ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একজোট ইসরাইলের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০১:৪১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২২ বার পড়া হয়েছে

এবার ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইসরাইলের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ একজোট হয়েছেন। রবিবার (২৬ এপ্রিলতারা ঘোষণা দিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে তারা যৌথভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এক যৌথ টেলিভিশন ভাষণে বেনেট বলেন, রবিবার রাতে আমি আমার বন্ধু ইয়াইর লাপিদের সঙ্গে মিলে আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে জায়নিস্ট ও দেশপ্রেমিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।

তিনি জানান, তারা একত্রিত হয়েবেয়াহাদ (একসঙ্গে)’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন, যা বড় বিজয় অর্জন করবে এবং আমাদের সুন্দর দেশের জন্য নতুন যুগের সূচনা করবে। এপির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। লাপিদ বলেন, বেনেট একজন ডানপন্থী রাজনীতিক, কিন্তু তিনি সৎ। তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস রয়েছে। এর আগে রোববার লাপিদ এক পোস্টে জানান, তিনি বেনেটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হচ্ছেন। তিনি লেখেন, এই পদক্ষেপরিপেয়ার ব্লক’-এর ঐক্য সৃষ্টি করবে এবং ইসরাইলকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

বেনেট বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে যে ব্যর্থতাগুলো ছিল, তা তদন্ত করতে একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করবেন, যা বর্তমান নেতানিয়াহু সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ্য, বেনেট ও লাপিদ দুজনই ওই হামলার পর থেকে দেশ পরিচালনায় নেতানিয়াহুর ভূমিকার কঠোর সমালোচক। লাপিদ সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের ইরান যুদ্ধবিরতিকেওরাজনৈতিক বিপর্যয়বলে আখ্যা দিয়েছেন। ডানপন্থী রাজনীতিক বেনেট পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপনের দীর্ঘদিনের সমর্থক। অন্যদিকে লাপিদ ২০২১ সালের জুনে তার সঙ্গে একসঙ্গে জোট সরকার গঠন করেছিলেন। ২০২২ সালের শেষ দিকে সেই সরকার ভেঙে যায় এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গঠিত হয়।

এর আগে বেনেট ঘোষণা দেন যে, তার জোট আর টেকসই নয়। এরপর লাপিদ অল্প সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে পরাজিত করার জন্য বেনেট সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী। রবিবার বেনেট কেন্দ্রপন্থীইয়াশারদলের নেতা গাদি আইজেনকটকে এই জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ৫৪ বছর বয়সী বেনেট একজন সাবেক হাইটেক উদ্যোক্তা। তিনি ২০০৫ সালে তার স্টার্টআপ ১৪৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন। তিনি সাবেক ইসরাইলি কমান্ডো কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন, যা গাজা যুদ্ধের পর তরুণ প্রজন্মের কাছে তাকে জনপ্রিয় করেছে। একসময় নেতানিয়াহুর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীতে তিনি তার নীতির কড়া সমালোচক হয়ে ওঠেন।

অন্যদিকে, ৬২ বছর বয়সী লাপিদ হলেন প্রয়াত সাংবাদিক ও মন্ত্রী টমি লাপিদের ছেলে এবং খ্যাতনামা লেখক শুলামিত লাপিদের সন্তান। তিনি একজন জনপ্রিয় টেলিভিশন সাংবাদিক ছিলেন এবং ২০১২ সালেইয়েশ আতিদদল গঠন করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, যা বর্তমানে ইসরাইলের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি। লাপিদ বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, পাশাপাশি অল্প সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। অন্যদিকে, ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তার দল লিকুদএর নেতৃত্ব দেবেন। তিনি একাধিক মেয়াদে মোট ১৮ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে ইসরাইলের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একজোট ইসরাইলের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৪১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

এবার ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইসরাইলের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ একজোট হয়েছেন। রবিবার (২৬ এপ্রিলতারা ঘোষণা দিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে তারা যৌথভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এক যৌথ টেলিভিশন ভাষণে বেনেট বলেন, রবিবার রাতে আমি আমার বন্ধু ইয়াইর লাপিদের সঙ্গে মিলে আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে জায়নিস্ট ও দেশপ্রেমিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।

তিনি জানান, তারা একত্রিত হয়েবেয়াহাদ (একসঙ্গে)’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন, যা বড় বিজয় অর্জন করবে এবং আমাদের সুন্দর দেশের জন্য নতুন যুগের সূচনা করবে। এপির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। লাপিদ বলেন, বেনেট একজন ডানপন্থী রাজনীতিক, কিন্তু তিনি সৎ। তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস রয়েছে। এর আগে রোববার লাপিদ এক পোস্টে জানান, তিনি বেনেটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হচ্ছেন। তিনি লেখেন, এই পদক্ষেপরিপেয়ার ব্লক’-এর ঐক্য সৃষ্টি করবে এবং ইসরাইলকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

বেনেট বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে যে ব্যর্থতাগুলো ছিল, তা তদন্ত করতে একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করবেন, যা বর্তমান নেতানিয়াহু সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ্য, বেনেট ও লাপিদ দুজনই ওই হামলার পর থেকে দেশ পরিচালনায় নেতানিয়াহুর ভূমিকার কঠোর সমালোচক। লাপিদ সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের ইরান যুদ্ধবিরতিকেওরাজনৈতিক বিপর্যয়বলে আখ্যা দিয়েছেন। ডানপন্থী রাজনীতিক বেনেট পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপনের দীর্ঘদিনের সমর্থক। অন্যদিকে লাপিদ ২০২১ সালের জুনে তার সঙ্গে একসঙ্গে জোট সরকার গঠন করেছিলেন। ২০২২ সালের শেষ দিকে সেই সরকার ভেঙে যায় এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গঠিত হয়।

এর আগে বেনেট ঘোষণা দেন যে, তার জোট আর টেকসই নয়। এরপর লাপিদ অল্প সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে পরাজিত করার জন্য বেনেট সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী। রবিবার বেনেট কেন্দ্রপন্থীইয়াশারদলের নেতা গাদি আইজেনকটকে এই জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ৫৪ বছর বয়সী বেনেট একজন সাবেক হাইটেক উদ্যোক্তা। তিনি ২০০৫ সালে তার স্টার্টআপ ১৪৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন। তিনি সাবেক ইসরাইলি কমান্ডো কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন, যা গাজা যুদ্ধের পর তরুণ প্রজন্মের কাছে তাকে জনপ্রিয় করেছে। একসময় নেতানিয়াহুর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীতে তিনি তার নীতির কড়া সমালোচক হয়ে ওঠেন।

অন্যদিকে, ৬২ বছর বয়সী লাপিদ হলেন প্রয়াত সাংবাদিক ও মন্ত্রী টমি লাপিদের ছেলে এবং খ্যাতনামা লেখক শুলামিত লাপিদের সন্তান। তিনি একজন জনপ্রিয় টেলিভিশন সাংবাদিক ছিলেন এবং ২০১২ সালেইয়েশ আতিদদল গঠন করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, যা বর্তমানে ইসরাইলের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি। লাপিদ বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, পাশাপাশি অল্প সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। অন্যদিকে, ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তার দল লিকুদএর নেতৃত্ব দেবেন। তিনি একাধিক মেয়াদে মোট ১৮ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে ইসরাইলের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।