এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিরোধী শিবির ১১ দলীয় ঐক্য থেকে মনোনীত ১৩ জনের মধ্যে এনসিপির নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তার মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষে আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) তার মনোনয়পত্র স্থগিত করা হয়। মনিরা শারমিনকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে তার স্বপক্ষে যুক্তি বা বক্তব্য দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে, এই নির্বাচনী জোটের মনোনীত বাকি ১২ জনের মনোনয়নপত্র প্রথামমিকভাবে বৈধ বিবেচিত হয়েছে।
এ নিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, এনসিপির মনিরা শারমিনের ডকুমেন্টেশনের ঘাটতি আছে। তাকে ১২টা পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। আশা করি ১৩ জনই বৈধ বলে ঘোষিত হবে। তারা সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। আশা করি একটি প্রাণবন্ত জাতীয় সংসদ দেখবো। দেশ ও জাতির বিপক্ষে সরকার ভূমিকা রাখলে সংসদ ও রাজপথে আমাদের প্রতিবাদী ভূমিকা থাকবে। গত সোমবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত প্রার্থীদের নাম জানায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এর মধ্যে জামায়াত থেকে ৯ জন, এনসিপি থেকে ২ জন, জাগপা থেকে একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে একজনকে সমর্থন দেওয়া হয়।
১১ দলীয় ঐক্য থেকে মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন— জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সাবিকুন নাহার মুন্নী, প্রচার ও সাহিত্য সাংস্কৃতিক বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, সিলেটের নেত্রী মাহফুজা হান্নান, বগুড়ার নেত্রী ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ, চট্টগ্রামের নেত্রী শামছুন্নাহার বেগম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী মারদিয়া মমতাজ এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম।
এনসিপির নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু, জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে ১টি সংরক্ষিত আসন পাবে। এর মধ্যে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে নাম ঘোষণার পরপরই। কারণ গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বা এই পদে বহালের সুযোগ না থাকলেও শতভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছাড়ার কয়েক মাসের মাথায় প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
এ অবস্থায় মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে এনসিপির নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমেরও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। গতকাল নির্ধারিত সময় শেষে এনসিপির এ নেত্রী মনোনয়নপত্র জমা দেন ইসিতে। তবে, এই কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।























