ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের পাল্টা হামলায় চার দিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১২:১৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫০৩ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর মাত্র চার দিনেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান, নৌঘাঁটি থেকে শুরু করে কূটনৈতিক মিশনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর এতেই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর পর প্রথম চার দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে আনাদোলু এজেন্সির সংকলিত তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কাতারের আলউদেইদ বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের এএন/এফপিএস১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থা। এর মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন তথা ১১০ কোটি মার্কিন ডলার। গত শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানানো হয়েছে। কাতার কর্তৃপক্ষ রাডারটিতে আঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া গত রোববার কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারভুলবশত গুলিবর্ষণেতিনটি এফ১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এতে ছয়জন ক্রু সদস্য প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমানগুলো ধ্বংস হয়। এগুলো প্রতিস্থাপনে আনুমানিক ২৮২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

এর আগে শনিবার পাল্টা হামলার শুরুতেই ইরান বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ভয়াবহ হামলা চালায়। এতে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং কয়েকটি বড় ভবন ধ্বংস হয়। উন্মুক্ত উৎসের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্যাটকম টার্মিনালগুলো ছিল এএন/জিএসসি৫২বি মডেলের, যার প্রতিটির আনুমানিক মূল্য মোতায়েন ও স্থাপনা ব্যয়সহ প্রায় ২ কোটি ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলরুয়াইস শিল্পনগরে মোতায়েন থাকা থাড অ্যান্টিব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থার এএন/টিপিওয়াই২ রাডার উপাদান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে সেখানে হামলার প্রমাণ মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ধ্বংস হওয়া রাডার উপাদানের আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের প্রায় ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কুয়েতে ক্যাম্প আরিফজান, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুয়েরিং, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দর এবং কাতারের আলউদেইদ বিমানঘাঁটি। কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলার পর বিভিন্ন স্থানে ছাদ ধসে পড়ার ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ক্যাম্প আরিফজানেই ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েরিংয়ের ভেতরে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে সীমানার ভেতর বিস্ফোরিত হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের যাচাইকৃত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, শনিবার ও রোববার ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক স্থাপনাগুলোতে বারবার আঘাত হানা হয়। সেখানে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা যায়। রোববার সকালে স্যাটেলাইট চিত্রে ঘাঁটির একটি অংশের চারটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া এবং সোমবার ভোর পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকার চিত্র ধরা পড়ে। দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরের রোববারের স্যাটেলাইট ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বড় ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এটি আনুষ্ঠানিক মার্কিন ঘাঁটি না হলেও মধ্যপ্রাচ্যে নৌবাহিনীর সবচেয়ে ব্যবহৃত বন্দরগুলোর একটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ নিয়েছে আইআরজিসি

ইরানের পাল্টা হামলায় চার দিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় ১২:১৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

এবার ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর মাত্র চার দিনেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান, নৌঘাঁটি থেকে শুরু করে কূটনৈতিক মিশনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর এতেই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর পর প্রথম চার দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে আনাদোলু এজেন্সির সংকলিত তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কাতারের আলউদেইদ বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের এএন/এফপিএস১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থা। এর মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন তথা ১১০ কোটি মার্কিন ডলার। গত শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানানো হয়েছে। কাতার কর্তৃপক্ষ রাডারটিতে আঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া গত রোববার কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারভুলবশত গুলিবর্ষণেতিনটি এফ১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এতে ছয়জন ক্রু সদস্য প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমানগুলো ধ্বংস হয়। এগুলো প্রতিস্থাপনে আনুমানিক ২৮২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

এর আগে শনিবার পাল্টা হামলার শুরুতেই ইরান বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ভয়াবহ হামলা চালায়। এতে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং কয়েকটি বড় ভবন ধ্বংস হয়। উন্মুক্ত উৎসের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্যাটকম টার্মিনালগুলো ছিল এএন/জিএসসি৫২বি মডেলের, যার প্রতিটির আনুমানিক মূল্য মোতায়েন ও স্থাপনা ব্যয়সহ প্রায় ২ কোটি ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলরুয়াইস শিল্পনগরে মোতায়েন থাকা থাড অ্যান্টিব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থার এএন/টিপিওয়াই২ রাডার উপাদান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে সেখানে হামলার প্রমাণ মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ধ্বংস হওয়া রাডার উপাদানের আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের প্রায় ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কুয়েতে ক্যাম্প আরিফজান, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুয়েরিং, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দর এবং কাতারের আলউদেইদ বিমানঘাঁটি। কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলার পর বিভিন্ন স্থানে ছাদ ধসে পড়ার ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ক্যাম্প আরিফজানেই ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েরিংয়ের ভেতরে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে সীমানার ভেতর বিস্ফোরিত হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের যাচাইকৃত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, শনিবার ও রোববার ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক স্থাপনাগুলোতে বারবার আঘাত হানা হয়। সেখানে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা যায়। রোববার সকালে স্যাটেলাইট চিত্রে ঘাঁটির একটি অংশের চারটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া এবং সোমবার ভোর পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকার চিত্র ধরা পড়ে। দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরের রোববারের স্যাটেলাইট ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বড় ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এটি আনুষ্ঠানিক মার্কিন ঘাঁটি না হলেও মধ্যপ্রাচ্যে নৌবাহিনীর সবচেয়ে ব্যবহৃত বন্দরগুলোর একটি।