ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিছু ব্যক্তির কুপরামর্শে একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন: পরওয়ার

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১২:২৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

 

সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তির পরামর্শে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

 

রোববার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জামায়াতসহ সমমনা আটটি দলের বিভাগীয় মহাসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, জাতীয় পার্টি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের যে ডেডলাইন ঘোষণা করেছে, আমরা সব দল মেনে নিয়েছি যে আমরা নির্বাচনে যাব। কিন্তু সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, এই প্রশ্ন জাতির সামনে দেখা দিয়েছে।

 

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তির কুপরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন আর গণভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে।

 

‘আমরা বারবার প্রধান উপদেষ্টা ও ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে বলেছি, একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন হলে কী কী সমস্যা হবে। তারপরও আমাদের দাবি পূরণ হয়নি। একই দিনে দুটি নির্বাচন দেওয়া হয়েছে।’

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে কোনো সংকটে ফেলতে চাই না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে আপনাদের বারবার বলে যাচ্ছি। সুযোগ আছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ পরিবর্তন করুন।

 

‘কোনো চক্রান্ত করে জনগণের ম্যান্ডেটকে নষ্ট করা যাবে না। জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণভোট হবে, তারপর একটা পার্লামেন্ট হবে। এখানে আর কোনো ষড়যন্ত্র বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। সরকারকে বলব, এই গেজেটকে পরিবর্তন করুন। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিন।’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘একটি দল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে এ সংস্কারের বিরোধিতা করেছে। এখন জনতার সম্মতির কাছে তারা নিরুপায় হয়েছে। এখনো ষড়যন্ত্র করছে কী করে ভোটটা পেছানো যায়, কী করে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে করা যায়। কী করে সংস্কারের সব বিষয় বানচাল করা যায়।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়নি। এখনো একটি দলের গোপন ষড়যন্ত্রে ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি ইচ্ছামতো বদলি করে প্রশাসনকে নষ্ট করে ফেলছে। বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী ক্যাম্পে, মিটিংগুলোতে হামলা করছে, মারামারি করছে। এই প্রশাসন এখনো যদি বন্ধ করতে না পারে, এদের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমরা তিনটি দলকে শাসন করতে দেখেছি। তিনটি দলের প্রত্যেকটি শাসনের সময় বাংলাদেশে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। তারা সন্ত্রাস করেছে, লুটপাট করেছে, ভিন্নমতকে দমন করেছে।

‘তারা ইসলামি আন্দোলনের বর্ষীয়ান নেতাদের কারাগারে পুরে, রিমান্ডে, ক্রসফায়ারে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। ইসলামি জাতিসত্তা মূল্যবোধকে তারা ধ্বংস করেছে। আগামীতে এমন বাংলাদেশ আমরা আনতে চাই, এমন সরকার আমরা আনতে চাই; যেখানে আমরা দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখাব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই জোট সম্প্রসারণ হচ্ছে। এই আট দল আর আট দলে থাকছে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই আট দলে শরিক হওয়ার জন্য আবেদন করছে। এই আট দল আরও বাড়বে।’

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

কনটেন্ট শুট করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ আল-আমিন, বারডেমে মৃত্যুশয্যায়

কিছু ব্যক্তির কুপরামর্শে একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন: পরওয়ার

আপডেট সময় ১২:২৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

 

সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তির পরামর্শে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

 

রোববার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জামায়াতসহ সমমনা আটটি দলের বিভাগীয় মহাসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, জাতীয় পার্টি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের যে ডেডলাইন ঘোষণা করেছে, আমরা সব দল মেনে নিয়েছি যে আমরা নির্বাচনে যাব। কিন্তু সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, এই প্রশ্ন জাতির সামনে দেখা দিয়েছে।

 

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তির কুপরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন আর গণভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে।

 

‘আমরা বারবার প্রধান উপদেষ্টা ও ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে বলেছি, একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন হলে কী কী সমস্যা হবে। তারপরও আমাদের দাবি পূরণ হয়নি। একই দিনে দুটি নির্বাচন দেওয়া হয়েছে।’

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে কোনো সংকটে ফেলতে চাই না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে আপনাদের বারবার বলে যাচ্ছি। সুযোগ আছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ পরিবর্তন করুন।

 

‘কোনো চক্রান্ত করে জনগণের ম্যান্ডেটকে নষ্ট করা যাবে না। জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণভোট হবে, তারপর একটা পার্লামেন্ট হবে। এখানে আর কোনো ষড়যন্ত্র বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। সরকারকে বলব, এই গেজেটকে পরিবর্তন করুন। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিন।’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘একটি দল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে এ সংস্কারের বিরোধিতা করেছে। এখন জনতার সম্মতির কাছে তারা নিরুপায় হয়েছে। এখনো ষড়যন্ত্র করছে কী করে ভোটটা পেছানো যায়, কী করে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে করা যায়। কী করে সংস্কারের সব বিষয় বানচাল করা যায়।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়নি। এখনো একটি দলের গোপন ষড়যন্ত্রে ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি ইচ্ছামতো বদলি করে প্রশাসনকে নষ্ট করে ফেলছে। বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী ক্যাম্পে, মিটিংগুলোতে হামলা করছে, মারামারি করছে। এই প্রশাসন এখনো যদি বন্ধ করতে না পারে, এদের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমরা তিনটি দলকে শাসন করতে দেখেছি। তিনটি দলের প্রত্যেকটি শাসনের সময় বাংলাদেশে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। তারা সন্ত্রাস করেছে, লুটপাট করেছে, ভিন্নমতকে দমন করেছে।

‘তারা ইসলামি আন্দোলনের বর্ষীয়ান নেতাদের কারাগারে পুরে, রিমান্ডে, ক্রসফায়ারে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। ইসলামি জাতিসত্তা মূল্যবোধকে তারা ধ্বংস করেছে। আগামীতে এমন বাংলাদেশ আমরা আনতে চাই, এমন সরকার আমরা আনতে চাই; যেখানে আমরা দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখাব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই জোট সম্প্রসারণ হচ্ছে। এই আট দল আর আট দলে থাকছে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই আট দলে শরিক হওয়ার জন্য আবেদন করছে। এই আট দল আরও বাড়বে।’

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।