ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমি পদত্যাগ করবো না’, ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করবেন মমতা

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:৪২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৫২৫ বার পড়া হয়েছে

এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরও পদত্যাগ করতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে, আর আগামী ৯ মে বিজেপি নতুন সরকার গঠনের শপথ নিতে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলে অনৈক্যের আশঙ্কা এবং ভোটপরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ নিয়েও উদ্বিগ্ন তৃণমূল নেত্রী।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয় ৪ মে। ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি জয় পেয়েছে ২০৭টিতে। মমতার তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি করে এবং সিপিআই (এম) ও অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট ১টি করে আসন পেয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল হয়েছে। বুধবার কলকাতার কালীঘাটে দলের জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক, রেকর্ড থাকুক।তিনি জানান, নিজে ছাড়াও দলের কয়েকজন আইনজীবী নেতাকে নিয়ে আইনি লড়াই চালাবেন।

বৈঠকে কঠিন সময় মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দলের ভেতরে অন্তর্ঘাতের অভিযোগও তোলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘যারা অন্তর্ঘাত করছে, তাদের নাম দিন।তবে ওই বৈঠকে নির্বাচনে জয়ী ৮০ জনের মধ্যে ১০ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিত বিধায়করা অন্য শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কি না, নাকি দলের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ থেকেই দূরত্ব বজায় রাখছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। মমতা আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাব। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাব। আমিও একদিন একা ছিলাম, ঘুরে দলও ঘুরে দাঁড়াবে। আগামী সপ্তাহে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম যাবে এলাকায় এলাকায়।

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে বলেন, ‘সহিংসতার শিকার হলে অনলাইনে অভিযোগ দিন। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবুন।সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, মমতা পদত্যাগ না করলে ৭ মে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্বাভাবিকভাবেই সাবেক মুখ্যমন্ত্রীতে পরিণত হবেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের জন্য রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব রাজ্যপালের হাতে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক পাচাররোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

‘আমি পদত্যাগ করবো না’, ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করবেন মমতা

আপডেট সময় ১০:৪২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরও পদত্যাগ করতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে, আর আগামী ৯ মে বিজেপি নতুন সরকার গঠনের শপথ নিতে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলে অনৈক্যের আশঙ্কা এবং ভোটপরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ নিয়েও উদ্বিগ্ন তৃণমূল নেত্রী।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয় ৪ মে। ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি জয় পেয়েছে ২০৭টিতে। মমতার তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি করে এবং সিপিআই (এম) ও অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট ১টি করে আসন পেয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল হয়েছে। বুধবার কলকাতার কালীঘাটে দলের জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক, রেকর্ড থাকুক।তিনি জানান, নিজে ছাড়াও দলের কয়েকজন আইনজীবী নেতাকে নিয়ে আইনি লড়াই চালাবেন।

বৈঠকে কঠিন সময় মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দলের ভেতরে অন্তর্ঘাতের অভিযোগও তোলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘যারা অন্তর্ঘাত করছে, তাদের নাম দিন।তবে ওই বৈঠকে নির্বাচনে জয়ী ৮০ জনের মধ্যে ১০ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিত বিধায়করা অন্য শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কি না, নাকি দলের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ থেকেই দূরত্ব বজায় রাখছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। মমতা আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাব। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাব। আমিও একদিন একা ছিলাম, ঘুরে দলও ঘুরে দাঁড়াবে। আগামী সপ্তাহে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম যাবে এলাকায় এলাকায়।

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে বলেন, ‘সহিংসতার শিকার হলে অনলাইনে অভিযোগ দিন। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবুন।সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, মমতা পদত্যাগ না করলে ৭ মে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্বাভাবিকভাবেই সাবেক মুখ্যমন্ত্রীতে পরিণত হবেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের জন্য রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব রাজ্যপালের হাতে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।