ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যযুগের আরেকটি ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করলো ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:৪৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধার শহরের ঐতিহাসিক কামাল মাওলা মসজিদ বা ভোজশালা কমপ্লেক্সকে ঘিরে নতুন করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঐতিহাসিক এ স্থানে মসজিদের আগে একটি মন্দির ছিল, এমন দাবির ভিত্তিতে মধ্যপ্রদেশের হাইকোর্টে একটি আবেদন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার শুনানির পর হাইকোর্ট রায় দেন যে মধ্যযুগে তৈরি এ কমপ্লেক্স ছিল প্রকৃতপক্ষে এক হিন্দু দেবীর উদ্দেশে উৎসর্গ করা মন্দির।

আদালতের এই রায়ের পর মুসলিমদের ওই চত্বরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রায়ের পর রোববার (১৭ মে) মসজিদ চত্বর জুড়ে গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুবকদের উল্লাস করতে দেখা যায়। কট্টরপন্থী হিন্দু যুবকদের সেখানে ধর্মীয় সংগীতের তালে নাচতে ও ধর্মীয় বিভিন্ন আচার মুঠোফোনে ধারণ করতে থাকে। বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েনের মধ্যেই দেবীর একটি অস্থায়ী মূর্তিও স্থাপন করা হয় সেখানে। আদালতের এই একতরফা রায়ে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটির মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৭৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘শুক্রবার পর্যন্ত মসজিদটি আমাদের ছিল। আজ আর নেই। এমন কিছু ঘটতে পারে, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।ভারতে প্রাচীন মসজিদকে মন্দির দাবি করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির দাবি করার প্রবণতা বাড়ছে। এমনকি, বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম তাজমহলের নিচেও মন্দিরের অস্তিত্ব খোঁজা হয়েছে। অথচ তাজমহল কোনো মসজিদ নয় বরং একটি সমাধিসৌধ। তা সত্ত্বেও সপ্তদশ শতাব্দীর বিখ্যাত এ মোগল স্থাপনাকে বিতর্কের বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে।

কামাল মাওলা মসজিদ বা কথিত ভোজশালা কমপ্লেক্স নিয়ে কয়েক দশক ধরেই বিতর্ক চলছে। ১৯৫০এর দশকের শেষ দিকে এ স্থানের ওপর হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা প্রথম নিজেদের দাবি জানান। ভারত সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষাকারী সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) সঙ্গে ২০০৩ সালের একটি চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার এ স্থান পরিদর্শনের অনুমতি পান হিন্দুরা। আর মুসলিমরা প্রতি শুক্রবার সেখানে নামাজ আদায় করতে পারতেন।

এখন আদালতের রায়ে এ স্থানকেবাগদেবীবা জ্ঞান ও বাণীর দেবীর মন্দির ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে হিন্দুরা সেখানে পূজার অধিকার পেলেন। খারিজ হয়ে গেল মুসলিমদের দাবি। আদালত মুসলিমদের আবেদন খারিজ করে দিলেও তাদের জন্য জেলার অন্য জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণের লক্ষ্যে বিকল্প জমির আবেদন করার সুযোগ রেখেছেন। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া দুই বছর আগে কামাল মাওলা মসজিদ নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে। মূলত এ জরিপের ভিত্তিতে রায় দিয়েছেন আদালত।মামলার হিন্দুপক্ষ রায়কেঐতিহাসিকবলে স্বাগত জানিয়েছে। তবে মুসলিমরা সুপ্রিম কোর্টে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

মুসলিমপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের দেওয়া ওই রায়ের সমালোচকেরা বলছেন, বিতর্কিত স্থানটি হিন্দুদের হাতে তুলে দিতে আদালত প্রচলিত সীমা অতিক্রম করেছেন। হিন্দুপক্ষের দাবি, বর্তমানে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রদর্শিতবাগদেবীর একটি মূর্তি এ কথিত মন্দিরের অংশ। আদালত ভারত সরকারকে সেই মূর্তি ফিরিয়ে আনার কথা বিবেচনা করতে বলেছেন। সূত্র: আলজাজিরা

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে কোরবানি হচ্ছে ‘ডনাল্ড ট্রাম্প’, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের খবর

মধ্যযুগের আরেকটি ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করলো ভারত

আপডেট সময় ১০:৪৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

এবার ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধার শহরের ঐতিহাসিক কামাল মাওলা মসজিদ বা ভোজশালা কমপ্লেক্সকে ঘিরে নতুন করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঐতিহাসিক এ স্থানে মসজিদের আগে একটি মন্দির ছিল, এমন দাবির ভিত্তিতে মধ্যপ্রদেশের হাইকোর্টে একটি আবেদন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার শুনানির পর হাইকোর্ট রায় দেন যে মধ্যযুগে তৈরি এ কমপ্লেক্স ছিল প্রকৃতপক্ষে এক হিন্দু দেবীর উদ্দেশে উৎসর্গ করা মন্দির।

আদালতের এই রায়ের পর মুসলিমদের ওই চত্বরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রায়ের পর রোববার (১৭ মে) মসজিদ চত্বর জুড়ে গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুবকদের উল্লাস করতে দেখা যায়। কট্টরপন্থী হিন্দু যুবকদের সেখানে ধর্মীয় সংগীতের তালে নাচতে ও ধর্মীয় বিভিন্ন আচার মুঠোফোনে ধারণ করতে থাকে। বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েনের মধ্যেই দেবীর একটি অস্থায়ী মূর্তিও স্থাপন করা হয় সেখানে। আদালতের এই একতরফা রায়ে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটির মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৭৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘শুক্রবার পর্যন্ত মসজিদটি আমাদের ছিল। আজ আর নেই। এমন কিছু ঘটতে পারে, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।ভারতে প্রাচীন মসজিদকে মন্দির দাবি করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির দাবি করার প্রবণতা বাড়ছে। এমনকি, বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম তাজমহলের নিচেও মন্দিরের অস্তিত্ব খোঁজা হয়েছে। অথচ তাজমহল কোনো মসজিদ নয় বরং একটি সমাধিসৌধ। তা সত্ত্বেও সপ্তদশ শতাব্দীর বিখ্যাত এ মোগল স্থাপনাকে বিতর্কের বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে।

কামাল মাওলা মসজিদ বা কথিত ভোজশালা কমপ্লেক্স নিয়ে কয়েক দশক ধরেই বিতর্ক চলছে। ১৯৫০এর দশকের শেষ দিকে এ স্থানের ওপর হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা প্রথম নিজেদের দাবি জানান। ভারত সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষাকারী সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) সঙ্গে ২০০৩ সালের একটি চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার এ স্থান পরিদর্শনের অনুমতি পান হিন্দুরা। আর মুসলিমরা প্রতি শুক্রবার সেখানে নামাজ আদায় করতে পারতেন।

এখন আদালতের রায়ে এ স্থানকেবাগদেবীবা জ্ঞান ও বাণীর দেবীর মন্দির ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে হিন্দুরা সেখানে পূজার অধিকার পেলেন। খারিজ হয়ে গেল মুসলিমদের দাবি। আদালত মুসলিমদের আবেদন খারিজ করে দিলেও তাদের জন্য জেলার অন্য জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণের লক্ষ্যে বিকল্প জমির আবেদন করার সুযোগ রেখেছেন। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া দুই বছর আগে কামাল মাওলা মসজিদ নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে। মূলত এ জরিপের ভিত্তিতে রায় দিয়েছেন আদালত।মামলার হিন্দুপক্ষ রায়কেঐতিহাসিকবলে স্বাগত জানিয়েছে। তবে মুসলিমরা সুপ্রিম কোর্টে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

মুসলিমপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের দেওয়া ওই রায়ের সমালোচকেরা বলছেন, বিতর্কিত স্থানটি হিন্দুদের হাতে তুলে দিতে আদালত প্রচলিত সীমা অতিক্রম করেছেন। হিন্দুপক্ষের দাবি, বর্তমানে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রদর্শিতবাগদেবীর একটি মূর্তি এ কথিত মন্দিরের অংশ। আদালত ভারত সরকারকে সেই মূর্তি ফিরিয়ে আনার কথা বিবেচনা করতে বলেছেন। সূত্র: আলজাজিরা