত্যা করা হলো?: র‌্যাব কর্মকর্তা মোতালেবের স্ত্রীর প্রশ্ন

এলপিজিবাহী জাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি, ক্যাপ্টেনের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলো চট্টগ্রাম বন্দর

আপডেট সময় ০৯:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ক্যাপ্টেনের দক্ষতায় এক বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী চ্যানেলে বার্থিং করতে আসার সময় ট্যাংকার ভেসেল ‘গ্যাস হারমনি’ জাহাজের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে এ সমস্যা তৈরি হয়। প্রথমে নিয়ন্ত্রণ হারালেও জাহাজ চালনাকারী ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ দক্ষতার সঙ্গে জেটি কাঠামো থেকে মাত্র ৫ ফুট দূরত্বে জাহাজটি থামাতে সমর্থ হন। জাহাজটি ৫ হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ে এলপিজিবাহী জাহাজ গ্যাস হারমনি বড় দুর্ঘটনার দিকে যাচ্ছিল। যেসময় জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছিল, তখনই তাৎক্ষণিক দৃঢ় সিদ্ধান্ত, বুদ্ধিমত্তা ও অসীম সাহসিকতায় জীবনের মায়া তুচ্ছ করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে ক্যাপ্টেন জাহাজটি জেটি কাঠামো থেকে আনুমানিক এক দশমিক ২ মিটার দূরত্বে থামিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। ক্যাপ্টেনের সাহসিকতার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সুনামও উজ্জ্বল হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস হারমনি জাহাজটি ৫ হাজার টন এলপিজি নিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে বার্থিং করার জন্য জাহাজটি কর্ণফুলী চ্যানেলে প্রবেশ করে। টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশমুখে কর্ণফুলী চ্যানেলে। জাহাজটিতে ৫১৫ টন প্রোপেন ও ৪ হাজার ৫৭০ টন বিউটেন গ্যাস ছিল।

 

বন্দর সূত্র জানায়, বার্থিং করার সময় ১৫৯ দশমিক ৯ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাফকো অ্যামোনিয়া জেটিতে আঘাত হানার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এসময় ক্যাপ্টেন দুর্ঘটনা প্রশমনের জন্য যথাসময়ে জাহাজের নোঙর ও টাগবোট ব্যবহার করেন। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সময়মতো এ পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে জাহাজের গতি কমে যায় এবং দিক পরিবর্তন হয়ে শেষ পর্যন্ত জেটি কাঠামো থেকে আনুমানিক এক দশমিক ২ মিটার দূরত্বে জাহাজটিকে থামিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। অন্যথায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে জান-মালসহ জেটি ও চ্যানেলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

বহির্নোঙর থেকে জাহাজটি বন্দর চ্যানেলে আনার কাজে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মহান আল্লাহ নিজ হাতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছেন। যে সময়ে জাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, তখন সরু চ্যানেলে জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করা একেবারে দুঃসাধ্য। কিন্তু ক্যাপ্টেন দক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে জাহাজটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পদক্ষেপ নেন। তাতে জেটিতে ধাক্কা দেওয়ার মাত্র ৫ ফুট দূরত্বে জাহাজটিকে থামাতে সমর্থ হন। অভিজ্ঞ ও দক্ষতা না থাকলে এ ধরনের ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব ছিল বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।