এবার দেশে কোনো দলের একক আধিপত্য বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ও সংসদ—উভয় জায়গায় একযোগে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই সমাবেশের আয়োজন করে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলনে কোনো ধরনের বিশ্রাম থাকবে না। আন্দোলন চলবে সংসদে, চলবে রাজপথে। রাজপথ ও সংসদ যেদিন একাকার হয়ে যাবে, সেদিন বালুর বাঁধ দিয়ে নদী বা সমুদ্রের জোয়ার থামানো যাবে না।’
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে জনগণের রায়কে অস্বীকার করার কারণে একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। যাঁরা রায় অস্বীকার করেছিলেন, তাঁদের পরিণতি ভালো হয়নি। এবারও যাঁরা রায় অস্বীকার করছেন, তাঁরা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করেন। আমরা বলি, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান দেখিয়ে রায়টি মেনে নিন। রায় মেনে নিলে আমরা এ দাবি নিয়ে আর কথা বলব না। ’
তিনি বলেন, ‘এই মঞ্চ কখনো আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদকে গ্রহণ করবে না। এই মঞ্চে যাঁরা বসে আছেন তাঁরা জাতির স্বার্থে দেশপ্রেম বুকে ধারণ করার কারণে তিলে তিলে তাঁরা প্রমাণ করেছেন—জীবন দেব, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।’ অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর মানুষের রক্তে রাজনীতি কলঙ্কিত হয়েছিল। তখন আমরা সবাই রাজপথে আন্দোলন করেছি। কিন্তু তাদেরই একটি অংশ ক্ষমতায় গিয়ে অতীত ভুলে গেছে। গণভোটের দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের আবার রাজপথে নামতে হয়েছে, কারণ তারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তারাই একসময় বলেছিল, গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। এখন তারা সেটিকেই অবৈধ বলছে। সংসদে আমরা প্রশ্ন করেছি—এটি আগে অবৈধ ছিল, নাকি নির্বাচনের পর অবৈধ হলো?’ নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার কথা বলা হলেও এখন বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে অনুরোধ করব, নিকট অতীতে যাদের বুকে টেনে নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণি পার হয়েছেন, যাদের হাতে–পায়ে ধরে ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছেন, তাদের পরিণতি স্মরণ করুন। সরকার যদি সুষ্ঠু নির্বাচনেই গঠিত হয়, তাহলে বারবার বলতে হয় কেন? একটা কথা আছে, তুমি যদি কোনো মিথ্যাকে এস্টাব্লিশ করতে চাও, তাহলে শতবার বলতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে দুজন রাজসাক্ষী পাওয়া গেছে। একজন বলেছেন, ‘আমরা ওদের মেইনস্ট্রিম হতে দিইনি; ওরা পাওয়ার কথা ছিল ১৬৮, আমরা নামিয়ে এনেছি ৬৮–তে। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে নিরপেক্ষ সরকারের অংশ হয়ে দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আরেকজন বলেছেন, তাঁরা লন্ডনে গিয়ে ট্রফি দিয়ে এসেছেন। ট্রফি যদি আগেই ক্যাপ্টেনের হাতে চলে যায়, তবে এটা ছিল নির্বাচন নামের প্রহসন। তাঁরা স্বীকার করে নিচ্ছেন যে মাওলানা মামুনুল হক সংসদে গেলে কী হতো, সেই ভয়ে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘দেশপ্রেমিকরাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করবে। জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু মাথা নত করব না ইনশাআল্লাহ।’ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবিতে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আগামী মে, জুন ও জুলাই মাসে জেলা পর্যায়ে নাগরিক সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল।




















