ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিলিগুড়ি ‘‌‌চিকেনস নেক’ এর নিরাপত্তায় পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি চালু করছে ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১১:৪৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৪ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগ ও কৌশলগত বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিত্যক্ত ৫টি বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, মূলত শিলিগুড়ি ‘চিকেন নেকের’ নিরাপত্তা আরও বাড়াতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে এ তথ্য। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে থাকার সময়েই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তকারী সংকীর্ণ ভূখণ্ড শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকিই এই পদক্ষেপের অন্যতম কারণ বলে তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্নির্মাণ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। শিলিগুড়ি করিডোরের কাছাকাছি অবস্থিত এই বিমানঘাঁটি নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা মহলে বেশ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে এই করিডোর বিচ্ছিন্ন করার হুমকির কথাও একাধিকবার উঠে এসেছে বলে ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দাবি করেছেন।

এরই মধ্যে ভারত ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিশানগঞ্জ এবং আসামের ধুবরি জেলায় নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব এয়ারস্ট্রিপ বা বিমানঘাঁটি সংস্কারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবরি। এর বাইরে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও আসামের কোকরাঝাড় জেলার রূপসি বিমানঘাঁটি ইতোমধ্যেই চালু রয়েছে।

এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, ভারতের দৃষ্টিতে এসব ঐতিহাসিক বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবন কেবল যোগাযোগ উন্নয়ন নয়, বরং কৌশলগত গভীরতা বাড়ানোরও একটি বড় পদক্ষেপ। একসময় যে অঞ্চল বিশ্বযুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল, সেই অঞ্চলই আবারও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে-এমন বাস্তবতা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা গণহত্যায় অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে আরব আমিরাত, গোপন নথি ফাঁস

শিলিগুড়ি ‘‌‌চিকেনস নেক’ এর নিরাপত্তায় পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি চালু করছে ভারত

আপডেট সময় ১১:৪৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

এবার বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগ ও কৌশলগত বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিত্যক্ত ৫টি বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, মূলত শিলিগুড়ি ‘চিকেন নেকের’ নিরাপত্তা আরও বাড়াতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে এ তথ্য। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে থাকার সময়েই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তকারী সংকীর্ণ ভূখণ্ড শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকিই এই পদক্ষেপের অন্যতম কারণ বলে তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্নির্মাণ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। শিলিগুড়ি করিডোরের কাছাকাছি অবস্থিত এই বিমানঘাঁটি নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা মহলে বেশ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে এই করিডোর বিচ্ছিন্ন করার হুমকির কথাও একাধিকবার উঠে এসেছে বলে ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দাবি করেছেন।

এরই মধ্যে ভারত ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিশানগঞ্জ এবং আসামের ধুবরি জেলায় নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব এয়ারস্ট্রিপ বা বিমানঘাঁটি সংস্কারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবরি। এর বাইরে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও আসামের কোকরাঝাড় জেলার রূপসি বিমানঘাঁটি ইতোমধ্যেই চালু রয়েছে।

এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, ভারতের দৃষ্টিতে এসব ঐতিহাসিক বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবন কেবল যোগাযোগ উন্নয়ন নয়, বরং কৌশলগত গভীরতা বাড়ানোরও একটি বড় পদক্ষেপ। একসময় যে অঞ্চল বিশ্বযুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল, সেই অঞ্চলই আবারও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে-এমন বাস্তবতা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।