ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপদেষ্টারা ‘সেফ এক্সিট’ নিতে দরবারে দরবারে সেজদা দিচ্ছেন: রিফাত রশীদ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২৬ বার পড়া হয়েছে

সরকারের একাধিক উপদেষ্টা এখন নিজেদের ‘সেফ এক্সিট’ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মহলে দরবারে দরবারে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের উপদেষ্টারা আর চেনে না। গুলশান, মগবাজার, বাংলামোটর এই এলাকাগুলোই তাদের পরিচিত জগৎ। অথচ যারা সামনে থেকে লড়েছে, গুলি খেয়েছে, আহত হয়ে কাতরাচ্ছে তাদের খোঁজ কেউ রাখছে না।

 

রিফাত রশীদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন, সেই শহিদ হওয়ার ধারাবাহিকতা এখনও থামেনি।কিছুদিন আগেও আমাদের ভাইয়েরা শহিদ হয়েছেন। লড়াই এখনও চলছে। কিন্তু উপদেষ্টারা নিজেদের নিরাপদ প্রস্থান নিয়েই ব্যস্ত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে রূপ নিচ্ছে। এখানে রাজনীতিবিদ ও সরকারের চেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাই বড় হয়ে উঠছে। রাষ্ট্র পরিচালনা করবে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও নির্বাচিত সরকার পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থা নয়। বিভিন্ন ‘ডিপ স্টেট’ ও বিদেশি এজেন্সিকে সার্বভৌম করার প্রবণতারও তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

 

জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে গণমাধ্যমে ‘নেগেটিভ ন্যারেটিভ’ তৈরির অভিযোগ তুলে রিফাত রশীদ বলেন, সম্প্রতি ট্রেনে টিটিইর সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর ঘটনার সংবাদ যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। লোকাল ট্রেনে এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত ঘটে। কিন্তু একটি ঘটনাকে জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি, এতে জুলাই যোদ্ধাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

 

তিনি বলেন, মূলধারার কিছু গণমাধ্যমে এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসররা সক্রিয় রয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা জুলাইয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরেছেন, তাদের উচিত নিজেদের মিডিয়া হাউস থেকে এই এনাবেলারদের বের করে দিতে চাপ তৈরি করা।

 

রিফাত রশীদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে দুটি পক্ষ ছিল- একটি গণহত্যাকারীদের, অন্যটি আজাদির পক্ষ। আজাদির পক্ষই বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু ছাত্ররা রাষ্ট্রক্ষমতা নেয়নি; তারা ক্ষমতা তুলে দিয়েছে এক্সপার্টদের হাতে। আজ সেই উপদেষ্টারাই জুলাই যোদ্ধাদের অস্বীকার করছেন।

উপদেষ্টাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন সেফ এক্সিট নিতে পারবেন, তারা ভুল করছেন। হাসিনার এক্সিট হয়নি- ওটা ছিল পলায়ন। আপনাদের কপালেও পালানো জুটবে না।

 

শহিদ ওসমান বিন হাদিস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে রিফাত রশীদ অভিযোগ করেন, ওই হত্যার পেছনে সরকারভিত্তিক ও বাইরের নানা মহল জড়িত থাকতে পারে। এখনও চার্জশিট, আসামি গ্রেপ্তারে গড়িমসি চলছে। এতে সন্দেহ আরও বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশপ্রেমিক হওয়ার কারণে কি আমার স্বামীকে হত্যা করা হলো?: র‌্যাব কর্মকর্তা মোতালেবের স্ত্রীর প্রশ্ন

উপদেষ্টারা ‘সেফ এক্সিট’ নিতে দরবারে দরবারে সেজদা দিচ্ছেন: রিফাত রশীদ

আপডেট সময় ০৯:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারের একাধিক উপদেষ্টা এখন নিজেদের ‘সেফ এক্সিট’ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মহলে দরবারে দরবারে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের উপদেষ্টারা আর চেনে না। গুলশান, মগবাজার, বাংলামোটর এই এলাকাগুলোই তাদের পরিচিত জগৎ। অথচ যারা সামনে থেকে লড়েছে, গুলি খেয়েছে, আহত হয়ে কাতরাচ্ছে তাদের খোঁজ কেউ রাখছে না।

 

রিফাত রশীদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন, সেই শহিদ হওয়ার ধারাবাহিকতা এখনও থামেনি।কিছুদিন আগেও আমাদের ভাইয়েরা শহিদ হয়েছেন। লড়াই এখনও চলছে। কিন্তু উপদেষ্টারা নিজেদের নিরাপদ প্রস্থান নিয়েই ব্যস্ত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে রূপ নিচ্ছে। এখানে রাজনীতিবিদ ও সরকারের চেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাই বড় হয়ে উঠছে। রাষ্ট্র পরিচালনা করবে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও নির্বাচিত সরকার পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থা নয়। বিভিন্ন ‘ডিপ স্টেট’ ও বিদেশি এজেন্সিকে সার্বভৌম করার প্রবণতারও তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

 

জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে গণমাধ্যমে ‘নেগেটিভ ন্যারেটিভ’ তৈরির অভিযোগ তুলে রিফাত রশীদ বলেন, সম্প্রতি ট্রেনে টিটিইর সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর ঘটনার সংবাদ যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। লোকাল ট্রেনে এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত ঘটে। কিন্তু একটি ঘটনাকে জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি, এতে জুলাই যোদ্ধাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

 

তিনি বলেন, মূলধারার কিছু গণমাধ্যমে এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসররা সক্রিয় রয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা জুলাইয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরেছেন, তাদের উচিত নিজেদের মিডিয়া হাউস থেকে এই এনাবেলারদের বের করে দিতে চাপ তৈরি করা।

 

রিফাত রশীদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে দুটি পক্ষ ছিল- একটি গণহত্যাকারীদের, অন্যটি আজাদির পক্ষ। আজাদির পক্ষই বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু ছাত্ররা রাষ্ট্রক্ষমতা নেয়নি; তারা ক্ষমতা তুলে দিয়েছে এক্সপার্টদের হাতে। আজ সেই উপদেষ্টারাই জুলাই যোদ্ধাদের অস্বীকার করছেন।

উপদেষ্টাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন সেফ এক্সিট নিতে পারবেন, তারা ভুল করছেন। হাসিনার এক্সিট হয়নি- ওটা ছিল পলায়ন। আপনাদের কপালেও পালানো জুটবে না।

 

শহিদ ওসমান বিন হাদিস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে রিফাত রশীদ অভিযোগ করেন, ওই হত্যার পেছনে সরকারভিত্তিক ও বাইরের নানা মহল জড়িত থাকতে পারে। এখনও চার্জশিট, আসামি গ্রেপ্তারে গড়িমসি চলছে। এতে সন্দেহ আরও বাড়ছে।