এবার পাবনায় বীরমুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী নামের জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর শিবরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী হেমায়েতপুর ইউনিয়নরের ৯নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং চর শিবরামপুর ভোট কেন্দ্রের পরিচালক।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রচার–প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলীকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়েকদিন ধরে হুমকি–ধামকি দিয়ে আসছে। হুমকি–ধামকি উপেক্ষা করেই প্রচার–প্রচারণা চালাতে থাকেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বিএনপি কর্মী রায়হানের নেতৃত্বে রাতে স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে তাকে বের করে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলঅ জামায়াতে ইসলামী। মিছিলটি হাসপাতাল থেকে শুরু হয়ে থানার সামনে দিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইন্দ্রেরা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পাবনা–৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলীকে মসজিদ থেকে টেনে হেচড়ে বের করে এনে পিটিয়ে ও কোপানো হয়েছে। বাবুল বিশ্বাস ও রানা বিশ্বাসের হুকুমে সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী রায়হানের নেতৃত্বে হামলা করেছে। যদি দ্রুত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি। পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার জানান, রায়হান আমাদের বিএনপির কেউ না। কারা কি কারণে করছে আমাদের জানা নেই। কোনো অনুপ্রবেশকারী হতে পারে। তবে তারা নির্বাচনে আগ মুহূর্তে এসে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছি। আজ সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবো।
এ ব্যাপারে পাবনা–৫ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় আমার তেমন কিছু করার নেই, আমার এখতিয়ারের বাহিরে। এ বিষয়ে থানায় এফয়ার দায়ের করতে হবে, থানা ব্যবস্থা নেবে। আমি শুধু তদন্ত করে (ইসিতে) পাঠাতে পারি, কমিশন ব্যবস্থা নেবে। এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন জানান, অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তারপরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
























