ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে ১৫ জাহাজ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০১:৪১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ৫০৪ বার পড়া হয়েছে

এবার হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর অতিক্রম করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুইটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং নয়টিতে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন পণ্য বহন করছে ১৫টি জাহাজ। এর মধ্যে ১২টি ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে, বাকি তিনটি জাহাজ চলতি সপ্তাহে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পর হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এতে বিশ্বজুড়ে তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় একপঞ্চমাংশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবএই সাত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য আনানেয়া হয়। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পাশের দেশ ওমানের উপসাগরীয় রুটেও। পারস্য উপসাগর থেকে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশে আসে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়েআল জোরআল জাসাসিয়ানামে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এ ছাড়ালুসাইলনামে একটি জাহাজ সোমবার এবংআল গালায়েলনামে আরেকটি জাহাজ আগামী বুধবার বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে চারটি জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে। কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে সংঘাত শুরুর দুই থেকে সাত দিন আগে এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।

এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানান, চারটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবেলিবারেলনামে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে রয়েছে এবং প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে। পরবর্তী চালান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় সরকার খোলাবাজার থেকেও তুলনামূলক বেশি দামে দুই জাহাজ এলএনজি কিনেছে, যা এখনো বন্দরে পৌঁছায়নি।

এদিকে এলপিজি নিয়েসেভাননামে একটি জাহাজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এতে রয়েছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি, যা ওমানের সোহার বন্দর থেকে আসছে। এর আগে একই বন্দর থেকেজি ওয়াইএমএমনামে আরেকটি জাহাজ ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। দুটি জাহাজে মোট প্রায় ৩৫ হাজার টন এলপিজি রয়েছে, যা মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির জন্য আনা হয়েছে।

এ ছাড়া কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর থেকে পাঁচ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়েবে ইয়াসুনামে একটি জাহাজ গত বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছেছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর নিয়ে আরও কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এসব জাহাজে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে এসব দেশ থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার বড় অংশই জ্বালানি পণ্য। তবে প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নতুন জাহাজ আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালীর কাছে মাল্টার পতাকাবাহী তেল ট্যাংকারে ইরানের হামলা

হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে ১৫ জাহাজ

আপডেট সময় ০১:৪১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

এবার হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর অতিক্রম করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুইটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং নয়টিতে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন পণ্য বহন করছে ১৫টি জাহাজ। এর মধ্যে ১২টি ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে, বাকি তিনটি জাহাজ চলতি সপ্তাহে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পর হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এতে বিশ্বজুড়ে তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় একপঞ্চমাংশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবএই সাত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য আনানেয়া হয়। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পাশের দেশ ওমানের উপসাগরীয় রুটেও। পারস্য উপসাগর থেকে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশে আসে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়েআল জোরআল জাসাসিয়ানামে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এ ছাড়ালুসাইলনামে একটি জাহাজ সোমবার এবংআল গালায়েলনামে আরেকটি জাহাজ আগামী বুধবার বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে চারটি জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে। কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে সংঘাত শুরুর দুই থেকে সাত দিন আগে এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।

এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানান, চারটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবেলিবারেলনামে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে রয়েছে এবং প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে। পরবর্তী চালান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় সরকার খোলাবাজার থেকেও তুলনামূলক বেশি দামে দুই জাহাজ এলএনজি কিনেছে, যা এখনো বন্দরে পৌঁছায়নি।

এদিকে এলপিজি নিয়েসেভাননামে একটি জাহাজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এতে রয়েছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি, যা ওমানের সোহার বন্দর থেকে আসছে। এর আগে একই বন্দর থেকেজি ওয়াইএমএমনামে আরেকটি জাহাজ ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। দুটি জাহাজে মোট প্রায় ৩৫ হাজার টন এলপিজি রয়েছে, যা মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির জন্য আনা হয়েছে।

এ ছাড়া কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর থেকে পাঁচ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়েবে ইয়াসুনামে একটি জাহাজ গত বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছেছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর নিয়ে আরও কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এসব জাহাজে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে এসব দেশ থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার বড় অংশই জ্বালানি পণ্য। তবে প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নতুন জাহাজ আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।