চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির সংগঠক তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বয়স নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জন্মসনদ অনুযায়ী তার বয়স এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। তিনি ১৭ বছরের কিশোরী। অথচ মামলার এজাহার ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে তার বয়স ২০ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। বয়স সংক্রান্ত এই বিভ্রান্তির জেরে শিশু আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গাজীপুরের জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক অমিত সাহা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদ খান।
তাহরিমা জান্নাত সুরভী গাজীপুরের টঙ্গী থানাধীন পূর্ব গোপালপুর এলাকার মো. সেলিম মিয়ার মেয়ে। তিনি বর্তমানে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জন্মসনদ অনুযায়ী সুরভীর জন্ম ২০০৮ সালে। অর্থাৎ আইনগতভাবে তিনি এখনো শিশু। তবে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলার এজাহারে বাদী সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় সুরভীর বয়স উল্লেখ করেন ২১ বছর। পরে ২৫ ডিসেম্বর টঙ্গীর নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার বয়স ২০ বছর দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা যায় না। এমনকি শিশুদের সাধারণ কারাগারে রাখারও বিধান নেই। অথচ সোমবার দুপুরে গাজীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করা হলে শুনানি শেষে রিমান্ড বাতিল হয় এবং সন্ধ্যায় জামিন মঞ্জুর করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ অনেকেই দাবি করেন, জন্মসনদ অনুযায়ী সুরভীর বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করেছে, যা শিশু আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
এনসিপির কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক দেওয়ান মাহবুব আলম পনির বলেন, আমি এক বছর ধরে সুরভীকে চিনি। তার কথাবার্তা ও আচরণে কখনোই তাকে প্রাপ্তবয়স্ক মনে হয়নি। বয়স ১৭ হলেও শারীরিক গঠনে তাকে ম্যাচিউরড মনে হতে পারে।
সুরভীর সহপাঠী সজিব হোসেন বলেন, তার বয়স ১৭ বছর— এটা প্রমাণিত। জন্মসনদ আমরা সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় দিয়েছি।
সুরভীর বাবা মো. সেলিম মিয়া বলেন, আমার মেয়ের জন্ম ২০০৮ সালে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে ২০১৮ সালে জন্মসনদ তোলা হয়েছে। সে এখনো শিক্ষার্থী।
কালিয়াকৈর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন বলেন, পরিবার আগে জন্মসনদ দিলে হয়তো এই জটিলতা তৈরি হতো না। যেহেতু সে মাইনর, আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। জন্মসনদ অনুযায়ী বয়স ১৭- এই তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে আমরা উল্লেখ করব।
তিনি বলেন, তার বয়স ১৭ হলে তাকে রিমান্ড ও কারাগারে নেওয়ার বিধান নেই। আমি মনে করি তার পরিবারের লোকজন যদি এই বয়সের বিষয় আগেই জানাতেন তাহলে এতোটা হয়রানির শিকার তিনি হতেন না।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর টঙ্গীর নিজ বাসা থেকে তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর কয়েকটি গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ চক্রের নেতৃত্ব কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।



















