ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারীর জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাসের দায়িত্ব শিবিরের: জামায়াত আমির

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৮:০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৩৬ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত ও নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী শক্তি হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে এ ক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। সম্মেলনে সারাদেশের সদস্যদের ভোটে ২০২৬ সালের জন্য ছাত্রশিবিরের সভাপতি নির্বাচিত হন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন সিবগাতুল্লাহ। সাদ্দাম আগের কমিটিতে সেক্রেটারি এবং সিবগাতুল্লাহ দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে সাদ্দাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের বাংলাদেশ পেতে ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রাম ও অপেক্ষা করতে হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আব্দুল মালেক থেকে শুরু করে সর্বশেষ বিপ্লবী শরিফ উসমান হাদি—অনেকে এ দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। তিনি বলেন, একসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদের হাতে কলমের বদলে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল, ক্যাম্পাসগুলো মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত হয়েছিল। ছাত্রদের জীবন, ভবিষ্যৎ ও মেয়েদের নিরাপত্তা তখন অনিশ্চিত ছিল। সেই অন্ধকার অধ্যায় বিদায় নিতে শুরু করলেও কালো ছায়া এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব এখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর। শিবির এখন আর শুধু একটি সাধারণ ছাত্রসংগঠন নয়; ২০২৪-পরবর্তী বাস্তবতায় এটি কার্যত বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের অভিভাবকের ভূমিকা পেয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চরিত্র গঠন, নৈতিক শিক্ষা, আধুনিক জ্ঞান ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করতে শিবিরকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

সম্মেলনে সাবেক শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন করেন জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে নিহত কিশোর মুনতাসির আলিফের বাবা সৈয়দ গাজিউর রহমান। এ সময় জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্য, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ আমলে গুম হওয়া শিবির নেতাদের পরিবারের সদস্যরাও সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নিহত শরিফ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর ফারুক।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান ও আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

আন্তর্জাতিক অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কা জামায়াতের নেতা মালিক জালালুদ্দিন, ইন্দোনেশিয়ার সংগঠন কামির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান রিদওয়ান আল-মুগোমিয়েরুভ, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফেডারেশন অব স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনস-এর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ এবং যুক্তরাজ্যের মুসলিম যুব নেটওয়ার্কের সভাপতি রিদওয়ান রাশিদ। তবে সম্মেলনে বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেরপুরে বোমা মেরে ৩ লক্ষ টাকা ডাকাতি,ফোন লুট

নারীর জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাসের দায়িত্ব শিবিরের: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০৮:০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত ও নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী শক্তি হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে এ ক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। সম্মেলনে সারাদেশের সদস্যদের ভোটে ২০২৬ সালের জন্য ছাত্রশিবিরের সভাপতি নির্বাচিত হন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন সিবগাতুল্লাহ। সাদ্দাম আগের কমিটিতে সেক্রেটারি এবং সিবগাতুল্লাহ দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে সাদ্দাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের বাংলাদেশ পেতে ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রাম ও অপেক্ষা করতে হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আব্দুল মালেক থেকে শুরু করে সর্বশেষ বিপ্লবী শরিফ উসমান হাদি—অনেকে এ দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। তিনি বলেন, একসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদের হাতে কলমের বদলে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল, ক্যাম্পাসগুলো মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত হয়েছিল। ছাত্রদের জীবন, ভবিষ্যৎ ও মেয়েদের নিরাপত্তা তখন অনিশ্চিত ছিল। সেই অন্ধকার অধ্যায় বিদায় নিতে শুরু করলেও কালো ছায়া এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব এখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর। শিবির এখন আর শুধু একটি সাধারণ ছাত্রসংগঠন নয়; ২০২৪-পরবর্তী বাস্তবতায় এটি কার্যত বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের অভিভাবকের ভূমিকা পেয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চরিত্র গঠন, নৈতিক শিক্ষা, আধুনিক জ্ঞান ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করতে শিবিরকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

সম্মেলনে সাবেক শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন করেন জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে নিহত কিশোর মুনতাসির আলিফের বাবা সৈয়দ গাজিউর রহমান। এ সময় জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্য, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ আমলে গুম হওয়া শিবির নেতাদের পরিবারের সদস্যরাও সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নিহত শরিফ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর ফারুক।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান ও আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

আন্তর্জাতিক অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কা জামায়াতের নেতা মালিক জালালুদ্দিন, ইন্দোনেশিয়ার সংগঠন কামির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান রিদওয়ান আল-মুগোমিয়েরুভ, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফেডারেশন অব স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনস-এর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ এবং যুক্তরাজ্যের মুসলিম যুব নেটওয়ার্কের সভাপতি রিদওয়ান রাশিদ। তবে সম্মেলনে বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।