এবার আইসিসি যৌক্তিক দাবি না মানায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করেছে বাংলাদেশ। আর এর প্রতিবাদে ভারত ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। দুই দেশের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক আলোচনা–সমালোচনা হলেও সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। সেই সঙ্গে আইসিসির কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। মূলত, বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিলেও বিসিসিআই রহস্যজনকভাবে তার চুক্তি বাতিল করে। এর প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রশংসা করে নাসির বলেন, বাংলাদেশ তাদের খেলোয়াড় (মোস্তাফিজ)-এর জন্য রুখে দাঁড়িয়েছে, এটি আমার ভালো লেগেছে। পাকিস্তানও যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটাও ইতিবাচক। কাউকে না কাউকে তো বলতে হবে যে অনেক হয়েছে, এবার রাজনীতি বন্ধ করে আমাদের ক্রিকেট খেলতে দিন। আইসিসি কঠোর অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ দিয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটের ভেতরে ঢুকে পড়া রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন।
তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন একটাই—আইসিসি কি ভারতের ক্ষেত্রেও এমন কঠোর হতে পারতো? যদি ভারত সরকার টুর্নামেন্টের এক মাস আগে বলত তারা নির্দিষ্ট কোনো দেশে খেলতে যাবে না, তবে কি আইসিসি তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দেওয়ার সাহস দেখাত? সব পক্ষই কেবল কাজের স্বচ্ছতা ও সমতা চায়। তিনি আরও বলেন, ভারত সমর্থকরা হয়তো বলবেন, আমাদের টাকা আছে তাই আমরাই শক্তিশালী। কিন্তু ক্ষমতার সাথে দায়িত্বও আসে। আপনি যদি বারবার বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে কোণঠাসা করেন, তবে তাদের ক্রিকেটের মান কমে যাবে। ভারত–পাকিস্তান বা ভারত–বাংলাদেশ ম্যাচগুলো যে এখন একপাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে, তার কারণ এটাই।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। যদিও বিসিসিআই দাবি করছে তারা ম্যাচ খেলার জন্য শ্রীলঙ্কা যাবে, কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ তার দেশের অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে এখন মাঠের বাইরের কূটনীতিই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০টি দলের এই মহাযজ্ঞ শুরুর আগেই এমন অচলাবস্থা ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য এক অন্ধকার সংকেত বলে মনে করছেন নাসের

























