এবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘নির্লজ্জ ও নৃশংস অপরাধের’ বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ইরানি সংবাদ সংস্থা ডিফাপ্র্রেস–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শেকারচি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীকে তাদের ‘হতাশা এবং সশস্ত্র বাহিনীর মোকাবিলা করতে না পারার’ দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, সরাসরি যুদ্ধের সক্ষমতা হারিয়ে এই দুই দেশের সামরিক বাহিনী এখন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের হত্যা করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে। শেকারচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খুব শীঘ্রই ইরান এই বর্বর আচরণের সমুচিত জবাব দেবে এবং তাদের ওপর অত্যন্ত প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক আঘাত হানা হবে। জেনারেল শেকারচি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক দেশসমূহ এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি একটি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অনুরোধ করেছেন যাতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যেখানে লুকিয়ে রয়েছে, সেই আস্তানাগুলোর অবস্থান ইরানকে জানানো হয়।
তার মতে, শত্রুরা সাধারণ মানুষকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা অপারেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ইরান নিখুঁতভাবে শত্রুর গোপন আস্তানায় আঘাত হানতে সক্ষম হবে এবং এতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানি এই সেনাকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান এখন সরাসরি ও অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সহায়তা চেয়েছেন যাতে ‘আমেরিকান–জায়ওনিস্ট’ বাহিনীকে কোণঠাসা করা যায়। শেকারচি তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে যারা যুদ্ধ পরিচালনা করছে, তাদের জন্য ইরান ‘ক্রাশিং ব্লো’ বা গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো আঘাত সঞ্চয় করে রেখেছে। এই প্রতিশোধমূলক হামলা যে কোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে বলে তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বর্তমান আঞ্চলিক উত্তজনা এবং ইরান–ইসরায়েল সংকটের এই পর্যায়ে শেকারচির এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ–রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে নেওয়া এবং বেসামরিক এলাকা এড়িয়ে সুনির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় হামলার কৌশল তেহরানের যুদ্ধের নতুন পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান মনে করে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে তারা কেবল শত্রুকে পর্যুদস্ত করবে না, বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে পশ্চিমা শক্তির আধিপত্য খর্ব করতে সক্ষম হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



















