ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির কার্যালয় ও দোকানে আ.লীগের হামলা-ভাঙচুর, আহত ২০

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:৩৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের প্রায় ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা ও তার সহযোগীরা ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে ২০২০ সালে সেখানে কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ নিয়ে একাধিকবার মামলামোকদ্দমা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠকের কথা থাকলেও চেয়ারম্যানপক্ষ উপস্থিত হয়নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন।

এর জেরে শনিবার বিকেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানপক্ষের সমর্থকরা চরপাড়া বাজার এলাকায় এসে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার নেতা এনামুল চৌধুরীর বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, হামলায় শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। এতে নারীপুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বিল্লাল হোসেন মোল্যা বলেন, হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও তিনি জমির দখল নিতে পারেননি। বর্তমানে ওই জমি চেয়ারম্যানপক্ষের দখলে রয়েছে। হামলার ঘটনায় তিনি বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ করেন। ছিরু মাতুব্বর অভিযোগ করেন, তার সারের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা বলেন, তার বাজারের দোকানে তালা লাগানো হয়েছে এবং তার লোকজনকে উসকানি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, তার প্রতিপক্ষের লোকজনই ভাঙচুর করে তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। বোয়ালমারীআলফাডাঙ্গামধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদিতে ভিক্ষাবৃত্তি, দেশে ফিরতেই ৩ নারীসহ আটক ৪ 

বিএনপির কার্যালয় ও দোকানে আ.লীগের হামলা-ভাঙচুর, আহত ২০

আপডেট সময় ১০:৩৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

এবার ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের প্রায় ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা ও তার সহযোগীরা ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে ২০২০ সালে সেখানে কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ নিয়ে একাধিকবার মামলামোকদ্দমা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠকের কথা থাকলেও চেয়ারম্যানপক্ষ উপস্থিত হয়নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন।

এর জেরে শনিবার বিকেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানপক্ষের সমর্থকরা চরপাড়া বাজার এলাকায় এসে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার নেতা এনামুল চৌধুরীর বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, হামলায় শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। এতে নারীপুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বিল্লাল হোসেন মোল্যা বলেন, হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও তিনি জমির দখল নিতে পারেননি। বর্তমানে ওই জমি চেয়ারম্যানপক্ষের দখলে রয়েছে। হামলার ঘটনায় তিনি বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ করেন। ছিরু মাতুব্বর অভিযোগ করেন, তার সারের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা বলেন, তার বাজারের দোকানে তালা লাগানো হয়েছে এবং তার লোকজনকে উসকানি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, তার প্রতিপক্ষের লোকজনই ভাঙচুর করে তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। বোয়ালমারীআলফাডাঙ্গামধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।