ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজের দিকে এগোলে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে: ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:২৯:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজঅবরোধ’-এর হুমকির পর এবার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলো ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালীর দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনের শামিল বলে ধরে নেয়া হবে। একই সঙ্গে তারা এও জানিয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বর্তমানে ইরানের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে বেসামরিক জাহাজগুলো এই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ট্রাম্পের হুমকিইরানি জাতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান সদিচ্ছা দেখাতেখুব ভালো উদ্যোগনিয়েছিল, যার ফলে কিছু অগ্রগতি হয়েছিল। তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ‘আপনি যদি লড়াই করেন, আমরাও লড়াই করব। আর যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেন, আমরা যুক্তি দিয়েই মোকাবিলা করব।গালিবাফ আরও বলেন, ‘আমরা কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করব না। তারা চাইলে আবার আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করে দেখুক, যাতে আমরা তাদের আরও বড় শিক্ষা দিতে পারি।পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর চলমান সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সময় গত শনিবার (১১ এপ্রিল) এই আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষ হয় রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনেকটা সময় এ নিয়ে কিছুই বলেননি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই নীরবতা ভেঙেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পরপর দুটি হুমকিপূর্ণ পোস্ট করে তিনি বলেন, হরমুজে প্রবেশ করা বা ছেড়ে আসা সব জাহাজ আটকে দেব আমরা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজেঅবরোধআরোপের প্রক্রিয়া শুরু করবে মার্কিন বাহিনী। তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। তবে তার অভিযোগ, ইরান বর্তমানে সেই পরিস্থিতি হতে দিচ্ছে না।

এরপর ফক্স নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে আগের হুমকিরই প্রতিধ্বনি করেন তিনি। হরমুজ প্রণালী অবরোধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোন জাহাজ যাবে আর কোনটি যাবে না, তা ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। হয় সব জাহাজ সেখানে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাবে, নয়তো একটিও পাবে না।হরমুজ প্রণালীতে ইরানের তেলের জাহাজ চলাচল বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আরও কিছুদিনের মধ্যেই এটা হবে, এবং খুব দ্রুতই কার্যকর হবে।তিনি বলেন, ‘আমরা প্রণালী পরিষ্কার করে দেব। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরান একটি কাজ করতে পারেপ্রণালীতে মাইন (বিস্ফোরক) পেতে রাখতে পারে।একটা মাইন, দুইটা মাইন, দশটা মাইন ফেললেই হবে। তখন এক বিলিয়ন ডলারের জাহাজ থাকলে আপনি ভাববেন, এই মাইনে আঘাত লেগে জাহাজ হারানোর ঝুঁকি নিতে চাই না।তিনি আবারও ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি চাইলে একদিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি, আর তাদের জ্বালানি অবকাঠামো এক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংস করতে পারি। তবে আমি সেটা করতে চাই না।ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়েও তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দেখুন, এটা অসাধারণ একটি অংশীদারিত্ব। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেমন বলেছেন, আমরা বড় ভাই, তারা ছোট ভাই। এটা খুব কার্যকর একটি দল হিসেবে কাজ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক আইআরজিসি প্রধান কেন চান যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘স্থল আক্রমণ’ চালাক

কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজের দিকে এগোলে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে: ইরান

আপডেট সময় ১০:২৯:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজঅবরোধ’-এর হুমকির পর এবার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলো ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালীর দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনের শামিল বলে ধরে নেয়া হবে। একই সঙ্গে তারা এও জানিয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বর্তমানে ইরানের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে বেসামরিক জাহাজগুলো এই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ট্রাম্পের হুমকিইরানি জাতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান সদিচ্ছা দেখাতেখুব ভালো উদ্যোগনিয়েছিল, যার ফলে কিছু অগ্রগতি হয়েছিল। তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ‘আপনি যদি লড়াই করেন, আমরাও লড়াই করব। আর যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেন, আমরা যুক্তি দিয়েই মোকাবিলা করব।গালিবাফ আরও বলেন, ‘আমরা কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করব না। তারা চাইলে আবার আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করে দেখুক, যাতে আমরা তাদের আরও বড় শিক্ষা দিতে পারি।পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর চলমান সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সময় গত শনিবার (১১ এপ্রিল) এই আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষ হয় রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনেকটা সময় এ নিয়ে কিছুই বলেননি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই নীরবতা ভেঙেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পরপর দুটি হুমকিপূর্ণ পোস্ট করে তিনি বলেন, হরমুজে প্রবেশ করা বা ছেড়ে আসা সব জাহাজ আটকে দেব আমরা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজেঅবরোধআরোপের প্রক্রিয়া শুরু করবে মার্কিন বাহিনী। তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। তবে তার অভিযোগ, ইরান বর্তমানে সেই পরিস্থিতি হতে দিচ্ছে না।

এরপর ফক্স নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে আগের হুমকিরই প্রতিধ্বনি করেন তিনি। হরমুজ প্রণালী অবরোধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোন জাহাজ যাবে আর কোনটি যাবে না, তা ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। হয় সব জাহাজ সেখানে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাবে, নয়তো একটিও পাবে না।হরমুজ প্রণালীতে ইরানের তেলের জাহাজ চলাচল বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আরও কিছুদিনের মধ্যেই এটা হবে, এবং খুব দ্রুতই কার্যকর হবে।তিনি বলেন, ‘আমরা প্রণালী পরিষ্কার করে দেব। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরান একটি কাজ করতে পারেপ্রণালীতে মাইন (বিস্ফোরক) পেতে রাখতে পারে।একটা মাইন, দুইটা মাইন, দশটা মাইন ফেললেই হবে। তখন এক বিলিয়ন ডলারের জাহাজ থাকলে আপনি ভাববেন, এই মাইনে আঘাত লেগে জাহাজ হারানোর ঝুঁকি নিতে চাই না।তিনি আবারও ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি চাইলে একদিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি, আর তাদের জ্বালানি অবকাঠামো এক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংস করতে পারি। তবে আমি সেটা করতে চাই না।ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়েও তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দেখুন, এটা অসাধারণ একটি অংশীদারিত্ব। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেমন বলেছেন, আমরা বড় ভাই, তারা ছোট ভাই। এটা খুব কার্যকর একটি দল হিসেবে কাজ করছে।