ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরেনসিকে শেখ হাসিনা-তাপসের কণ্ঠে মিল, হাবিবুরের ভয়েসও শনাক্ত

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১২:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৩ বার পড়া হয়েছে

এবার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের কথোপকথনের অডিওতে কণ্ঠস্বরের মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ। একইসঙ্গে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের কণ্ঠস্বরও শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল২ এ জবানবন্দিতে তিনি এ তথ্য জানান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ১০ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

নিরাপত্তার স্বার্থে সাক্ষীর নামপরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে কর্মরত। ট্রাইব্যুনালে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রসিকিউশন থেকে পাওয়া আলামত হিসেবে একাধিক কণ্ঠস্বরের যাচাইবাছাই করা হয়। পরীক্ষাধীন অডিও ফাইলটি পরিচিত কণ্ঠের রেকর্ডের সঙ্গে ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলনা করে উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া গেছে। এতে ক্লিপে থাকা কণ্ঠগুলো শেখ হাসিনা ও তাপসের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ পাওয়া যায়। 

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাইআগস্ট আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা ও তাপসের মধ্যে কথোপকথন হয়। ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি নির্দেশ দিয়েছি, এখন সরাসরি নির্দেশ দিয়েছি। তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে। যেখানে তাদের পাবে, সেখানেই সরাসরি গুলি করবে।জবাবে তাপস বলেন, ‘জি, জি।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানের কণ্ঠস্বরও বিশ্লেষণ করেন একই বিশেষজ্ঞ। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, অডিও ক্লিপে থাকা কণ্ঠ হাবিবুর রহমানেরই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফরেনসিক প্রতিবেদনটি প্রমাণ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে।

এ মামলায় ১১ আসামির মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেনযাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী। পলাতক আসামিরা হলেনডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলো যশোরে শুভেচ্ছা জানানো সেই শিশু

ফরেনসিকে শেখ হাসিনা-তাপসের কণ্ঠে মিল, হাবিবুরের ভয়েসও শনাক্ত

আপডেট সময় ১২:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

এবার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের কথোপকথনের অডিওতে কণ্ঠস্বরের মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ। একইসঙ্গে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের কণ্ঠস্বরও শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল২ এ জবানবন্দিতে তিনি এ তথ্য জানান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ১০ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

নিরাপত্তার স্বার্থে সাক্ষীর নামপরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে কর্মরত। ট্রাইব্যুনালে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রসিকিউশন থেকে পাওয়া আলামত হিসেবে একাধিক কণ্ঠস্বরের যাচাইবাছাই করা হয়। পরীক্ষাধীন অডিও ফাইলটি পরিচিত কণ্ঠের রেকর্ডের সঙ্গে ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলনা করে উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া গেছে। এতে ক্লিপে থাকা কণ্ঠগুলো শেখ হাসিনা ও তাপসের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ পাওয়া যায়। 

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাইআগস্ট আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা ও তাপসের মধ্যে কথোপকথন হয়। ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি নির্দেশ দিয়েছি, এখন সরাসরি নির্দেশ দিয়েছি। তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে। যেখানে তাদের পাবে, সেখানেই সরাসরি গুলি করবে।জবাবে তাপস বলেন, ‘জি, জি।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানের কণ্ঠস্বরও বিশ্লেষণ করেন একই বিশেষজ্ঞ। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, অডিও ক্লিপে থাকা কণ্ঠ হাবিবুর রহমানেরই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফরেনসিক প্রতিবেদনটি প্রমাণ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে।

এ মামলায় ১১ আসামির মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেনযাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী। পলাতক আসামিরা হলেনডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।