ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদেশি নাগরিকত্ব ও সম্পদ গোপন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ৬ প্রার্থী

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১১:০০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩৩ বার পড়া হয়েছে

বিদেশি নাগরিকত্ব এবং বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন অন্তত ছয়জন প্রার্থী। দুইজন প্রার্থী যুক্তরাজ্যের নাগরিক হয়েও নির্বাচন অংশ নিচ্ছেন। বাকি চারজন বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করে প্রার্থী হয়েছেন আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে।

 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নিজস্ব অনুসন্ধানে এই তথ্য জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি এই ছয়জনের নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি।

 

‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটির এ তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির পরিচালক কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজজামান।

 

হলফনামায় দেওয়া প্রার্থীদের তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অন্তত চারজন প্রার্থী বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। কিন্তু তাদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একজন প্রার্থী বিদেশে তিনটি ফ্ল্যাটের মালিকানা থাকার ঘোষণা দিলেও, সংখ্যাটি কমপক্ষে তিনগুণ। ওই প্রার্থীর বিদেশে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।

টিআইবি নাম না জানালেও, হলফনামায় আরব আমিরাতে তিনটি ফ্ল্যাট থাকার কথা জানিয়েছেন সম্প্রতি বিএনপিতে ফেরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র এস কে এ একরামুজ্জামান। তিনি ডামি ভোট খ্যাত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে। নির্বাচন করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। সম্প্রতি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

 

টিঁআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আরেকজন প্রার্থীও বিদেশে নিজস্ব মালিকানায় থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করেছেন। অনুসন্ধান অনুযায়ী, ওই প্রার্থীর ১১টি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৮টিই বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ জন প্রার্থী বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন হলফনামায়। কিন্তু কমপক্ষে দুইজন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা স্বত্বেও তা হলফনামায় দেননি। টিআইবির পাওয়া তথ্যানুযায়ী, তারা যুক্তরাজ্যে নাগরিক ছিলেন।

 

একজন প্রার্থী নির্ভরশীলের নামে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে কেনা ১৪ লাখ পাউন্ড বা ২১০ কোটি টাকায় বাড়ি কেনার তথ্য থাকলেও, তা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি বলে টিআইবি জানিয়েছেন প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী বাড়ি কিনতে শেল কোম্পানির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। মূল মালিকানায় কোম্পানির নিবন্ধন দেখানো হয়েছে আরব আমিরাতের দুবাইয়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন প্রার্থী বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য না দিলেও, তার স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে ফ্ল্যাট রয়েছে।

 

টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত একটি দেশে কোম্পানির নিবন্ধন রয়েছে একজন প্রার্থীর। পুরোনো তথ্য অনেকটাই প্রকাশিত থাকলেও, তা হলফনামায় দেননি প্রার্থী।

 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে টিআইবি জানিয়েছিল, শেখ হাসিনার একজন মন্ত্রীর যুক্তরাজ্য ও আরব আমিরাতে বহুসংখ্যক বাড়ি রয়েছে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই মন্ত্রীর নাম সাইফুজ্জামন চৌধুরী জাবেদ। তিনি যুক্তরাজ্যে ২১১টি সম্পদের মালিক। জুলাই অভ্যুত্থানের পর জানা যায় সাবেক এই মন্ত্রীর নামে বিভিন্ন দেশে সাত শতাধিক বাড়ি-সম্পদ রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি নাগরিকত্ব ও সম্পদ গোপন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ৬ প্রার্থী

বিদেশি নাগরিকত্ব ও সম্পদ গোপন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ৬ প্রার্থী

আপডেট সময় ১১:০০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশি নাগরিকত্ব এবং বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন অন্তত ছয়জন প্রার্থী। দুইজন প্রার্থী যুক্তরাজ্যের নাগরিক হয়েও নির্বাচন অংশ নিচ্ছেন। বাকি চারজন বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করে প্রার্থী হয়েছেন আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে।

 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নিজস্ব অনুসন্ধানে এই তথ্য জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি এই ছয়জনের নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি।

 

‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটির এ তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির পরিচালক কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজজামান।

 

হলফনামায় দেওয়া প্রার্থীদের তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অন্তত চারজন প্রার্থী বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। কিন্তু তাদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একজন প্রার্থী বিদেশে তিনটি ফ্ল্যাটের মালিকানা থাকার ঘোষণা দিলেও, সংখ্যাটি কমপক্ষে তিনগুণ। ওই প্রার্থীর বিদেশে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।

টিআইবি নাম না জানালেও, হলফনামায় আরব আমিরাতে তিনটি ফ্ল্যাট থাকার কথা জানিয়েছেন সম্প্রতি বিএনপিতে ফেরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র এস কে এ একরামুজ্জামান। তিনি ডামি ভোট খ্যাত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে। নির্বাচন করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। সম্প্রতি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

 

টিঁআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আরেকজন প্রার্থীও বিদেশে নিজস্ব মালিকানায় থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করেছেন। অনুসন্ধান অনুযায়ী, ওই প্রার্থীর ১১টি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৮টিই বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ জন প্রার্থী বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন হলফনামায়। কিন্তু কমপক্ষে দুইজন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা স্বত্বেও তা হলফনামায় দেননি। টিআইবির পাওয়া তথ্যানুযায়ী, তারা যুক্তরাজ্যে নাগরিক ছিলেন।

 

একজন প্রার্থী নির্ভরশীলের নামে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে কেনা ১৪ লাখ পাউন্ড বা ২১০ কোটি টাকায় বাড়ি কেনার তথ্য থাকলেও, তা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি বলে টিআইবি জানিয়েছেন প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী বাড়ি কিনতে শেল কোম্পানির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। মূল মালিকানায় কোম্পানির নিবন্ধন দেখানো হয়েছে আরব আমিরাতের দুবাইয়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন প্রার্থী বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য না দিলেও, তার স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে ফ্ল্যাট রয়েছে।

 

টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত একটি দেশে কোম্পানির নিবন্ধন রয়েছে একজন প্রার্থীর। পুরোনো তথ্য অনেকটাই প্রকাশিত থাকলেও, তা হলফনামায় দেননি প্রার্থী।

 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে টিআইবি জানিয়েছিল, শেখ হাসিনার একজন মন্ত্রীর যুক্তরাজ্য ও আরব আমিরাতে বহুসংখ্যক বাড়ি রয়েছে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই মন্ত্রীর নাম সাইফুজ্জামন চৌধুরী জাবেদ। তিনি যুক্তরাজ্যে ২১১টি সম্পদের মালিক। জুলাই অভ্যুত্থানের পর জানা যায় সাবেক এই মন্ত্রীর নামে বিভিন্ন দেশে সাত শতাধিক বাড়ি-সম্পদ রয়েছে।