ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর হামলা নয়, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১১:২১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৩ বার পড়া হয়েছে

এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার পরিবর্তে দেশটির ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌঅবরোধ বজায় রাখার পরিকল্পনা করছেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যমদ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ইতিমধ্যে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এই দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।  এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির অর্থনীতি এবং তেল রপ্তানির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা। ওয়াশিংটন মনে করছে, যুদ্ধের চেয়ে এই অর্থনৈতিক ও নৌঅবরোধ তেহরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরানের ওপর আরোপিত শর্তগুলো থেকে সরে আসতে ট্রাম্প এখনো নারাজ। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অন্তত ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার যে দাবি যুক্তরাষ্ট্র করেছে, তা থেকে পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।  ট্রাম্পের নীতিনির্ধারকদের মতে, সামরিক অভিযানের চেয়ে এই মুহূর্তে অবরোধ বজায় রাখা অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের জ্বালানি খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে সক্ষম হবে। মূলত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বড় ধরনের ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত এই নৌঅবরোধ তুলে না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে হোয়াইট হাউস।

অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব কঠিন শর্তের বিপরীতে একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আগে তাদের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য সময়ের প্রয়োজন। তেহরান বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।  ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এটাই ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো তাড়াহুড়ো করে চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নন বরং পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ আরোপই তার প্রধান লক্ষ্য।

সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের এই দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যেহেতু হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী সমুদ্রপথগুলো দিয়ে বিশ্বের তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়, তাই এই অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দামের অস্থিরতা বজায় থাকবে।  বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক শক্তি ব্যবহারের বদলে এখন অর্থনৈতিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করার চূড়ান্ত কৌশল গ্রহণ করেছে। এখন দেখার বিষয় হলো, ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তাদের সংশোধিত প্রস্তাব এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মোড় কতটা ঘোরাতে পারে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, প্রতিরোধের পূর্ণ প্রস্তুতিতে ইরান

আর হামলা নয়, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ১১:২১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার পরিবর্তে দেশটির ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌঅবরোধ বজায় রাখার পরিকল্পনা করছেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যমদ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ইতিমধ্যে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এই দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।  এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির অর্থনীতি এবং তেল রপ্তানির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা। ওয়াশিংটন মনে করছে, যুদ্ধের চেয়ে এই অর্থনৈতিক ও নৌঅবরোধ তেহরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরানের ওপর আরোপিত শর্তগুলো থেকে সরে আসতে ট্রাম্প এখনো নারাজ। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অন্তত ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার যে দাবি যুক্তরাষ্ট্র করেছে, তা থেকে পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।  ট্রাম্পের নীতিনির্ধারকদের মতে, সামরিক অভিযানের চেয়ে এই মুহূর্তে অবরোধ বজায় রাখা অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের জ্বালানি খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে সক্ষম হবে। মূলত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বড় ধরনের ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত এই নৌঅবরোধ তুলে না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে হোয়াইট হাউস।

অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব কঠিন শর্তের বিপরীতে একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আগে তাদের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য সময়ের প্রয়োজন। তেহরান বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।  ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এটাই ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো তাড়াহুড়ো করে চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নন বরং পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ আরোপই তার প্রধান লক্ষ্য।

সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের এই দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যেহেতু হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী সমুদ্রপথগুলো দিয়ে বিশ্বের তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়, তাই এই অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দামের অস্থিরতা বজায় থাকবে।  বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক শক্তি ব্যবহারের বদলে এখন অর্থনৈতিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করার চূড়ান্ত কৌশল গ্রহণ করেছে। এখন দেখার বিষয় হলো, ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তাদের সংশোধিত প্রস্তাব এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মোড় কতটা ঘোরাতে পারে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই