এবার সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা তোফায়েল আহমেদসহ দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় পলাতক থাকায় গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ এই পরোয়ানা জারি করেন। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল।
এদিন তোফায়েল আহমেদের পক্ষে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতকে জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। আইনজীবী আদালতে বলেন, তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতিশক্তি নেই। আদালতে হাজির হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশ নিতে তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম।
তিনি আরও দাবি করেন, তার মানসিক অসুস্থতা রয়েছে এবং স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। এ অবস্থায় তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন এবং অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর প্রার্থনা করা হয়। মামলাটি ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ গোপনের উদ্দেশ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয় এবং পরে তা উত্তোলন করা হয়। তদন্ত শেষে তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর মামলা আবার চালু হয় বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম। বেঞ্চ সহকারী জানান, পলাতক থাকার কারণে গত ১৯ এপ্রিল দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মঙ্গলবারের শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, পলাতক অবস্থায় আসামির আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতও সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন।





















