ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারা জিতলে কেউ নিরাপদ থাকবে না: জামায়াত আমির

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০২:০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩৫ বার পড়া হয়েছে

এবার বিএনপিকে উদ্দেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এক দিকে ফ্যামেলি কার্ড, অন্যদিকে মহিলাদের গায়ে হাত, দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। এটিই বার্তা, তারা জিতলে কেউ নিরাপদ থাকবে না।’ আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়েজনে এই জনসভা হয়।

এদিকে বিএনপিকে উদ্দেশ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘যারা নিজেদের দলকে সামলে রাখতে পারে না, কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না সেই দল যতবড় দলই হোক তাদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। আপনারা দেশ গড়ার আগে; নিজের দলকে গড়েন ভালো করে। এতে দেশ লাভবান হবে; আপনারাও লাভবান হবেন। এই ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা দরকার হলে সেটাও আমরা করবো। তার পরেও আল্লাহর ওয়াস্তে শৃঙ্খলার দিকে আসেন। দল হিসাবে জামায়াত সহকর্মীদের সামলিয়ে রাখতে পারে, সেই দলই বাংলাদেশকে সামলে রাখতে পারবে।’

গণভোট নিয়ে বাহ্যিকভাবে যাই হোক, ভেতরে ভেতরে একটি দল নাখোশ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই গণভোট হলে ফ্যাসিবাদী কায়েম হবে না। গণভোট হলে কারও সম্পদের ওপর হাত দেওয়া যাবে না। এই গণভোট হলে দলীয় চাঁদাবাজির রমরমা ব্যবসা চলবে না। সেই জন্য কেউ কেউ গণভোটে সন্তুষ্ট না। বাহ্যিকভাবে যাই হোক, ভেতরে ভেতরে তারা নাখোশ। কিন্তু তারা মুখ খুলে বলতে পারছে না। কারণ ১৮ কোটি মানুষ গণভোটের পক্ষে। ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তন দেখতে চাই। গণভোটে হ্যাঁ মানেই আজাদী, গণভোটে না মানে গোলামী।’ ১২ তারিখ প্রথম ভোটটা পড়বে গণভোটের হ্যাঁ পক্ষে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দল হিসেবে একমাত্র মজলুম দল জামায়াতে ইসলামী মন্তব্য করে বলেন, ‘মজলুম দল হিসাবে আর একটি নাই জামায়াতের মতো। যে যত চিৎকার দিক না কেন; লাভ হবে না। ক্রমান্বয়ে শীর্ষ ১১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। অনেকেই ফ্যাসিসের অনুমতি নিয়ে মিটিং করেছে। আমরা অনুমতিও নেয়নিও। মজলুম অবস্থায় যেখানেই পেরেছি; সেখানেই প্রতিবাদ করেছি।’

জুলাই আন্দোলনের পরে মামলা বাণিজ্য করে মানুষকে হয়রানি নির্যাতন করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা হাজার হাজার মামলা করেনি। আমাদের মামলার আসামি সর্বোচ্চ আসামি ৯৮ জন। কিন্তু আমাদের কিছু ভাই মামলা করেছে হাজারে হাজার। আরও আছে অজ্ঞাত। এগুলো দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এটা আমরা নিন্দা জানাই। এটা বিচারকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ধরনের মামলা বাণিজ্য করতেও চাই না, দেখতেও চায় না। এসবের মুক্তির জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেট মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। সিন্ডিকেট গোটা বাংলাদেশকে অবশ করে দিয়েছে। এই সিন্ডিকেটের হাত গুঁড়িয়ে দেবো। চাঁদাবাজি করা লাগবে না; চাঁদাবাজদের বুকে টেনে নিয়ে তাদের হাতে কাজ দিয়ে দেবো। যারা এসব চাঁদাবাজদের বিপথে নিয়েছে, তাদেরকেও সুপথে নিয়ে আসবো। সুপথে এসে সবাই দল করুক।’ যশোরের বিভিন্ন দাবি দাওয়া প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের প্রতীক দাড়িপাল্লা, পাল্লার মাপে কোনও কম বেশি করবো না, যার যা প্রাপ্য তা বুঝে দেবো।’ এ সময় তিনি ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনে কারচুপি রুখতে ছাত্র জনতাকে রাজপথে থাকতে হবে- আল্লামা মামুনুল হক

তারা জিতলে কেউ নিরাপদ থাকবে না: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০২:০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

এবার বিএনপিকে উদ্দেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এক দিকে ফ্যামেলি কার্ড, অন্যদিকে মহিলাদের গায়ে হাত, দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। এটিই বার্তা, তারা জিতলে কেউ নিরাপদ থাকবে না।’ আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়েজনে এই জনসভা হয়।

এদিকে বিএনপিকে উদ্দেশ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘যারা নিজেদের দলকে সামলে রাখতে পারে না, কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না সেই দল যতবড় দলই হোক তাদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। আপনারা দেশ গড়ার আগে; নিজের দলকে গড়েন ভালো করে। এতে দেশ লাভবান হবে; আপনারাও লাভবান হবেন। এই ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা দরকার হলে সেটাও আমরা করবো। তার পরেও আল্লাহর ওয়াস্তে শৃঙ্খলার দিকে আসেন। দল হিসাবে জামায়াত সহকর্মীদের সামলিয়ে রাখতে পারে, সেই দলই বাংলাদেশকে সামলে রাখতে পারবে।’

গণভোট নিয়ে বাহ্যিকভাবে যাই হোক, ভেতরে ভেতরে একটি দল নাখোশ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই গণভোট হলে ফ্যাসিবাদী কায়েম হবে না। গণভোট হলে কারও সম্পদের ওপর হাত দেওয়া যাবে না। এই গণভোট হলে দলীয় চাঁদাবাজির রমরমা ব্যবসা চলবে না। সেই জন্য কেউ কেউ গণভোটে সন্তুষ্ট না। বাহ্যিকভাবে যাই হোক, ভেতরে ভেতরে তারা নাখোশ। কিন্তু তারা মুখ খুলে বলতে পারছে না। কারণ ১৮ কোটি মানুষ গণভোটের পক্ষে। ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তন দেখতে চাই। গণভোটে হ্যাঁ মানেই আজাদী, গণভোটে না মানে গোলামী।’ ১২ তারিখ প্রথম ভোটটা পড়বে গণভোটের হ্যাঁ পক্ষে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দল হিসেবে একমাত্র মজলুম দল জামায়াতে ইসলামী মন্তব্য করে বলেন, ‘মজলুম দল হিসাবে আর একটি নাই জামায়াতের মতো। যে যত চিৎকার দিক না কেন; লাভ হবে না। ক্রমান্বয়ে শীর্ষ ১১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। অনেকেই ফ্যাসিসের অনুমতি নিয়ে মিটিং করেছে। আমরা অনুমতিও নেয়নিও। মজলুম অবস্থায় যেখানেই পেরেছি; সেখানেই প্রতিবাদ করেছি।’

জুলাই আন্দোলনের পরে মামলা বাণিজ্য করে মানুষকে হয়রানি নির্যাতন করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা হাজার হাজার মামলা করেনি। আমাদের মামলার আসামি সর্বোচ্চ আসামি ৯৮ জন। কিন্তু আমাদের কিছু ভাই মামলা করেছে হাজারে হাজার। আরও আছে অজ্ঞাত। এগুলো দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এটা আমরা নিন্দা জানাই। এটা বিচারকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ধরনের মামলা বাণিজ্য করতেও চাই না, দেখতেও চায় না। এসবের মুক্তির জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেট মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। সিন্ডিকেট গোটা বাংলাদেশকে অবশ করে দিয়েছে। এই সিন্ডিকেটের হাত গুঁড়িয়ে দেবো। চাঁদাবাজি করা লাগবে না; চাঁদাবাজদের বুকে টেনে নিয়ে তাদের হাতে কাজ দিয়ে দেবো। যারা এসব চাঁদাবাজদের বিপথে নিয়েছে, তাদেরকেও সুপথে নিয়ে আসবো। সুপথে এসে সবাই দল করুক।’ যশোরের বিভিন্ন দাবি দাওয়া প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের প্রতীক দাড়িপাল্লা, পাল্লার মাপে কোনও কম বেশি করবো না, যার যা প্রাপ্য তা বুঝে দেবো।’ এ সময় তিনি ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।