তিনটি মৌলিক শর্ত পূরণ করলে যে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামি নির্বাচনী সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত—এ কথা জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শর্তগুলো হলো—দুর্নীতি করা যাবে না এবং দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না; সমাজের সর্বস্তরে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো রাজনীতিবিদ বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না; পাশাপাশি সংস্কারের সব সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ছাত্রশিবির প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, শিবির এখন আর শুধু একটি সাধারণ ছাত্রসংগঠন নয়। চব্বিশের বিপ্লব-পরবর্তী বাস্তবতায় বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ভালোবাসা দিয়ে এই সংগঠনকে গ্রহণ করেছে এবং তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। এখন ছাত্রশিবিরকে ছাত্রসমাজের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে ছাত্রদের হাত থেকে কলম কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কোমলমতি ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত হয়েছিল। মেয়েদের ইজ্জত, ছাত্রদের জীবন ও ক্যারিয়ারের কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। সেই কালো অধ্যায় বিদায় নিতে শুরু করেছে, তবে কালো ছায়া এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এই কালো ছায়া দূর না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশ নিয়ে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঠিক এই সময়েই একটি চক্র ও ষড়যন্ত্র অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়ার চেষ্টা করছে। শিবির ও আধিপত্যবাদবিরোধী ইসলামি জনতার আন্দোলনকে সন্ত্রাস দিয়ে দমন করতে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়েছে। তবে জাতি কোনো মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হবে না বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষ শক্ত যুক্তি ও আদর্শ দিয়ে শিবিরকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে স্বাধীনতাবিরোধী, রগকাটা ও গুপ্ত সংগঠন বলে অপপ্রচার চালিয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনে দলের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম ও হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ নেতারা, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা এবং জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদিও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলন সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এতে সারাদেশ থেকে কয়েক হাজার শিবির সদস্য অংশগ্রহণ করেন।




















