ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২ কোটি ১৮ লাখ ইউরো বাংলাদেশকে অনুদান দেবে জার্মানি

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের উন্নয়নে পাঁচ প্রকল্পের জন্য ২১ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন (২ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার) ইউরো অনুদান দেবে জার্মান সরকার। এ লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ সরকার ও জার্মান সরকারের মধ্যে এ-সংক্রান্ত অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দেবে জার্মান সহযোগী সংস্থা জিআইজেড।

 

বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জার্মান সরকারের পক্ষে জিআইজেড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাইনরিশ-ইয়ুর্গেন শিলিং।

 

প্রকল্পগুলো হলো—জ্বালানি দক্ষতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে নীতিগত পরামর্শ (পিএপি)–২, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নগর একীভূতকরণ সক্ষমতা জোরদার এবং স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা (ইন্টিগ্রেট), শিল্প ও পরিবেশগত নিরাপত্তায় পেশাগত শিক্ষা (প্রিসাইস), পরিবেশবান্ধব রুম এয়ার কন্ডিশনিং (গ্রেস) এবং এশিয়ায় সাফল্যের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা (ডিএসটুএস)।

 

পাঁচ প্রকল্পের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ বাস্তবায়নাধীন পিএপি II প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯০ লাখ ইউরো। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৯ সালের জুলাই পর্যন্ত মেয়াদে চলবে এই প্রকল্প, যার লক্ষ্য সামাজিকভাবে ন্যায্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের সক্ষমতা বাড়ানো।

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর ইন্টিগ্রেট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদের এই প্রকল্পে ৪৮ লাখ ইউরো অনুদান দেওয়া হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নই এর মূল লক্ষ্য।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে প্রিসাইস প্রকল্পে ৭০ লাখ ইউরো অনুদান দিচ্ছে জার্মান সরকার। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চলবে এই প্রকল্প, যার মাধ্যমে দেশের টিভেট (টিভিইটি) খাতের সক্ষমতা জোরদার করা হবে।

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে গ্রেস প্রকল্প। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের জুলাই পর্যন্ত মেয়াদে চলা এই গ্লোবাল প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৮ লাখ ইউরো। জলবায়ুবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী রুম এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

এ ছাড়া আঞ্চলিক প্রকল্প ডিএসটুএসের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং এতে অতিরিক্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো অনুদান দেওয়া হবে। মূল প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান রয়েছে, যার লক্ষ্য এশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান ও চাকরির সুযোগ বাড়ানো।

 

ইআরডি জানায়, স্বাধীনতার পর থেকেই জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জার্মান সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪০০ কোটি ইউরো। বর্তমানে জিআইজেড বাংলাদেশের ১৮টি প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ইউরো অনুদান দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুম-খুনের সংস্কৃতি নিয়ে ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধানের বিস্ফোরক জবানবন্দি

২ কোটি ১৮ লাখ ইউরো বাংলাদেশকে অনুদান দেবে জার্মানি

আপডেট সময় ০৯:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের উন্নয়নে পাঁচ প্রকল্পের জন্য ২১ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন (২ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার) ইউরো অনুদান দেবে জার্মান সরকার। এ লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ সরকার ও জার্মান সরকারের মধ্যে এ-সংক্রান্ত অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দেবে জার্মান সহযোগী সংস্থা জিআইজেড।

 

বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জার্মান সরকারের পক্ষে জিআইজেড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাইনরিশ-ইয়ুর্গেন শিলিং।

 

প্রকল্পগুলো হলো—জ্বালানি দক্ষতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে নীতিগত পরামর্শ (পিএপি)–২, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নগর একীভূতকরণ সক্ষমতা জোরদার এবং স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা (ইন্টিগ্রেট), শিল্প ও পরিবেশগত নিরাপত্তায় পেশাগত শিক্ষা (প্রিসাইস), পরিবেশবান্ধব রুম এয়ার কন্ডিশনিং (গ্রেস) এবং এশিয়ায় সাফল্যের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা (ডিএসটুএস)।

 

পাঁচ প্রকল্পের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ বাস্তবায়নাধীন পিএপি II প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯০ লাখ ইউরো। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৯ সালের জুলাই পর্যন্ত মেয়াদে চলবে এই প্রকল্প, যার লক্ষ্য সামাজিকভাবে ন্যায্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের সক্ষমতা বাড়ানো।

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর ইন্টিগ্রেট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদের এই প্রকল্পে ৪৮ লাখ ইউরো অনুদান দেওয়া হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নই এর মূল লক্ষ্য।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে প্রিসাইস প্রকল্পে ৭০ লাখ ইউরো অনুদান দিচ্ছে জার্মান সরকার। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চলবে এই প্রকল্প, যার মাধ্যমে দেশের টিভেট (টিভিইটি) খাতের সক্ষমতা জোরদার করা হবে।

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে গ্রেস প্রকল্প। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের জুলাই পর্যন্ত মেয়াদে চলা এই গ্লোবাল প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৮ লাখ ইউরো। জলবায়ুবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী রুম এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

এ ছাড়া আঞ্চলিক প্রকল্প ডিএসটুএসের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং এতে অতিরিক্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো অনুদান দেওয়া হবে। মূল প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান রয়েছে, যার লক্ষ্য এশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান ও চাকরির সুযোগ বাড়ানো।

 

ইআরডি জানায়, স্বাধীনতার পর থেকেই জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জার্মান সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪০০ কোটি ইউরো। বর্তমানে জিআইজেড বাংলাদেশের ১৮টি প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ইউরো অনুদান দিচ্ছে।