ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ মা–বাবার, জেল থেকে বের হয়েই বাবাকে খুন

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

এবার কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিলেন অতিষ্ঠ পিতামাতা। সেই অভিযোগের জেরে ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়ে এক মাস সাজা দিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেই সাজার কারাভোগ শেষে সম্প্রতি বাড়ি ফেরে ছেলে। বাড়ি ফিরার সপ্তাহ পরেই বাবাকেই কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সেই ছেলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২২মে) বেলা আড়াইটার দিকে চকরিয়া পৌরসভার মৌলভীরকুম এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত খলিলুর রহমান (৬০) মৌলভীরকুম এলাকার বাসিন্দা। এলাকায় ছোট একটি দোকানে চাপান বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ছেলে মিনারুল ইসলামকে (৩০) ধরে উত্তমমধ্যম দেন। পরে তাকে একটি কমিউনিটি সেন্টারে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে চকরিয়া থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিনারুলকে থানায় নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মিনারুল তার বাবা খলিলুর রহমানের পথ রোধ করেন। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে খলিলুর রহমানের বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাহুর একটি অংশ প্রায় আলাদা হয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন খলিলকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, ছেলে মিনারুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে মাস দেড়েক আগে বাবামা চকরিয়ার ইউএনওকে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মিনারুলকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। সপ্তাহদশদিন আগে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। সাজাভোগের কারণেই বাবার প্রতি তার ক্ষোভ ছিল বলে ধারণা স্থানীয়দের। বৃহস্পতিবার বিকেলেও বাবার সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এদিকে চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, মাদকাসক্ত মিনারুলরে কর্মকাণ্ডে পরিবার অতিষ্ঠ ছিল। এ কারণে বাবামা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই মিনারুল তার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরাইল দুই ঘণ্টাও টিকতে পারত না: ট্রাম্প

মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ মা–বাবার, জেল থেকে বের হয়েই বাবাকে খুন

আপডেট সময় ১০:১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

এবার কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিলেন অতিষ্ঠ পিতামাতা। সেই অভিযোগের জেরে ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়ে এক মাস সাজা দিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেই সাজার কারাভোগ শেষে সম্প্রতি বাড়ি ফেরে ছেলে। বাড়ি ফিরার সপ্তাহ পরেই বাবাকেই কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সেই ছেলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২২মে) বেলা আড়াইটার দিকে চকরিয়া পৌরসভার মৌলভীরকুম এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত খলিলুর রহমান (৬০) মৌলভীরকুম এলাকার বাসিন্দা। এলাকায় ছোট একটি দোকানে চাপান বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ছেলে মিনারুল ইসলামকে (৩০) ধরে উত্তমমধ্যম দেন। পরে তাকে একটি কমিউনিটি সেন্টারে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে চকরিয়া থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিনারুলকে থানায় নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মিনারুল তার বাবা খলিলুর রহমানের পথ রোধ করেন। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে খলিলুর রহমানের বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাহুর একটি অংশ প্রায় আলাদা হয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন খলিলকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, ছেলে মিনারুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে মাস দেড়েক আগে বাবামা চকরিয়ার ইউএনওকে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মিনারুলকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। সপ্তাহদশদিন আগে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। সাজাভোগের কারণেই বাবার প্রতি তার ক্ষোভ ছিল বলে ধারণা স্থানীয়দের। বৃহস্পতিবার বিকেলেও বাবার সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এদিকে চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, মাদকাসক্ত মিনারুলরে কর্মকাণ্ডে পরিবার অতিষ্ঠ ছিল। এ কারণে বাবামা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই মিনারুল তার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।