ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১১:১৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৫ বার পড়া হয়েছে

এবার ক্রমেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে ইরানের সঙ্গে ইসরাইলযুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত। আট দিন পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ তো দেখাই যাচ্ছে না; বরং হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে দুই পক্ষই। ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো ধরনের সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় এবার ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বসেছেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্সের।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের অষ্টম দিন শনিবার (৭ মার্চ) এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদেরকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় আগ্রহী নই আমি। যুদ্ধ তখনই শেষ হতে পারে, যখন তেহরানের আর কার্যকর কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না বা ক্ষমতায় কোনো নেতৃত্ব অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি বলেন, যদি ইরানের সম্ভাব্য সব নেতা নিহত হন এবং দেশটির সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আলোচনার প্রশ্নই আর থাকবে না। 

ট্রাম্প আরও বলেন, একসময় এমনও হতে পারে যেআমরা আত্মসমর্পণ করছি’—এটা বলার মতো কেউই আর বেঁচে থাকবে না। এর আগে, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেইসঙ্গে ট্রাম্প জানান, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকতে চান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা না করে নতুন নেতা নির্বাচন করলে মানা হবে না তা। ট্রাম্পের এই ওইদ্ধত্যপূর্ণ বার্তার পরপরই ইরানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, ‘কখনই আত্মসমর্পণ করবে না ইরান।’ 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। নয়দিন ধরে চলমান এই হামলাপাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। 

এ অবস্থার মধ্যেই ইরানের ওপর আরও ভয়ংকর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর হামলা চালানোর জন্য নতুন মার্কিন স্থাপনা খুঁজছে ইরানও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরানের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং সরাসরি তাদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে ইরান এখন আমেরিকান অঞ্চল, বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করবে। যেগুলো এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে হামলা চালানো হবে। এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। আর নতুন দফায় এসে প্রথমবারের মতো ঘোষণা দিয়ে হাইপারসনিক মিসাইলও ব্যবহার করেছে দেশটি। 

জনপ্রিয় সংবাদ

মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসেই কোরআনে হাফেজ ১০ বছরের জুবায়ের

ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেট সময় ১১:১৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

এবার ক্রমেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে ইরানের সঙ্গে ইসরাইলযুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত। আট দিন পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ তো দেখাই যাচ্ছে না; বরং হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে দুই পক্ষই। ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো ধরনের সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় এবার ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বসেছেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্সের।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের অষ্টম দিন শনিবার (৭ মার্চ) এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদেরকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় আগ্রহী নই আমি। যুদ্ধ তখনই শেষ হতে পারে, যখন তেহরানের আর কার্যকর কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না বা ক্ষমতায় কোনো নেতৃত্ব অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি বলেন, যদি ইরানের সম্ভাব্য সব নেতা নিহত হন এবং দেশটির সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আলোচনার প্রশ্নই আর থাকবে না। 

ট্রাম্প আরও বলেন, একসময় এমনও হতে পারে যেআমরা আত্মসমর্পণ করছি’—এটা বলার মতো কেউই আর বেঁচে থাকবে না। এর আগে, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেইসঙ্গে ট্রাম্প জানান, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকতে চান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা না করে নতুন নেতা নির্বাচন করলে মানা হবে না তা। ট্রাম্পের এই ওইদ্ধত্যপূর্ণ বার্তার পরপরই ইরানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, ‘কখনই আত্মসমর্পণ করবে না ইরান।’ 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। নয়দিন ধরে চলমান এই হামলাপাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। 

এ অবস্থার মধ্যেই ইরানের ওপর আরও ভয়ংকর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর হামলা চালানোর জন্য নতুন মার্কিন স্থাপনা খুঁজছে ইরানও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরানের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং সরাসরি তাদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে ইরান এখন আমেরিকান অঞ্চল, বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করবে। যেগুলো এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে হামলা চালানো হবে। এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। আর নতুন দফায় এসে প্রথমবারের মতো ঘোষণা দিয়ে হাইপারসনিক মিসাইলও ব্যবহার করেছে দেশটি।