এবার ক্যাম্পাসগুলোতে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ও ‘মব কালচার’ ছড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দূরত্ব তৈরির পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন ক্যাফেটেরিয়ার সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, এর পেছনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাত রয়েছে এবং তাদের অবিলম্বে পরিচয় লুকিয়ে রাজনীতি না করে প্রকাশ্যে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের মাত্র দুই বা পাঁচ সদস্যের কমিটি থাকলেও তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছদ্মবেশ ধারণ করে ‘মব’ বা গণপিটুনির মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত দেড় বছর ধরে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘটিত মবগুলোতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি ঐক্যবদ্ধ গ্রুপ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে ছাত্রদলকে হেনস্তা করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার একটি সুপরিকল্পিত চাল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অব্যাহত মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, মাসের পর মাস ধরে তাদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দলের কিছু নেতাকর্মী পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখালেও তিনি সবাইকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। ভূয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে ক্যাম্পাস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশেই থাকবে এবং কোনোভাবেই ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল হতে দেবে না।
ইসলামী ছাত্রশিবিরকে উদ্দেশ্য করে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, গুপ্ত রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে তাদের প্রকাশ্যে রাজনীতি করা উচিত। তিনি বলেন, শিবিরের নেতাকর্মীরা যদি কিছু করতে চায়, তবে তা যেন নিজেদের পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্যে করে। তারা দেয়াল লিখন বা ছাত্রদলের সমালোচনা যা–ই করুক, তা যেন পরিচয় লুকিয়ে মব সৃষ্টি বা প্রপাগান্ডা না চালিয়ে সরাসরি করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিভেদের সুযোগ নিয়ে ‘ফ্যাসিস্ট’ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হওয়ার চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কখনোই গোপনে রাজনীতি করেনি এবং করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

























