ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বামীর মারধর বৈধ, হাড় না ভাঙলে শাস্তি নেই—তালেবানের নতুন দণ্ডবিধি

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৪:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩৯ বার পড়া হয়েছে

নারীদের বিরুদ্ধে ফের নতুন কড়া আইন জারি করেছে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। ব্রিটিশ অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আইনের মাধ্যমে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা কার্যত পারিবারিক সহিংসতাকে ‘বৈধতা’ দিচ্ছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, স্বামীর মারধরের ফলে যদি স্ত্রীর হাড় ভেঙে যায় বা গুরুতর জখম হয়, সেক্ষেত্রে স্বামীর সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তা কার্যকর হবে কেবল তখনই, যখন নির্যাতিত নারী আদালতে তার ওপর হওয়া নির্যাতন প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ৯০ পৃষ্ঠার নতুন এই দণ্ডবিধিতে স্বাক্ষর করেছেন। পশতু ভাষায় প্রণীত এই আইনের নাম ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’, যা ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের আদালতগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে। এই দণ্ডবিধির একটি কপি ইন্ডিপেন্ডেন্ট দেখেছে বলে জানিয়েছে।

নতুন আইনে অপরাধ ও শাস্তি নির্ধারণে সামাজিক শ্রেণিভিত্তিক বিভাজনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অপরাধী ‘মুক্ত’ না ‘দাস’—তার ওপর ভিত্তি করে শাস্তির মাত্রা ভিন্ন হবে। এমনকি একই অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান শাস্তি নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, নির্যাতনের শিকার নারী পুরোপুরি হিজাব পরিহিত অবস্থায় বিচারককে তার জখম দেখাতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে তার স্বামী অথবা পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্যকে তার সঙ্গে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে।

এছাড়া বিবাহিত কোনো নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে তার সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন দণ্ডবিধির মাধ্যমে আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—ধর্মীয় বিদ্বান (উলামা), অভিজাত (আশরাফ), মধ্যবিত্ত ও নিম্ন শ্রেণি। এই শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নতুন এই আইন আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে আরও সংকুচিত করবে এবং সামাজিক বৈষম্যকে আইনি রূপ দেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইফতারের আগে যেভাবে চাইলে রোজাদারের দোয়া কবুল হয়

স্বামীর মারধর বৈধ, হাড় না ভাঙলে শাস্তি নেই—তালেবানের নতুন দণ্ডবিধি

আপডেট সময় ০৪:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারীদের বিরুদ্ধে ফের নতুন কড়া আইন জারি করেছে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। ব্রিটিশ অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আইনের মাধ্যমে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা কার্যত পারিবারিক সহিংসতাকে ‘বৈধতা’ দিচ্ছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, স্বামীর মারধরের ফলে যদি স্ত্রীর হাড় ভেঙে যায় বা গুরুতর জখম হয়, সেক্ষেত্রে স্বামীর সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তা কার্যকর হবে কেবল তখনই, যখন নির্যাতিত নারী আদালতে তার ওপর হওয়া নির্যাতন প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ৯০ পৃষ্ঠার নতুন এই দণ্ডবিধিতে স্বাক্ষর করেছেন। পশতু ভাষায় প্রণীত এই আইনের নাম ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’, যা ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের আদালতগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে। এই দণ্ডবিধির একটি কপি ইন্ডিপেন্ডেন্ট দেখেছে বলে জানিয়েছে।

নতুন আইনে অপরাধ ও শাস্তি নির্ধারণে সামাজিক শ্রেণিভিত্তিক বিভাজনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অপরাধী ‘মুক্ত’ না ‘দাস’—তার ওপর ভিত্তি করে শাস্তির মাত্রা ভিন্ন হবে। এমনকি একই অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান শাস্তি নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, নির্যাতনের শিকার নারী পুরোপুরি হিজাব পরিহিত অবস্থায় বিচারককে তার জখম দেখাতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে তার স্বামী অথবা পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্যকে তার সঙ্গে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে।

এছাড়া বিবাহিত কোনো নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে তার সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন দণ্ডবিধির মাধ্যমে আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—ধর্মীয় বিদ্বান (উলামা), অভিজাত (আশরাফ), মধ্যবিত্ত ও নিম্ন শ্রেণি। এই শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নতুন এই আইন আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে আরও সংকুচিত করবে এবং সামাজিক বৈষম্যকে আইনি রূপ দেবে।