ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘আপনার মেয়েকে মেরে ফেলেছি, লাশ নিয়ে যান’: হত্যার পর শ্বশুরকে ফোন

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০১:২৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৮০ বার পড়া হয়েছে

 

গাজীপুরে মাস্তুরা আক্তার সুমা (২৮) নামে এক পোশাক কারখানার শ্রমিককে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তাঁর স্বামী। হত্যার পর সুমার স্বামী জালাল উদ্দিন দুলু তার শ্বশুরকেও ফোন করেন।

সুমার বাবা মিরাজুল ইসলামকে ফোন করে বলেন, ‘আপনার মেয়েকে মেরে ফেলেছি। ঘরে লাশ, এসে নিয়ে যান।’

পরে আত্মীয়স্বজন ও পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পর শুক্রবার সকালে তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর থেকে সুমার লাশ উদ্ধার করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গাজীপুর মহানগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দনা হাজি মার্কেট ঈমান আলী মোড় এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজন জানান, সুমার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার পূর্ব নড়াইল এলাকায়। জালাল উদ্দিন দুলুর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। সুমা এবং দুলু দুজনই চান্দনা এলাকার টেক্স ইউরো বিডি গার্মেন্টে চাকরি করতেন। একই এলাকার রমিজ আলীর মালিকানাধীন রমিজ ভিলার তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন এ দম্পতি।

প্রতিবেশীদের বরাতে মহানগরের বাসন থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, কারখানা ছুটির পর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরে রান্নাবান্না করেন সুমা। রাত ১২টার দিকে বাসায় ফেরেন দুলু। ধারণা করা হচ্ছে, দুজনের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের পর রাতেই দুলু শ্বাসরোধে সুমাকে হত্যা করে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুলু তার শ্বশুরকে ফোনে জানান, তাঁর মেয়ে সুমাকে মেরে ফেলেছে। এ কথা শোনার পর সুমার বাবা মিরাজুল আত্মীয়স্বজনকে জানান। তাঁর এক আত্মীয় ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। দরজার তালা ভেঙে পুলিশ ঘরের ভেতর গিয়ে কম্বল দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সুমার মরদেহ দেখতে পায়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি হারুন অর রশিদ বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই নানা বিষয়ে ঝগড়া হতো। তবে তদন্তে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। দুলু পলাতক আছে। এ ঘটনায় সুমার বাবা মিরাজুল ইসলাম শুক্রবার মামলা করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজার সেনা ও ২০০ যুদ্ধবিমান অংশ নিচ্ছে

‘আপনার মেয়েকে মেরে ফেলেছি, লাশ নিয়ে যান’: হত্যার পর শ্বশুরকে ফোন

আপডেট সময় ০১:২৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

 

গাজীপুরে মাস্তুরা আক্তার সুমা (২৮) নামে এক পোশাক কারখানার শ্রমিককে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তাঁর স্বামী। হত্যার পর সুমার স্বামী জালাল উদ্দিন দুলু তার শ্বশুরকেও ফোন করেন।

সুমার বাবা মিরাজুল ইসলামকে ফোন করে বলেন, ‘আপনার মেয়েকে মেরে ফেলেছি। ঘরে লাশ, এসে নিয়ে যান।’

পরে আত্মীয়স্বজন ও পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পর শুক্রবার সকালে তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর থেকে সুমার লাশ উদ্ধার করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গাজীপুর মহানগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দনা হাজি মার্কেট ঈমান আলী মোড় এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজন জানান, সুমার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার পূর্ব নড়াইল এলাকায়। জালাল উদ্দিন দুলুর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। সুমা এবং দুলু দুজনই চান্দনা এলাকার টেক্স ইউরো বিডি গার্মেন্টে চাকরি করতেন। একই এলাকার রমিজ আলীর মালিকানাধীন রমিজ ভিলার তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন এ দম্পতি।

প্রতিবেশীদের বরাতে মহানগরের বাসন থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, কারখানা ছুটির পর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরে রান্নাবান্না করেন সুমা। রাত ১২টার দিকে বাসায় ফেরেন দুলু। ধারণা করা হচ্ছে, দুজনের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের পর রাতেই দুলু শ্বাসরোধে সুমাকে হত্যা করে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুলু তার শ্বশুরকে ফোনে জানান, তাঁর মেয়ে সুমাকে মেরে ফেলেছে। এ কথা শোনার পর সুমার বাবা মিরাজুল আত্মীয়স্বজনকে জানান। তাঁর এক আত্মীয় ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। দরজার তালা ভেঙে পুলিশ ঘরের ভেতর গিয়ে কম্বল দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সুমার মরদেহ দেখতে পায়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি হারুন অর রশিদ বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই নানা বিষয়ে ঝগড়া হতো। তবে তদন্তে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। দুলু পলাতক আছে। এ ঘটনায় সুমার বাবা মিরাজুল ইসলাম শুক্রবার মামলা করেছেন।