ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একের পর এক  ত্রুটি-বিধ্বস্ত: এবার বড় মহড়ায় তেজসকে রাখছে না ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০২:৩৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৪ বার পড়া হয়েছে

একের পর এক কারিগরি ত্রুটি এবং বিধ্বস্তের মতো ঘটনার কারণে ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) আয়োজিত বড় আকারের মহড়াবায়ু শক্তি’-তে অংশ না নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমানের। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজস্থানের জয়সালমেরের কাছে পোখরানে অনুষ্ঠিত মহড়ারফুল ড্রেস রিহার্সাল’-এ তেজস এমকে১ অংশ নেয়নি। একই সঙ্গে ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় মূল মহড়াতেও এই বিমানটি অংশ নাও নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মহড়ায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা প্রদর্শনের তালিকায় তেজস এমকে১ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এ বিষয়ে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রের দাবি, ৭ ফেব্রুয়ারির একটি কারিগরি ঘটনার পর পুরো তেজস বহরের ওপর নিরাপত্তা যাচাই (সেফটি চেক) চালাচ্ছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। সে কারণেই আপাতত মহড়া থেকে বিমানটি বাদ পড়তে পারে। দেশটির বিমান বাহিনী ২০১৬ সালের জুলাই মাসে প্রথম তেজস এমকে১ তাদের বহরে অন্তর্ভুক্ত করে এবং বর্তমানে দুটি স্কোয়াড্রন পরিচালনা করছে। সাধারণত একটি স্কোয়াড্রনে ১৬ থেকে ১৮টি যুদ্ধবিমান থাকে।

এর আগে আইএএফ জানিয়েছিল, এবারেরবায়ু শক্তিমহড়ায় মোট ৭৭টি যুদ্ধবিমান, ৪৩টি হেলিকপ্টার, আটটি পরিবহন বিমান, রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট (আরপিএ), কাউন্টার আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য গাইডেড অস্ত্র ব্যবহৃত হবে। ১১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, মহড়ায় তেজস ছাড়াও রাফায়েল, জাগুয়ার, মিরাজ২০০০, সুখোই৩০ এমকেআই, মিগ২৯, হক, সি১৩০জে, সি২৯৫, সি১৭, চেতক, এএলএইচ এমকে, মি১৭ আইভি, এলসিএইচ, অ্যাপাচি, চিনুকসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান ও সমরাস্ত্র অংশ নেবে এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাভিযান অনুশীলন পরিচালিত হবে।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল) সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, তেজস এমকে১ সম্প্রতি ভূমিতে অবস্থানকালে একটি সামান্য কারিগরি সমস্যার মুখে পড়েছিল এবং বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গণমাধ্যমে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার যে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তা নাকচ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘তেজস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি ছিল ভূমিতে ঘটে যাওয়া একটি ছোটখাটো কারিগরি সমস্যা।এর আগে গত বছরের নভেম্বরে দুবাই এয়ারশোতে একটি প্রদর্শনী উড্ডয়নের সময় তেজস এমকে১ বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় নিহত হন যুদ্ধবিমানটিতে থাকা ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলটও। সেটি ছিল দেশীয়ভাবে তৈরি এই এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে রাজস্থানের জয়সালমেরের কাছে একটি তেজস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই সময় এটি একটি ত্রিবাহিনী মহড়ায় অংশ নেয়ার কয়েক মিনিট পর দুর্ঘটনায় পড়ে। তবে সে ঘটনায় পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।

সবশেষ এই কারিগরি ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে এমন এক সময়, যখন ভারতীয় বিমান বাহিনী তেজসের আরও উন্নত সংস্করণ এলসিএ এমকে১এ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। দেশটির বিমান বাহিনী এখন পর্যন্ত মোট ১৮০টি এলসিএ এমকে১একে কেনার জন্য দুটি পৃথক চুক্তি করেছে, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি রুপি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৮৩টি বিমানের জন্য প্রথম চুক্তি এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৯৭টি বিমানের জন্য দ্বিতীয় চুক্তি সই হয়। তবে দুঃখের বিষয় হলো, পাঁচ বছর আগে অর্ডার দেয়া এই যুদ্ধবিমানগুলোর একটিও এখনো সরবরাহ করা হয়নি।

বাংলাদেশকে পাশের দেশের অঙ্গরাজ্য বানাতেই পিলখানা হত্যা: রফিকুল ইসলাম খান

একের পর এক  ত্রুটি-বিধ্বস্ত: এবার বড় মহড়ায় তেজসকে রাখছে না ভারত

আপডেট সময় ০২:৩৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একের পর এক কারিগরি ত্রুটি এবং বিধ্বস্তের মতো ঘটনার কারণে ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) আয়োজিত বড় আকারের মহড়াবায়ু শক্তি’-তে অংশ না নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমানের। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজস্থানের জয়সালমেরের কাছে পোখরানে অনুষ্ঠিত মহড়ারফুল ড্রেস রিহার্সাল’-এ তেজস এমকে১ অংশ নেয়নি। একই সঙ্গে ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় মূল মহড়াতেও এই বিমানটি অংশ নাও নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মহড়ায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা প্রদর্শনের তালিকায় তেজস এমকে১ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এ বিষয়ে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রের দাবি, ৭ ফেব্রুয়ারির একটি কারিগরি ঘটনার পর পুরো তেজস বহরের ওপর নিরাপত্তা যাচাই (সেফটি চেক) চালাচ্ছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। সে কারণেই আপাতত মহড়া থেকে বিমানটি বাদ পড়তে পারে। দেশটির বিমান বাহিনী ২০১৬ সালের জুলাই মাসে প্রথম তেজস এমকে১ তাদের বহরে অন্তর্ভুক্ত করে এবং বর্তমানে দুটি স্কোয়াড্রন পরিচালনা করছে। সাধারণত একটি স্কোয়াড্রনে ১৬ থেকে ১৮টি যুদ্ধবিমান থাকে।

এর আগে আইএএফ জানিয়েছিল, এবারেরবায়ু শক্তিমহড়ায় মোট ৭৭টি যুদ্ধবিমান, ৪৩টি হেলিকপ্টার, আটটি পরিবহন বিমান, রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট (আরপিএ), কাউন্টার আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য গাইডেড অস্ত্র ব্যবহৃত হবে। ১১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, মহড়ায় তেজস ছাড়াও রাফায়েল, জাগুয়ার, মিরাজ২০০০, সুখোই৩০ এমকেআই, মিগ২৯, হক, সি১৩০জে, সি২৯৫, সি১৭, চেতক, এএলএইচ এমকে, মি১৭ আইভি, এলসিএইচ, অ্যাপাচি, চিনুকসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান ও সমরাস্ত্র অংশ নেবে এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাভিযান অনুশীলন পরিচালিত হবে।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল) সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, তেজস এমকে১ সম্প্রতি ভূমিতে অবস্থানকালে একটি সামান্য কারিগরি সমস্যার মুখে পড়েছিল এবং বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গণমাধ্যমে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার যে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তা নাকচ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘তেজস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি ছিল ভূমিতে ঘটে যাওয়া একটি ছোটখাটো কারিগরি সমস্যা।এর আগে গত বছরের নভেম্বরে দুবাই এয়ারশোতে একটি প্রদর্শনী উড্ডয়নের সময় তেজস এমকে১ বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় নিহত হন যুদ্ধবিমানটিতে থাকা ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলটও। সেটি ছিল দেশীয়ভাবে তৈরি এই এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে রাজস্থানের জয়সালমেরের কাছে একটি তেজস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই সময় এটি একটি ত্রিবাহিনী মহড়ায় অংশ নেয়ার কয়েক মিনিট পর দুর্ঘটনায় পড়ে। তবে সে ঘটনায় পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।

সবশেষ এই কারিগরি ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে এমন এক সময়, যখন ভারতীয় বিমান বাহিনী তেজসের আরও উন্নত সংস্করণ এলসিএ এমকে১এ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। দেশটির বিমান বাহিনী এখন পর্যন্ত মোট ১৮০টি এলসিএ এমকে১একে কেনার জন্য দুটি পৃথক চুক্তি করেছে, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি রুপি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৮৩টি বিমানের জন্য প্রথম চুক্তি এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৯৭টি বিমানের জন্য দ্বিতীয় চুক্তি সই হয়। তবে দুঃখের বিষয় হলো, পাঁচ বছর আগে অর্ডার দেয়া এই যুদ্ধবিমানগুলোর একটিও এখনো সরবরাহ করা হয়নি।