ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিন দিন ধরে স্থিতিশীল সংকটাপন্ন অবস্থায় খালেদা জিয়া, বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি চললেও শারীরিক অবস্থা জটিল

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:৪০:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৮০ বার পড়া হয়েছে

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গত তিন দিন ধরে একই পর্যায়ে রয়েছে। পরিবার ও দল উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা করলেও বর্তমান শারীরিক অবস্থায় সে ধকল নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মেডিকেল বোর্ড অনুমোদন দিলে তাঁকে দ্রুত বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

গত বুধবার পর্যন্ত খালেদা জিয়া তেমন সাড়া দিচ্ছিলেন না। তিন দিন পর শনিবার তিনি দু’একটি কথা বলেছেন। চিকিৎসকদের মতে, তিনি এক ধরনের গুরুতর শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে ডায়ালাইসিস চলছে; শনিবার রাত ১০টায় একটি ডায়ালাইসিস শেষ হয়েছে। এতে অবস্থার উন্নতি না হলেও সামান্য স্থিতিশীলতা এসেছে।

চিকিৎসকরা জানান, আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কিডনির কার্যক্ষমতা স্থিতিশীল না হলে স্থায়ী উন্নতির সম্ভাবনা কম। গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; গত শুক্রবার গভীর রাতে অবস্থার অবনতি ঘটে।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জানিয়েছেন, শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। শরীর কিছুটা নড়াচড়া করতে পারছেন এবং দুয়েকটি কথা বলেছেন। বিদেশে নিতে হলে ভিসা, সম্ভাব্য দেশের অনুমতি ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

শনিবার বিকেলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়া এখনও সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন। দেশের ও বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে চিকিৎসা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস, লন্ডন ক্লিনিকসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসায় যুক্ত।

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার চীনের একটি চিকিৎসক দল ঢাকায় এসে তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করতে পারে। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের মতে, কিডনি ও অগ্ন্যাশয়ের জটিলতার সঙ্গে হৃদ্‌রোগের সমস্যাও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন শনিবার রাতে জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থা গত তিন দিন ধরেই একই রয়েছে। তাঁকে সিসিইউতেই রাখা হয়েছে এবং তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসার সমন্বয় করছেন।

আগে থেকেই ফুসফুসের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ নানা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকায় চিকিৎসা জটিল হয়ে উঠেছে। একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে।

পরিবার চাইছে তাঁকে লন্ডন বা সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য। চীনের পক্ষ থেকেও তাঁকে সেখানে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কুয়েত ও সিঙ্গাপুরে যোগাযোগ চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ও মেডিকেল বোর্ডের অনুমতির ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত

তিন দিন ধরে স্থিতিশীল সংকটাপন্ন অবস্থায় খালেদা জিয়া, বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি চললেও শারীরিক অবস্থা জটিল

আপডেট সময় ১০:৪০:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গত তিন দিন ধরে একই পর্যায়ে রয়েছে। পরিবার ও দল উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা করলেও বর্তমান শারীরিক অবস্থায় সে ধকল নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মেডিকেল বোর্ড অনুমোদন দিলে তাঁকে দ্রুত বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

গত বুধবার পর্যন্ত খালেদা জিয়া তেমন সাড়া দিচ্ছিলেন না। তিন দিন পর শনিবার তিনি দু’একটি কথা বলেছেন। চিকিৎসকদের মতে, তিনি এক ধরনের গুরুতর শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে ডায়ালাইসিস চলছে; শনিবার রাত ১০টায় একটি ডায়ালাইসিস শেষ হয়েছে। এতে অবস্থার উন্নতি না হলেও সামান্য স্থিতিশীলতা এসেছে।

চিকিৎসকরা জানান, আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কিডনির কার্যক্ষমতা স্থিতিশীল না হলে স্থায়ী উন্নতির সম্ভাবনা কম। গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; গত শুক্রবার গভীর রাতে অবস্থার অবনতি ঘটে।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জানিয়েছেন, শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। শরীর কিছুটা নড়াচড়া করতে পারছেন এবং দুয়েকটি কথা বলেছেন। বিদেশে নিতে হলে ভিসা, সম্ভাব্য দেশের অনুমতি ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

শনিবার বিকেলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়া এখনও সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন। দেশের ও বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে চিকিৎসা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস, লন্ডন ক্লিনিকসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসায় যুক্ত।

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার চীনের একটি চিকিৎসক দল ঢাকায় এসে তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করতে পারে। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের মতে, কিডনি ও অগ্ন্যাশয়ের জটিলতার সঙ্গে হৃদ্‌রোগের সমস্যাও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন শনিবার রাতে জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থা গত তিন দিন ধরেই একই রয়েছে। তাঁকে সিসিইউতেই রাখা হয়েছে এবং তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসার সমন্বয় করছেন।

আগে থেকেই ফুসফুসের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ নানা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকায় চিকিৎসা জটিল হয়ে উঠেছে। একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে।

পরিবার চাইছে তাঁকে লন্ডন বা সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য। চীনের পক্ষ থেকেও তাঁকে সেখানে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কুয়েত ও সিঙ্গাপুরে যোগাযোগ চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ও মেডিকেল বোর্ডের অনুমতির ওপর।