ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাত ডাকাতের সঙ্গে একই লড়লেন গৃহকর্তা, এক ডাকাত নিহত

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৪:২৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৮ বার পড়া হয়েছে

এবার পিরোজপুরে গভীর রাতে এক শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টাকালে গৃহকর্তা ও ডাকাত দলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন ওই গৃহকর্তা ও তার ছেলে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগ রাত আনুমানিক দুইটার দিকে জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ডাকাতের নাম দুলাল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার একতা বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।  আহতরা হলেন উজ্জ্বল বাহাদুর (৫১) ও তার ছেলে মিশকাফ বাহাদুর (১৯)উজ্জ্বল স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক ও ব্যবসায়ী।

স্থানীয়রা জানান, রাত দুইটার দিকে সাতজনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল উজ্জ্বল বাহাদুরের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা ঘরে ঢুকে উজ্জ্বল বাহাদুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে পরিবারের সদস্যরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও কোপাকুপির ঘটনা ঘটে। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে ডাকাত দলের অন্য ছয় সদস্য ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। তবে সংঘর্ষে এক ডাকাত সদস্য ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে পড়ে থাকে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ওই ডাকাতকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত উজ্জ্বল বাহাদুর ও তার ছেলেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, আহত ডাকাতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তার মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত বাড়ির মালিক ও তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর নাজিরপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পিরোজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির চেষ্টা ও নিহতের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদিতে ভিক্ষাবৃত্তি, দেশে ফিরতেই ৩ নারীসহ আটক ৪ 

সাত ডাকাতের সঙ্গে একই লড়লেন গৃহকর্তা, এক ডাকাত নিহত

আপডেট সময় ০৪:২৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

এবার পিরোজপুরে গভীর রাতে এক শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টাকালে গৃহকর্তা ও ডাকাত দলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন ওই গৃহকর্তা ও তার ছেলে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগ রাত আনুমানিক দুইটার দিকে জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ডাকাতের নাম দুলাল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার একতা বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।  আহতরা হলেন উজ্জ্বল বাহাদুর (৫১) ও তার ছেলে মিশকাফ বাহাদুর (১৯)উজ্জ্বল স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক ও ব্যবসায়ী।

স্থানীয়রা জানান, রাত দুইটার দিকে সাতজনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল উজ্জ্বল বাহাদুরের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা ঘরে ঢুকে উজ্জ্বল বাহাদুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে পরিবারের সদস্যরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও কোপাকুপির ঘটনা ঘটে। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে ডাকাত দলের অন্য ছয় সদস্য ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। তবে সংঘর্ষে এক ডাকাত সদস্য ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে পড়ে থাকে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ওই ডাকাতকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত উজ্জ্বল বাহাদুর ও তার ছেলেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, আহত ডাকাতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তার মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত বাড়ির মালিক ও তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর নাজিরপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পিরোজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির চেষ্টা ও নিহতের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিলো।