এবার নোয়াখালীর হাতিয়ায় শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে মুখ খুলেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালীর সন্তান নাছির উদ্দীন নাছির। জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আব্দুল হান্নান মাসউদের ভূমিকা নিয়ে জবাবদিহিতার দাবি তুলেছেন ছাত্রদল সম্পাদক।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, হাতিয়ার ঘটনায় আমাদের স্পষ্ট অবস্থান। তিনি দাবি করেন, প্রাপ্ত তথ্য–প্রমাণ, ভিডিও বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং স্থানীয় পর্যায়ের যাচাই–বাছাই পর্যালোচনায় ঘটনাটি অনেকের কাছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত বয়ান বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, চূড়ান্ত তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে দায়িত্বশীল মহল থেকে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান এবং বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক। নাছির আরও বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে, তবে দায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না। মব কালচার, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা ব্যক্তিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এমন অপকৌশল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ—শিবির, রাজাকার চক্র, জামায়াতপন্থি গোষ্ঠী ও এনসিপিকে জাতির সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি ও বিএনপির সম্মানহানির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বিশেষ করে এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে উল্লেখ করে নাছির বলেন, তাকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, রাজনীতি হোক আদর্শ, নীতি ও জনকল্যাণের প্রতিযোগিতা। মিথ্যা নাটক, মব উসকানি ও চরিত্রহননের মাধ্যমে নয়। সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই—এটাই আমাদের অটল বিশ্বাস। স্টাটাসের সত্যতা নিশ্চিত করে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, আমি যে বক্তব্যটি আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দিয়েছি, সেটিই আমাদের স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক অবস্থান। আমরা চাই বিষয়টির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হোক। কেউ যদি রাজনৈতিক উদ্দেশে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে—এটাই আমাদের দাবি।





















