ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘স্বৈরাচারী ফেরাউন’ আখ্যা দিয়ে কার্টুন পোস্ট করলেন খামেনি

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০২:১৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চরম উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে তার একটি অবমাননাকর কার্টুন পোস্ট করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) খামেনির আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা এই কার্টুনে ট্রাম্পকে প্রাচীন মিশরের মমি সংরক্ষণের কফিন বা সারকোফ্যাগাসের ভেতরে একটি ভঙ্গুর মূর্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। কার্টুনটির পটভূমিতে পিরামিড ও দেয়ালে প্রাচীন মিশরীয় লিপি হায়রোগ্লিফিক্স দৃশ্যমান।

ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় খামেনি ট্রাম্পকে ইতিহাসের অত্যাচারী শাসক ফেরাউন ও নমরুদের সঙ্গে তুলনা করে হুশিয়ারি দিয়েছেন, তাদের মতোই ট্রাম্পের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। খামেনির ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ফেরাউন, নমরুদ কিংবা ইরানের পাহলভি রাজবংশের রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজার মতো দোর্দণ্ড প্রতাপশালী স্বৈরাচারীদের তাদের গৌরবের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে উৎখাত করা হয়েছিল। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে যারা অহমিকার সঙ্গে বিচার করছেন, তাদের পরিণতিও একই হবে বলে বার্তায় দাবি করা হয়। এই ‘প্রতীকী’ জবাবের মাধ্যমে মূলত খামেনি ট্রাম্পের সেই উসকানিমূলক বক্তব্যের উত্তর দিলেন, যেখানে ট্রাম্প ইরানের জনগণের মুক্তির জন্য প্রয়োজনে সেনা পাঠানোর কথা বলেছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১৬ দিন ধরে ইরানে চলা বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ, যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব তেহরানের ওপর চরম অসন্তুষ্ট।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু কঠোর সামরিক ও কৌশলগত বিকল্প নিয়ে ভাবছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নিশ্চিত করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেছেন যে, ইরানের নেতারা আলোচনার জন্য তাকে ফোন করলেও কোনো বৈঠক হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পদক্ষেপ’ নিতে হতে পারে। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সাইবার হামলা, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা সরাসরি সামরিক অভিযানের মতো বিকল্পগুলো রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সাইবার অস্ত্র ব্যবহার বা অনলাইনে সরকারবিরোধী উৎসগুলোকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

তেহরান ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হামলা চালালে তারা পাল্টা আঘাত হানবে। খামেনির সর্বশেষ এই কার্টুন পোস্টের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন এক চূড়ান্ত অস্থিতিশীল পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। ট্রাম্পের ‘গ্রেট ইরান’ গড়ার আহ্বানের বিপরীতে খামেনি তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের যে বার্তা দিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, তেহরানের এই সরাসরি উসকানির জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন কী ধরনের কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়। সূত্র: বিবিসি

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের আহ্বানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছেন বিদ্রোহীরা

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘স্বৈরাচারী ফেরাউন’ আখ্যা দিয়ে কার্টুন পোস্ট করলেন খামেনি

আপডেট সময় ০২:১৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

এবার ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চরম উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে তার একটি অবমাননাকর কার্টুন পোস্ট করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) খামেনির আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা এই কার্টুনে ট্রাম্পকে প্রাচীন মিশরের মমি সংরক্ষণের কফিন বা সারকোফ্যাগাসের ভেতরে একটি ভঙ্গুর মূর্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। কার্টুনটির পটভূমিতে পিরামিড ও দেয়ালে প্রাচীন মিশরীয় লিপি হায়রোগ্লিফিক্স দৃশ্যমান।

ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় খামেনি ট্রাম্পকে ইতিহাসের অত্যাচারী শাসক ফেরাউন ও নমরুদের সঙ্গে তুলনা করে হুশিয়ারি দিয়েছেন, তাদের মতোই ট্রাম্পের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। খামেনির ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ফেরাউন, নমরুদ কিংবা ইরানের পাহলভি রাজবংশের রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজার মতো দোর্দণ্ড প্রতাপশালী স্বৈরাচারীদের তাদের গৌরবের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে উৎখাত করা হয়েছিল। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে যারা অহমিকার সঙ্গে বিচার করছেন, তাদের পরিণতিও একই হবে বলে বার্তায় দাবি করা হয়। এই ‘প্রতীকী’ জবাবের মাধ্যমে মূলত খামেনি ট্রাম্পের সেই উসকানিমূলক বক্তব্যের উত্তর দিলেন, যেখানে ট্রাম্প ইরানের জনগণের মুক্তির জন্য প্রয়োজনে সেনা পাঠানোর কথা বলেছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১৬ দিন ধরে ইরানে চলা বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ, যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব তেহরানের ওপর চরম অসন্তুষ্ট।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু কঠোর সামরিক ও কৌশলগত বিকল্প নিয়ে ভাবছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নিশ্চিত করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেছেন যে, ইরানের নেতারা আলোচনার জন্য তাকে ফোন করলেও কোনো বৈঠক হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পদক্ষেপ’ নিতে হতে পারে। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সাইবার হামলা, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা সরাসরি সামরিক অভিযানের মতো বিকল্পগুলো রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সাইবার অস্ত্র ব্যবহার বা অনলাইনে সরকারবিরোধী উৎসগুলোকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

তেহরান ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হামলা চালালে তারা পাল্টা আঘাত হানবে। খামেনির সর্বশেষ এই কার্টুন পোস্টের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন এক চূড়ান্ত অস্থিতিশীল পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। ট্রাম্পের ‘গ্রেট ইরান’ গড়ার আহ্বানের বিপরীতে খামেনি তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের যে বার্তা দিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, তেহরানের এই সরাসরি উসকানির জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন কী ধরনের কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়। সূত্র: বিবিসি