ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রধানের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ স্তরের প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।
আইআরজিসির প্রধান কমান্ডারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোর্তজা ঘোরবানি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি কোনো ধরনের হঠকারিতা করে, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সম্ভাব্য একটি আক্রমণ মোকাবিলায় ইরানের সক্ষমতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ঘোরবানি বলেন, আইআরজিসি এবং সেনাবাহিনীর মোট ৪০০টি ইউনিট বর্তমানে সম্পূর্ণ সতর্কাবস্থায় (ফুল অ্যালার্ট) রয়েছে।
ঘোরবানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যদি কোনো আগ্রাসন ঘটে, তবে তারা ইসরায়েলকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, সেনাবাহিনী, আইআরজিসি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে “ট্রিগারে হাত রাখা” অবস্থায় এবং পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতিতে অবস্থান করছে।
গর্বের সাথে তিনি উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনী, আইআরজিসি এবং পুলিশ বাহিনীর এই যে শক্তি ও সক্ষমতা—তা শহীদ জেনারেল কাসেম সোলেইমানির উত্তরাধিকার এবং তাঁর দেখানো পথ থেকেই উৎসারিত।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ইরানের সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট-এর এক বিবৃতিতে সতর্ক করা হয় যে, দেশটির বিরুদ্ধে বৈরি আচরণ অব্যাহত থাকলে তার কঠোর ও যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হুমকিমূলক ভাষা এবং হস্তক্ষেপমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এতে জোর দিয়ে বলা হয় যে, ইরানের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা একটি “অলঙ্ঘনীয় রেড লাইন”। যেকোনো আগ্রাসন বা বৈরি আচরণের পাল্টা জবাব হবে অত্যন্ত দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক।
সেক্রেটারিয়েট আরও উল্লেখ করেছে, বৈধ আত্মরক্ষার কাঠামোর অধীনে ইরান কেবল হামলার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবে না। বরং হুমকির স্পষ্ট এবং দৃশ্যমান লক্ষণগুলোকেও ইরান তাদের নিরাপত্তার সমীকরণে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা মূলত আক্রমণ প্রতিহত করার আগাম প্রস্তুতিরই অংশ।




















