এবার শহিদদের দাবি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না করা হলে ১১–দলীয় জোটের ডাকে মানুষ আবাবিল পাখির মতো রাজপথে নেমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ মেহেরুন নেসার বাবা মোশারফ হোসাইন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ নতুনভাবে চলবে, কোনো স্বৈরাচারী কায়দায় চলবে না। শনিবার (২৫ এপ্রিল) জাতীয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবিলম্বে গণভোটের দাবি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। গত রাতেও আমি আমার মেয়ের জন্য কেঁদেছি; আমরা কী হারিয়েছি, তা শুধু আমরাই বুঝি উল্লেখ করে মোশারফ হোসাইন বলেন, আন্দোলনে যাদের চোখ নেই, হাত নেই কিংবা পা নেই—তাদের দিকে তাকাতে পারি না।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, তারেক রহমান, আপনি জটিলতা তৈরি করবেন না। আপনি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের যে ওয়াদা করেছেন, তা অবিলম্বে পূরণ করুন। আপনার মাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে আপনার মায়ের জানাজা তো দূরের কথা, দেশে কবরও দিতে দিত না। আপনার বাবার কবরও হয়ত রক্ষা পেত না। আজ আমাদের সন্তানদের আত্মত্যাগের কারণেই আপনারা দেশে আসতে পেরেছেন।
পতিত স্বৈরাচার সরকারকে মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আমাদের আত্মত্যাগকে খাটো করে দেখবেন না। আপনাকে ভালোবাসি বলেই বলছি, দেশটা ভালোভাবে চালান। স্বৈরাচারী হাসিনার মতো হওয়ার চেষ্টা করবেন না। আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। আমরা অনেক কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। একবার রাজপথে নামলে আমরা কয়জন মরব তা ভাবব না, কিন্তু আপনারা পালানোর জায়গা পাবেন না। তাই অবিলম্বে জুলাই সনদ ও গণভোটের দাবি বাস্তবায়ন করুন। নতুন বাংলাদেশ সুন্দরভাবে গড়ে তোলাই আপনাদের প্রতি আমাদের শহীদ পরিবারগুলোর দাবি।
জামায়াত ইসলাম আয়োজিত জাতীয় এই সমাবেশে শহীদ ফয়সাল আহমেদের বাবা জাকির হোসেন বলেন, আমরা সন্তান হারিয়ে মোটেও বিচলিত নই। আমাদের সন্তানেরা যেমন পুলিশের গুলির মুখে বুক পেতে দিতে ভয় করেনি ঠিক সেভাবেইে আমরাও কাউকে ভয় করি না। তাই অবিলম্বে টালবাহানা না করে জুলাই সনদ ও গণভোটের দাবি বাস্তবায়ন করুন। যদি এটা করতে গড়িমসি করেন তাহলে আমরা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তখন কিন্তু পালানোর জায়গা পাবেন না।


























