২০১৮ সালের ওই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. ফয়জুল করিম ৩০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কর্নেল অব জাহিদ ফারুক ২ লাখ ১৫ হাজার ৮০ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি।
২০২৩ সালের ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৩৫ হাজার ভোট পান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। ২০২৪ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রর্থী কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম ৯৭ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্ববাচিত হন। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ নির্বাচনে ইসরামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কোন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ জহির উদ্দীন বাবর বলেন, স্থানীয়ভাবে আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছুই থাকেনা। কেন্দ্র আমাদের কাজ করতে বলেছে, সে মোতাবেক আমরা কাজ করছি। কেন্দ্রীয় কমিটি যা বলবে আমরা তা পালন করবো।
তিনি বলেন, বরিশাল সদর আসনে আমাদের হাজার হাজার কর্মী ও সমর্থক রয়েছে। আমরা দু’বার এ আসন থেকে নির্বাচন করেছি। এবারও আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এবিষয় নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল বরিশাল মহানগরের সহ-সেক্রেটারী মো. নাছির উদ্দীন নাইস আমার সংবাদকে বলেন, বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ৯০ টি ওয়ার্ডে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কমিটি আছে। এছাড়া এ আসনে পীর সাহেব চরমোইর জন্ম। তাই এ আসন কেই দাবী করলে তা হবে অযৌক্তিক।
এদিকে বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বরিশাল সদর আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়ম মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, বরিশাল সদর আসনটি তাদেরই প্রাপ্য। এ আসনটি দলের আমীরের আসন, আমীর নিজের আসন না পেলে কিসের জোট।
তিনি আরো বলেন, যে আসনে যোর অবস্থান ভালো সে আসনে তারাই নির্ববাচন করবে। দক্ষিনাঞ্চলের দু’ একটি ছাড়া প্রায় প্রতিটি আসনেই আমাদের অবস্থান ভালো।
বরিশাল সদর আসনের জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, এ আসনটি জামায়াতে ইসলামের অন্যতম ঘাঁটি। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের সক্রিয় কমিটি ও হাজার হাজার নেতা কর্মী ও সমর্থক রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭০ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থিরা নির্বাচন করেছে। ১৯৯১ ও ৯৬ সালে এখানে আমরা নির্বাচন করেছি। পরবর্তিতে চারদলীয় জোটের সরিক থেকেও আমরা নির্বাচন করেছি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও জামায়াতে ইসলাম নির্বাচনের প্রস্তিুতি নিচ্ছে।
মুয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, ৮ দলের ভিতরে এখনও কোন আসন বন্টনের সমঝোতার খবর আসেনি। আসন বন্টনের আগে এ নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী সাংবাদিকদের যা বলেছেন এটা তার নিজের বক্তব্য, জোটের বক্তব্য নয়। বরিশাল সদর আসনে তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শীর্ষ নেতাদের সমঝোতার ভিত্তিতে এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নির্বাচন করবে বলে আমরা আশাবাদী। তবে সমঝোতা হয়ে গেলে জোটভিত্তিক নির্বাচনে যাব। আমি মনে করি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় যাওয়া সম্ভব।’




















