এবার ইরান ও লেবাননের বিভিন্ন জায়গায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামরায় নিহতের সঙখ্যা ৭৪২ ছাড়িয়েছে। তেহরানের মিসাইল ও পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করতে মাসব্যাপী হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দিয়েছেন রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ইরানের হামলার প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করছে আরো যুদ্ধবিমান। এদিকে, ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে চলছে ইরানের হামলা। সৌদিতে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার পাশপাশি দুবাই ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর মিসাইল হামলা চালিয়েছে তেহরান। এ পর্যন্ত ৬ মার্কিন সেনা ও ১০ ইসরাইলি নিহত হয়েছে।
ইরানের মিসাইল ও পরমাণু স্থাপনা ধ্বংসের লক্ষ্যে, টানা চতুর্থ দিনের মতো হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনী। এতে নিহত হচ্ছে শতশত সাধারণ নাগরিক। শুধু সোমবারই ইরানে হত্যা করা হয়েছে শিশুসহ অন্তত ৯৬ জনকে। হত্যা করা হয়েছে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী বাঘেরজাদেহ–কে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মূল হামলা তো এখন পর্যন্ত শুরুই হয়নি; প্রয়োজনে এই হামলা চার সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলবে। এরইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাঠানো হয়েছে জ্বালানি ভরার বিমানও। সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে হামলার প্রতিশোধ নিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। এরইমধ্যে দুই দেশের বেশ কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে তারা স্থল হামলার জন্য প্রস্তুত আছে। তেহরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশের জ্বালানি অবকাঠামো। অস্ট্রেলিয়া দাবি করেছে, দুবাইতে তাদের সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। এরআগে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে মিসাইল হামলা চালায় ইরান। হামলা চালিয়েছে কুয়েত, কাতার ও ইরাকে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করেও।
ইরানের হমলা থেকে বাঁচতে জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১৫টি দেশের মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা চতুর্থ দিনে এসেও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে স্থগিত আছে বিমান চলাচল। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে কয়েকটি ফ্লাইটের গতিপথ পরবির্তন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসি। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে এই পথ দিয়ে। বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে হামলার মাধ্যমে তা পুড়িয়ে দেয়া হবে। এতে বিশ্ব বাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা বিশ্লেষকদের।



















