ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ হচ্ছে তালিকা, এবার এনসিপি ছাড়লেন আরও এক নেতা

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৬২ বার পড়া হয়েছে

ফেনী-৩ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবুল কাশেম দলটির সব পদ ও প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। নীতিগত কারণে এনসিপি থেকে পদত্যাগ এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর ফেনীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে আবুল কাশেম বলেন, ‘নীতিগত কারণে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ ও নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রিয় ফেনী-৩ এর এলাকাবাসী, আমার সালাম গ্রহণ করবেন। আমি আজ আপনাদের জানাতে চাই, আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি না এবং একই সঙ্গে এই দল থেকে পদত্যাগ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি যে রাজনৈতিক সমঝোতা ও অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সে কারণেই পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

আবুল কাশেম বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয় এবং কোনো ধরনের দ্বন্দ্বের ফলও নয়। মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে আলাদা হওয়াকেই আমি সঠিক ও দায়িত্বশীল পথ বলে মনে করেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই। আমাদের কাছে তার লিখিত কোনো পদত্যাগপত্র এখন পর্যন্ত পৌঁছায়নি। জামায়াতের সঙ্গে যদি রাজনৈতিক জোট চূড়ান্ত হয়, তাহলে ফেনীর কোনো আসনে এনসিপির আলাদা প্রার্থিতা থাকার দাবি নেই। সে ক্ষেত্রে জোটের প্রার্থীই আমাদের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে।’

প্রসঙ্গত, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের আলোচনা সামনে আসার পর থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টির ভেতরে অসন্তোষ প্রকাশ্য রূপ নিতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ ডিসেম্বর এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির মনোনয়ন পেলেও নির্বাচন করবেন না বলে জানান।

এরপর ২৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পদে থাকা ডা. তাসনিম জারা। সর্বশেষ আজ পদত্যাগের ঘোষণা দেন তাসনুভা জাবীন। ধারাবাহিক এসব পদত্যাগে জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান, জোট রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রাডার ধ্বংস

দীর্ঘ হচ্ছে তালিকা, এবার এনসিপি ছাড়লেন আরও এক নেতা

আপডেট সময় ০৯:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ফেনী-৩ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবুল কাশেম দলটির সব পদ ও প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। নীতিগত কারণে এনসিপি থেকে পদত্যাগ এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর ফেনীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে আবুল কাশেম বলেন, ‘নীতিগত কারণে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ ও নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রিয় ফেনী-৩ এর এলাকাবাসী, আমার সালাম গ্রহণ করবেন। আমি আজ আপনাদের জানাতে চাই, আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি না এবং একই সঙ্গে এই দল থেকে পদত্যাগ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি যে রাজনৈতিক সমঝোতা ও অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সে কারণেই পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

আবুল কাশেম বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয় এবং কোনো ধরনের দ্বন্দ্বের ফলও নয়। মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে আলাদা হওয়াকেই আমি সঠিক ও দায়িত্বশীল পথ বলে মনে করেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই। আমাদের কাছে তার লিখিত কোনো পদত্যাগপত্র এখন পর্যন্ত পৌঁছায়নি। জামায়াতের সঙ্গে যদি রাজনৈতিক জোট চূড়ান্ত হয়, তাহলে ফেনীর কোনো আসনে এনসিপির আলাদা প্রার্থিতা থাকার দাবি নেই। সে ক্ষেত্রে জোটের প্রার্থীই আমাদের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে।’

প্রসঙ্গত, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের আলোচনা সামনে আসার পর থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টির ভেতরে অসন্তোষ প্রকাশ্য রূপ নিতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ ডিসেম্বর এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির মনোনয়ন পেলেও নির্বাচন করবেন না বলে জানান।

এরপর ২৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পদে থাকা ডা. তাসনিম জারা। সর্বশেষ আজ পদত্যাগের ঘোষণা দেন তাসনুভা জাবীন। ধারাবাহিক এসব পদত্যাগে জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান, জোট রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।