ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহের ১১ আসনের ৯ টিতেই বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী, জামায়াতের একটিতে

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১১:১২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৬৪ বার পড়া হয়েছে

 

ময়মনসিংহ জেলায় মোট ১১টি সংসদীয় আসন। একটি সিটি করপোরেশন, ১৩টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা, ১৪টি থানা, ১৪৫টি ইউনিয়ন ও একটি ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে গঠিত এই জেলা। এখানকার মোট ভোটার সংখ্যা ৪৭ লাখ ১৩ হাজার ৬২২ জন। অতীতে অধিকাংশ আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও এবার ভোটের মাঠে দলটি অনুপস্থিত। ফলে ধারণা করা হচ্ছিল বিএনপির জন্য পথ সহজ হবে। কিন্তু দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ভিড়ে সেই হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে। ১১টির মধ্যে অন্তত ৯টি আসনেই বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, যা দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট–ধোবাউড়া)

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তবে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর রুবেল এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মাহফুজুর রহমান মুক্তা।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর–তারাকান্দা)

বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহ শহীদ সারোয়ার।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর)

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসাইন। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা বদরুজ্জামান।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর–মহানগর)

জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত নয়। আবু ওয়াহাব আকন্দ, রোকনুজ্জামান সরকার ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সমর্থকেরা সক্রিয় রয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা)

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু। তার বিপরীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া)

বিএনপির প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক। বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক এমপির স্ত্রী আখতার সুলতানা ও ছেলে তানভীর আহম্মেদ রানা। জামায়াতের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন, পাশাপাশি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল)

বিএনপির প্রার্থী ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন। বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন সাবেক এমপির ছেলে মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত। জামায়াতের প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ)

বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবীর শাহীন দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মঞ্জুরুল হক হাসান।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল)

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী। বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক এমপির স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী ও মামুন বিন আব্দুল মান্নান।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)

বিএনপির প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। তার বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান ও আল-ফাতাহ মো. আব্দুল হান্নান খান।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু। বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে নেমেছেন মুহাম্মদ মুর্শেদ আলম।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপিতে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ

ময়মনসিংহের ১১ আসনের ৯ টিতেই বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী, জামায়াতের একটিতে

আপডেট সময় ১১:১২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ময়মনসিংহ জেলায় মোট ১১টি সংসদীয় আসন। একটি সিটি করপোরেশন, ১৩টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা, ১৪টি থানা, ১৪৫টি ইউনিয়ন ও একটি ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে গঠিত এই জেলা। এখানকার মোট ভোটার সংখ্যা ৪৭ লাখ ১৩ হাজার ৬২২ জন। অতীতে অধিকাংশ আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও এবার ভোটের মাঠে দলটি অনুপস্থিত। ফলে ধারণা করা হচ্ছিল বিএনপির জন্য পথ সহজ হবে। কিন্তু দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ভিড়ে সেই হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে। ১১টির মধ্যে অন্তত ৯টি আসনেই বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, যা দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট–ধোবাউড়া)

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তবে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর রুবেল এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মাহফুজুর রহমান মুক্তা।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর–তারাকান্দা)

বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহ শহীদ সারোয়ার।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর)

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসাইন। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা বদরুজ্জামান।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর–মহানগর)

জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত নয়। আবু ওয়াহাব আকন্দ, রোকনুজ্জামান সরকার ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সমর্থকেরা সক্রিয় রয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা)

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু। তার বিপরীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া)

বিএনপির প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক। বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক এমপির স্ত্রী আখতার সুলতানা ও ছেলে তানভীর আহম্মেদ রানা। জামায়াতের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন, পাশাপাশি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল)

বিএনপির প্রার্থী ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন। বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন সাবেক এমপির ছেলে মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত। জামায়াতের প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ)

বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবীর শাহীন দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মঞ্জুরুল হক হাসান।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল)

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী। বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক এমপির স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী ও মামুন বিন আব্দুল মান্নান।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)

বিএনপির প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। তার বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান ও আল-ফাতাহ মো. আব্দুল হান্নান খান।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু। বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে নেমেছেন মুহাম্মদ মুর্শেদ আলম।