ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটিতে নির্বাচন করতে চান মঞ্জু, দাবি বাকেরের

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১১:৫৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৪ বার পড়া হয়েছে

এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় নিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার দাবি করেছেন, সাবেক মেয়র মনজুর আলম এনসিপির সমর্থনে সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। ফেসবুক পোস্টে আবু বাকের মজুমদার লিখেছেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে দীর্ঘদিন সাবেক মেয়র মঞ্জু তার রাজনৈতিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করছেন। আওয়ামী লীগ করেছে এরকম অনেকেই অভ্যুত্থানের পক্ষ নিয়েছেন। মেয়র মঞ্জু বিএনপি আওয়ামী লীগ দুটোই করেছেন এবং ৫ই আগষ্টের পরে বিএনপির পক্ষ থেকে মেয়র মঞ্জুর বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

তিনি আরও লেখেন, ‘আজ যখন হাসনাত আব্দুল্লাহ মেয়র মঞ্জুর সাথে দেখা করতে গিয়েছেন তখন বিএনপির আরেক পক্ষ সেখানে গিয়ে মব চালাচ্ছে। মূলত সাবেক মেয়র মঞ্জু এনসিপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘বিএনপি যেখানে অন্তর্কোন্দলে বিভক্ত সেখানে এনসিপির শক্তিশালী ক্যান্ডিডেট তাদের ভয়ের কারণ হবে এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি যেখানে সারাদেশে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে সেখানে বিএনপির উচিত মব কালচার বাদ দিয়ে নিরপরাধ মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি সচেতন হওয়া। পাশাপাশি নতুন করে বিএনপির কোলে উঠা কিছু মিডিয়া যেভাবে ন্যারেটিভ দিচ্ছেন তাদেরকে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহবান জানাচ্ছি।

গতকাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় যান এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। পরে বাসার সামনে একদল যুবক জড়ো হয়ে নিজেদের জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেনএমন কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সাবেক মেয়র মনজুর আলম বলেন, চট্টগ্রামে হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি কর্মসূচি ছিল। পরে তিনি দুপুরে তার বাসায় আসার আমন্ত্রণ জানান এবং দুপুরের খাবারও গ্রহণ করেন। তিনি জানান, বিকেল ৩টার দিকে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বাসায় আসেন এবং দুপুরের খাবার খান। পরে কিছু স্থানীয় যুবক বাইরে জড়ো হলে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেই তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সন্ধ্যার দিকে তিনি চলে যান। জড়ো হওয়া কিছু ব্যক্তিকে মনজুর আলমকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে আখ্যা দিতে শোনা যায়। তবে এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার নামে তো কোনো মামলাও নাই। আমি আওয়ামী লীগও করি না। আমি আওয়ামী লীগের দোসর কোথা থেকে হইলাম? তিনি আরও বলেন, আমি তো বিএনপির মেয়র ছিলাম। আমি কী আওয়ামী লীগে যোগ দিছিলাম নাকি? আওয়ামী লীগের তো আমি কিছুই ছিলাম না।

সাবেক এই মেয়র বলেন, ২০১৫ সালের নির্বাচনের পর থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে আছেন এবং বর্তমানে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। তিনি এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে চান কি নাএমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মানুষ এটা নিয়ে কানাঘুষা করছে, তবে তিনি কাউকে নির্বাচনের বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি আরও জানান, হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। উল্লেখ্য, মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবরুদ্ধ হরমুজ: ট্রাম্পের অবরোধ ভাঙতে নামবে চীনের ভয়ঙ্কর নৌবহর?

এনসিপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটিতে নির্বাচন করতে চান মঞ্জু, দাবি বাকেরের

আপডেট সময় ১১:৫৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় নিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার দাবি করেছেন, সাবেক মেয়র মনজুর আলম এনসিপির সমর্থনে সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। ফেসবুক পোস্টে আবু বাকের মজুমদার লিখেছেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে দীর্ঘদিন সাবেক মেয়র মঞ্জু তার রাজনৈতিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করছেন। আওয়ামী লীগ করেছে এরকম অনেকেই অভ্যুত্থানের পক্ষ নিয়েছেন। মেয়র মঞ্জু বিএনপি আওয়ামী লীগ দুটোই করেছেন এবং ৫ই আগষ্টের পরে বিএনপির পক্ষ থেকে মেয়র মঞ্জুর বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

তিনি আরও লেখেন, ‘আজ যখন হাসনাত আব্দুল্লাহ মেয়র মঞ্জুর সাথে দেখা করতে গিয়েছেন তখন বিএনপির আরেক পক্ষ সেখানে গিয়ে মব চালাচ্ছে। মূলত সাবেক মেয়র মঞ্জু এনসিপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘বিএনপি যেখানে অন্তর্কোন্দলে বিভক্ত সেখানে এনসিপির শক্তিশালী ক্যান্ডিডেট তাদের ভয়ের কারণ হবে এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি যেখানে সারাদেশে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে সেখানে বিএনপির উচিত মব কালচার বাদ দিয়ে নিরপরাধ মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি সচেতন হওয়া। পাশাপাশি নতুন করে বিএনপির কোলে উঠা কিছু মিডিয়া যেভাবে ন্যারেটিভ দিচ্ছেন তাদেরকে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহবান জানাচ্ছি।

গতকাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় যান এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। পরে বাসার সামনে একদল যুবক জড়ো হয়ে নিজেদের জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেনএমন কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সাবেক মেয়র মনজুর আলম বলেন, চট্টগ্রামে হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি কর্মসূচি ছিল। পরে তিনি দুপুরে তার বাসায় আসার আমন্ত্রণ জানান এবং দুপুরের খাবারও গ্রহণ করেন। তিনি জানান, বিকেল ৩টার দিকে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বাসায় আসেন এবং দুপুরের খাবার খান। পরে কিছু স্থানীয় যুবক বাইরে জড়ো হলে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেই তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সন্ধ্যার দিকে তিনি চলে যান। জড়ো হওয়া কিছু ব্যক্তিকে মনজুর আলমকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে আখ্যা দিতে শোনা যায়। তবে এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার নামে তো কোনো মামলাও নাই। আমি আওয়ামী লীগও করি না। আমি আওয়ামী লীগের দোসর কোথা থেকে হইলাম? তিনি আরও বলেন, আমি তো বিএনপির মেয়র ছিলাম। আমি কী আওয়ামী লীগে যোগ দিছিলাম নাকি? আওয়ামী লীগের তো আমি কিছুই ছিলাম না।

সাবেক এই মেয়র বলেন, ২০১৫ সালের নির্বাচনের পর থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে আছেন এবং বর্তমানে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। তিনি এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে চান কি নাএমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মানুষ এটা নিয়ে কানাঘুষা করছে, তবে তিনি কাউকে নির্বাচনের বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি আরও জানান, হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। উল্লেখ্য, মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।