ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১২:১৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৪৭ বার পড়া হয়েছে

এবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদক টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্যের অভিযোগে করা মানহানির মামলায় কুষ্টিয়া৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সিরাজগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে আমির হামজাকে ১৯ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেছিলেন তিনি। তবে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই আদেশ দেন বিচারক।  এর আগে ২৬ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যকে ঘিরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় তাকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন আমির হামজা। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি মামলা করা হয়।

একটি মামলার বাদী জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল বলেন, মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকেনাস্তিকবলে উল্লেখ করেছেন, যা মানহানিকর। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মামলা করেছেন।

একই অভিযোগে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার আরেকটি মানহানির মামলা করেন। ওই মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন আদালত। অপরদিকে ১৩ এপ্রিল কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ (আইনি নোটিশ) পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে২০ থেকে ৩০ কোটি টাকাদিয়ে বদলি হয়ে আসার অভিযোগ তোলায় তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ হরিপুর জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, কুষ্টিয়ার বর্তমান ডিসি এখানে বদলি হয়ে আসার জন্য ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। এই বক্তব্য বিভিন্ন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাওভাবে প্রকাশিত হয়েছে। যাতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও এ জাতীয় বক্তব্য বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ডিসি বদলি হয়ে আসার জন্য কোন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০ থেকে ৩০ কোটি দিয়েছেন, ওই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম অনতিবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। 

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মোছার নির্দেশ সিটি করপোরেশন দেয়নি: চসিক মেয়র

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় ১২:১৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

এবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদক টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্যের অভিযোগে করা মানহানির মামলায় কুষ্টিয়া৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সিরাজগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে আমির হামজাকে ১৯ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেছিলেন তিনি। তবে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই আদেশ দেন বিচারক।  এর আগে ২৬ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যকে ঘিরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় তাকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন আমির হামজা। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি মামলা করা হয়।

একটি মামলার বাদী জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল বলেন, মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকেনাস্তিকবলে উল্লেখ করেছেন, যা মানহানিকর। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মামলা করেছেন।

একই অভিযোগে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার আরেকটি মানহানির মামলা করেন। ওই মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন আদালত। অপরদিকে ১৩ এপ্রিল কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ (আইনি নোটিশ) পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে২০ থেকে ৩০ কোটি টাকাদিয়ে বদলি হয়ে আসার অভিযোগ তোলায় তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ হরিপুর জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, কুষ্টিয়ার বর্তমান ডিসি এখানে বদলি হয়ে আসার জন্য ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। এই বক্তব্য বিভিন্ন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাওভাবে প্রকাশিত হয়েছে। যাতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও এ জাতীয় বক্তব্য বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ডিসি বদলি হয়ে আসার জন্য কোন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০ থেকে ৩০ কোটি দিয়েছেন, ওই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম অনতিবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।