নেপালের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছেন ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার ও রাজনীতিবিদ Balen Shah, যিনি ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৬ মার্চ) Nepal Election Commission-এর প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, তার দল Rastriya Swatantra Party (আরএসপি) ১৬৫টি প্রত্যক্ষ আসনের মধ্যে প্রায় ১০০টিতে এগিয়ে রয়েছে। এই ব্যবধান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আরএসপি-ই পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা Nepali Congress পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। সেই আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী K. P. Sharma Oli পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
Balen Shah এর আগে ২০২২ সালে Kathmandu-এর মেয়র নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন। নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তবে Human Rights Watchসহ কয়েকটি সংগঠন তার বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবহার করে ফুটপাতের হকার ও ভূমিহীনদের উচ্ছেদের অভিযোগও তুলেছিল।
পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও র্যাপ সংগীতশিল্পী বালেন শাহ সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নেপালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে তিনি ভারতে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। ছাত্রজীবন থেকেই মার্কিন র্যাপার Tupac Shakur ও 50 Cent-এর অনুপ্রেরণায় র্যাপ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত হন। শাসক শ্রেণির দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার গাওয়া ‘বলিদান’ গানটি ইউটিউবে এক কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন।
নির্বাচনী ইশতেহারে তার দল Rastriya Swatantra Party ১২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাথাপিছু আয় তিন হাজার ডলারে উন্নীত করা এবং পাঁচ বছরের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্যবিমা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক Puranjan Acharya মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন শাহের পথ সহজ হবে না। তার মতে, বিদ্যমান রাষ্ট্রযন্ত্রের দুর্নীতির সংস্কার করতে না পারলে তিনি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। এজন্য দক্ষ বিশেষজ্ঞ দল ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন।
ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত হিমালয় কন্যা Nepal-এর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রথাগত দলগুলোর আধিপত্য ভেঙে বালেন শাহের এই উত্থানকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি বিশেষ ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।




















