ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একটি দল ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললেও টাকা কোথা থেকে আসবে বলছে না: নাহিদ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৮:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল এখন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু এসব কার্ডের বিনিময়ে যে অর্থ দেওয়া হবে, সেই অর্থের উৎস কোথা থেকে আসবে— সে বিষয়ে তারা কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। শুধু খরচের কথাই বলা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলা মোটরে গণভোটের প্রচারণার লক্ষ্যে আয়োজিত ক্যারাভ্যান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই ধরনের কার্ড বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হয়তো আবার ভ্যাট বাড়ানো হবে, যার চাপ পড়বে সাধারণ জনগণের ওপর। অন্যদিকে, এই কার্ডগুলো দলীয় লোকজনই বেশি পাবে, সাধারণ মানুষ বঞ্চিত থাকবে। ফলে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর একটি দল সরকারে এসে ১০ টাকায় চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই শাসনামলেই দেশ নানা দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন জনগণ সচেতন। মানুষ টানা ১৬ বছর ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। তাই এবার আর সস্তা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট কেনা যাবে না।

গণভোট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে বা আড়ালে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। এই দলই আবার সংস্কার কমিশন গঠনের সময় বলেছিল— এই সরকার কেন সংস্কার করবে, গণ–অভ্যুত্থানের পর কোনো সংস্কারের প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, গণভোটে এনসিপি স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নাহিদ বলেন, “আমাদের দল পছন্দ না হলেও, আমাদের ভোট না দিলেও অন্তত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিন।”

নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। এর মাধ্যমে গণ–অভ্যুত্থানের পর যে ফ্যাসিবাদী ও অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তন চাওয়া হয়েছিল, তা আংশিক হলেও বাস্তবায়িত হবে। আর ‘না’ জয়ী হলে পুরোনো ব্যবস্থাই বহাল থাকবে এবং গণ–অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বার্ষিক আয় ৫ কোটির বেশি

একটি দল ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললেও টাকা কোথা থেকে আসবে বলছে না: নাহিদ

আপডেট সময় ০৮:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল এখন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু এসব কার্ডের বিনিময়ে যে অর্থ দেওয়া হবে, সেই অর্থের উৎস কোথা থেকে আসবে— সে বিষয়ে তারা কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। শুধু খরচের কথাই বলা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলা মোটরে গণভোটের প্রচারণার লক্ষ্যে আয়োজিত ক্যারাভ্যান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই ধরনের কার্ড বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হয়তো আবার ভ্যাট বাড়ানো হবে, যার চাপ পড়বে সাধারণ জনগণের ওপর। অন্যদিকে, এই কার্ডগুলো দলীয় লোকজনই বেশি পাবে, সাধারণ মানুষ বঞ্চিত থাকবে। ফলে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর একটি দল সরকারে এসে ১০ টাকায় চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই শাসনামলেই দেশ নানা দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন জনগণ সচেতন। মানুষ টানা ১৬ বছর ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। তাই এবার আর সস্তা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট কেনা যাবে না।

গণভোট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে বা আড়ালে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। এই দলই আবার সংস্কার কমিশন গঠনের সময় বলেছিল— এই সরকার কেন সংস্কার করবে, গণ–অভ্যুত্থানের পর কোনো সংস্কারের প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, গণভোটে এনসিপি স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নাহিদ বলেন, “আমাদের দল পছন্দ না হলেও, আমাদের ভোট না দিলেও অন্তত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিন।”

নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। এর মাধ্যমে গণ–অভ্যুত্থানের পর যে ফ্যাসিবাদী ও অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তন চাওয়া হয়েছিল, তা আংশিক হলেও বাস্তবায়িত হবে। আর ‘না’ জয়ী হলে পুরোনো ব্যবস্থাই বহাল থাকবে এবং গণ–অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে যাবে।