ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৯ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার বাগবাড়িতে ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। যিনি পরবর্তীকালে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি ছিলেন দেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধকালীন জেড ফোর্সের অধিনায়ক, সেনাবাহিনী প্রধান, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তাঁর নেতৃত্ব জাতির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ১৯ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসের এই মহান ও দূরদর্শী নেতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী। গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে, যিনি পরবর্তীকালে একজন পরিণত, প্রজ্ঞাবান ও অত্যন্ত জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন।

তাঁর আপসহীন দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার এবং দেশ ও জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তাঁকে জাতির হৃদয়ে স্থায়ী আসনে অধিষ্ঠিত করেছে, তিনি হয়ে উঠেছেন এক সত্যিকারের প্রিয়জন ও কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব। জিয়াউর রহমানের শৈশব কেটেছে কলকাতায়, যেখানে তাঁর পিতা মনসুর রহমান তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঐতিহাসিক হেয়ার স্কুলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে অবস্থিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাসংস্কারক ডেভিড হেয়ার। এটি উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বিদ্যালয়।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি পরিবারের সঙ্গে করাচিতে চলে যান এবং ডি. জে. সিন্ধ গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজে শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখেন। ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি ছিল একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৫৫ সালে কমান্ডো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬৭ সালের এপ্রিলে তিনি ঢাকা সংলগ্ন জয়দেবপুর সাব-ক্যান্টনমেন্টে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় ব্যাচে সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে যোগ দেন। একই বছর তিনি উন্নত সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য পশ্চিম জার্মানিতে যান। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়, যেখানে তিনি ষোলশহরে তাঁর ঘাঁটি স্থাপন করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যার পর ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, যা জাতিকে সশস্ত্র প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে। স্ত্রী ও সন্তানদের গভীর ভালোবাসা ও মমতা উপেক্ষা করে তিনি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেন। তিনি জেড ফোর্স গঠন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত সেক্টর নম্বর-১-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি অসীম সাহসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতার সঙ্গে জেড ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। তাঁর বীরত্ব ও নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

স্বাধীনতার পরও তিনি নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দেশসেবায় নিয়োজিত থাকেন। ১৯৭৫ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যেও তিনি দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দৃঢ় অবস্থান নেন। ৩ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে গৃহবন্দি হলেও ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানে তিনি মুক্ত হন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের প্রবর্তিত একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা বিলুপ্ত করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে আরোপিত সংবাদপত্রের ওপর বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে তিনি পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন।

জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত এক অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে পরাজিত করে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা দেশের রাজনীতি ও উন্নয়নের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

তাঁর নেতৃত্বে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি দ্রুত সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। দুর্নীতি ও চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বিমান ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ কঠোর হাতে দমন করে অল্প সময়ের মধ্যেই জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ও আস্থা ফিরিয়ে আনেন। কর্মপাগল নেতা হিসেবে পরিচিত জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গৃহীত একাধিক যুগান্তকারী উদ্যোগ দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন এনে দেয়।

গত ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করেন। তবে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের যে আদর্শ তিনি রেখে গেছেন, তা আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। ইতিহাসের ধারায়, জিয়ার দায়িত্ব হস্তান্তরিত হয় বেগম খালেদা জিয়ার হাতে এবং তার স্বৈরাচার বিরোধী ‘আপসহীন’ অবস্থানের কারণে তিনি দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নরী প্রধানমন্ত্রী হন। ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫- বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর, তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের ওপর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন হবে, কোথাও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব নেই: অর্থ উপদেষ্টা

আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় ১০:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

বগুড়ার বাগবাড়িতে ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। যিনি পরবর্তীকালে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি ছিলেন দেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধকালীন জেড ফোর্সের অধিনায়ক, সেনাবাহিনী প্রধান, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তাঁর নেতৃত্ব জাতির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ১৯ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসের এই মহান ও দূরদর্শী নেতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী। গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে, যিনি পরবর্তীকালে একজন পরিণত, প্রজ্ঞাবান ও অত্যন্ত জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন।

তাঁর আপসহীন দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার এবং দেশ ও জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তাঁকে জাতির হৃদয়ে স্থায়ী আসনে অধিষ্ঠিত করেছে, তিনি হয়ে উঠেছেন এক সত্যিকারের প্রিয়জন ও কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব। জিয়াউর রহমানের শৈশব কেটেছে কলকাতায়, যেখানে তাঁর পিতা মনসুর রহমান তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঐতিহাসিক হেয়ার স্কুলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে অবস্থিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাসংস্কারক ডেভিড হেয়ার। এটি উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বিদ্যালয়।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি পরিবারের সঙ্গে করাচিতে চলে যান এবং ডি. জে. সিন্ধ গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজে শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখেন। ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি ছিল একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৫৫ সালে কমান্ডো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬৭ সালের এপ্রিলে তিনি ঢাকা সংলগ্ন জয়দেবপুর সাব-ক্যান্টনমেন্টে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় ব্যাচে সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে যোগ দেন। একই বছর তিনি উন্নত সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য পশ্চিম জার্মানিতে যান। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়, যেখানে তিনি ষোলশহরে তাঁর ঘাঁটি স্থাপন করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যার পর ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, যা জাতিকে সশস্ত্র প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে। স্ত্রী ও সন্তানদের গভীর ভালোবাসা ও মমতা উপেক্ষা করে তিনি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেন। তিনি জেড ফোর্স গঠন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত সেক্টর নম্বর-১-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি অসীম সাহসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতার সঙ্গে জেড ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। তাঁর বীরত্ব ও নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

স্বাধীনতার পরও তিনি নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দেশসেবায় নিয়োজিত থাকেন। ১৯৭৫ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যেও তিনি দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দৃঢ় অবস্থান নেন। ৩ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে গৃহবন্দি হলেও ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানে তিনি মুক্ত হন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের প্রবর্তিত একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা বিলুপ্ত করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে আরোপিত সংবাদপত্রের ওপর বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে তিনি পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন।

জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত এক অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে পরাজিত করে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা দেশের রাজনীতি ও উন্নয়নের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

তাঁর নেতৃত্বে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি দ্রুত সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। দুর্নীতি ও চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বিমান ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ কঠোর হাতে দমন করে অল্প সময়ের মধ্যেই জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ও আস্থা ফিরিয়ে আনেন। কর্মপাগল নেতা হিসেবে পরিচিত জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গৃহীত একাধিক যুগান্তকারী উদ্যোগ দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন এনে দেয়।

গত ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করেন। তবে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের যে আদর্শ তিনি রেখে গেছেন, তা আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। ইতিহাসের ধারায়, জিয়ার দায়িত্ব হস্তান্তরিত হয় বেগম খালেদা জিয়ার হাতে এবং তার স্বৈরাচার বিরোধী ‘আপসহীন’ অবস্থানের কারণে তিনি দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নরী প্রধানমন্ত্রী হন। ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫- বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর, তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের ওপর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পিত হয়।