ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৭২ বছরের ইমামতি শেষে আবেগঘন বিদায়, আজীবন বসবেন ইতিকাফে

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:৩১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩১ বার পড়া হয়েছে

এক মসজিদ, প্রজন্মের পর প্রজন্মের মুসল্লি এবং টানা সাত দশকের বেশি সময় ধরে একই কণ্ঠের খুতবা— গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আজ শেষ হলো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। দীর্ঘ ৭২ বছর ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব। বিদায়ী খুতবার সময় আবেগ সামলাতে না পেরে কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে তার।

 

, ১৯৫৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাত্র ১৩ বছর বয়সে গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাওলানা আবদুল হক। সে সময় তিনি সোনাকান্দা দারুল হুদা মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। সেই ছোট্ট বয়স থেকেই শুরু হয় নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও আস্থার এক দীর্ঘ পথচলা— যা পূর্ণতা পায় টানা ৭২ বছর ১ দিনের সেবায়।

বর্তমানে তার বয়স ৮৭ বছর ২ মাস। বয়সজনিত কারণে খতিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও মসজিদের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। মসজিদ সূত্র জানিয়েছে, তিনি নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নেবেন এবং জীবদ্দশায় রমজান মাসে এখানেই ইতেকাফ পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

 

মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তারই ছেলে আব্দুল কাদির। তিনি বলেন, “বাবার জীবনের বড় একটি অংশ এই মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। এমন বিদায় সহজ ছিল না।”

মসজিদ কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, “১৩ বছর বয়সে যিনি ইমামতি শুরু করেছেন, এমন নজির এখন কল্পনাও করা কঠিন। এই মসজিদে ইমামতি ছিল পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ— তার দাদা, বাবা, চাচা এবং সবশেষে তিনি নিজে। টানা ৭২ বছর মুসল্লিরা তার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন। এটা ইতিহাস।”

তিনি আরও বলেন, “হুজুরের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিত্ব অনন্য। তার অভাব আমরা গভীরভাবে অনুভব করব। বয়সের কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের সবাইকে আবেগাক্রান্ত করেছে।”

গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুসল্লিদের ভাষ্য, আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব শুধু একজন ইমাম নন— তিনি স্মৃতি, বিশ্বাস আর ভালোবাসার এক জীবন্ত অধ্যায়। তার নাম চিরকাল রয়ে যাবে মুসল্লিদের দোয়া ও হৃদয়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী আচরণ করা হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: মোবারক

৭২ বছরের ইমামতি শেষে আবেগঘন বিদায়, আজীবন বসবেন ইতিকাফে

আপডেট সময় ০৯:৩১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

এক মসজিদ, প্রজন্মের পর প্রজন্মের মুসল্লি এবং টানা সাত দশকের বেশি সময় ধরে একই কণ্ঠের খুতবা— গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আজ শেষ হলো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। দীর্ঘ ৭২ বছর ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব। বিদায়ী খুতবার সময় আবেগ সামলাতে না পেরে কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে তার।

 

, ১৯৫৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাত্র ১৩ বছর বয়সে গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাওলানা আবদুল হক। সে সময় তিনি সোনাকান্দা দারুল হুদা মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। সেই ছোট্ট বয়স থেকেই শুরু হয় নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও আস্থার এক দীর্ঘ পথচলা— যা পূর্ণতা পায় টানা ৭২ বছর ১ দিনের সেবায়।

বর্তমানে তার বয়স ৮৭ বছর ২ মাস। বয়সজনিত কারণে খতিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও মসজিদের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। মসজিদ সূত্র জানিয়েছে, তিনি নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নেবেন এবং জীবদ্দশায় রমজান মাসে এখানেই ইতেকাফ পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

 

মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তারই ছেলে আব্দুল কাদির। তিনি বলেন, “বাবার জীবনের বড় একটি অংশ এই মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। এমন বিদায় সহজ ছিল না।”

মসজিদ কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, “১৩ বছর বয়সে যিনি ইমামতি শুরু করেছেন, এমন নজির এখন কল্পনাও করা কঠিন। এই মসজিদে ইমামতি ছিল পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ— তার দাদা, বাবা, চাচা এবং সবশেষে তিনি নিজে। টানা ৭২ বছর মুসল্লিরা তার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন। এটা ইতিহাস।”

তিনি আরও বলেন, “হুজুরের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিত্ব অনন্য। তার অভাব আমরা গভীরভাবে অনুভব করব। বয়সের কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের সবাইকে আবেগাক্রান্ত করেছে।”

গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুসল্লিদের ভাষ্য, আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব শুধু একজন ইমাম নন— তিনি স্মৃতি, বিশ্বাস আর ভালোবাসার এক জীবন্ত অধ্যায়। তার নাম চিরকাল রয়ে যাবে মুসল্লিদের দোয়া ও হৃদয়ে।