ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘গাজা গণহত্যা’ মামলায় ইসরায়েলের পাশ থেকে সরে দাঁড়ালো জার্মানি

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১২:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ফিলিস্তিনের গাজায়জাতিগত গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলায় ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছে জার্মানি। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন এ মামলা দায়ের করেছিল, তখন জার্মানি ইসরায়েলকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এলো তারা। জার্মানির এ পদক্ষেপ দেশটির প্রকাশ্য অবস্থানে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিজেতে চলমান এই মামলায় জার্মানি ইসরায়েলের পক্ষে হস্তক্ষেপ করবে না। যদিও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বার্লিন ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা ইসরায়েলকে সমর্থন করবে ও দক্ষিণ আফ্রিকার আনা অভিযোগগুলোকেভিত্তিহীনবলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তাদের নিজস্ব আইনি জটিলতা। কারণ, নিকারাগুয়ার করা পৃথক একটি মামলায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জার্মানিকেই নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে। ওই মামলায় নিকারাগুয়া অভিযোগ করেছে, গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে রাজনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে জার্মানি আন্তর্জাতিক আইন, এমনকি গণহত্যা সনদ লঙ্ঘন করেছে।

এই মামলার কারণে এরই মধ্যে ইসরায়েলে জার্মানির অস্ত্র রপ্তানি ও জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থার জন্য অর্থায়ন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছে বার্লিন। যদিও ২০২৪ সালে আদালত জার্মানির বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে নিকারাগুয়ার মামলাটি চলমান রাখার অনুমতি দেয়, ফলে জার্মানিকে আদালতে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে যেতে হচ্ছে।

বার্লিন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার আনা গণহত্যার অভিযোগ মেনে নিয়েছে। একই সঙ্গে নিকারাগুয়ার মামলায় জার্মানির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তারা প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে। তবে ইসরায়েলের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক চাপ ও আইনি ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, এই মামলায় অংশ নিতে আরও দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। নেদারল্যান্ডস ও আইসল্যান্ড এরই মধ্যে ১১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে মামলায় যুক্ত হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ছে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ রবীন্দ্র সরোবরে গান গাইবেন আসিফ মাহমুদ

‘গাজা গণহত্যা’ মামলায় ইসরায়েলের পাশ থেকে সরে দাঁড়ালো জার্মানি

আপডেট সময় ১২:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

এবার ফিলিস্তিনের গাজায়জাতিগত গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলায় ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছে জার্মানি। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন এ মামলা দায়ের করেছিল, তখন জার্মানি ইসরায়েলকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এলো তারা। জার্মানির এ পদক্ষেপ দেশটির প্রকাশ্য অবস্থানে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিজেতে চলমান এই মামলায় জার্মানি ইসরায়েলের পক্ষে হস্তক্ষেপ করবে না। যদিও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বার্লিন ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা ইসরায়েলকে সমর্থন করবে ও দক্ষিণ আফ্রিকার আনা অভিযোগগুলোকেভিত্তিহীনবলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তাদের নিজস্ব আইনি জটিলতা। কারণ, নিকারাগুয়ার করা পৃথক একটি মামলায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জার্মানিকেই নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে। ওই মামলায় নিকারাগুয়া অভিযোগ করেছে, গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে রাজনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে জার্মানি আন্তর্জাতিক আইন, এমনকি গণহত্যা সনদ লঙ্ঘন করেছে।

এই মামলার কারণে এরই মধ্যে ইসরায়েলে জার্মানির অস্ত্র রপ্তানি ও জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থার জন্য অর্থায়ন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছে বার্লিন। যদিও ২০২৪ সালে আদালত জার্মানির বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে নিকারাগুয়ার মামলাটি চলমান রাখার অনুমতি দেয়, ফলে জার্মানিকে আদালতে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে যেতে হচ্ছে।

বার্লিন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার আনা গণহত্যার অভিযোগ মেনে নিয়েছে। একই সঙ্গে নিকারাগুয়ার মামলায় জার্মানির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তারা প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে। তবে ইসরায়েলের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক চাপ ও আইনি ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, এই মামলায় অংশ নিতে আরও দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। নেদারল্যান্ডস ও আইসল্যান্ড এরই মধ্যে ১১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে মামলায় যুক্ত হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ছে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর