ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি মেধাবী সাঈদ ইউসুফের বিস্ময়কর যাত্রা: এ লেভেলেই লিখলেন পাঠ্যবই

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০১:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • ৬৫৫ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে সাঈদ ইউসুফ আহমদ নিজের প্রতিভা ও অধ্যবসায়ে গড়েছেন এক ব্যতিক্রমী নজির। এ-লেভেল শেষ করেই তিনি লিখে ফেলেছেন একটি পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যবই—‘Understanding Accounting’, যা ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে তিনি পড়াশোনা করছেন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং ও ফাইন্যান্সে

এক সময় যিনি দিনে তিনবার মাঠে ফুটবল খেলতেন, লিওনেল মেসির অনুরাগী ছিলেন, তিনিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের এ লেভেলের দ্বিগুণ চ্যাম্পিয়ন। আর সেই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অধ্যবসায়, আত্মজিজ্ঞাসা আর লক্ষ্যচ্যুত না হওয়ার এক শক্ত ভিত।

নিজের লেখার জার্নি সম্পর্কে সাঈদ জানান, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলাতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। ফলাফলও তেমন ভালো আসছিল না। কিন্তু ও-লেভেলের মক টেস্টে অ্যাকাউন্টিংয়ে মাত্র এক নম্বরের জন্য ফেল করার পরই নিজের ভেতরকার পরিবর্তন শুরু করেন।

তিনি জানান, দ্বিতীয় মক টেস্টে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার পর চারদিকে প্রশংসার জোয়ারে তিনি নিজেকে ফিরে পান। এক সময় বন্ধুরা তাকে বলতে শুরু করে— “দোস্ত, তুই পড়ানো শুরু কর।”

এরপর ‘এ এস’ ও ‘এ টু’ লেভেল— উভয় পরীক্ষাতেই বাংলাদেশে সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেন তিনি। এই অর্জনই তাকে আত্মবিশ্বাস দেয় শিক্ষকতা ও জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন গড়তে।

কোচিং চালু করার কথা থাকলেও বিদেশে চলে যাওয়ায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। পরে নিজের হাতে তৈরি করা নোটস এবং গবেষণার ভিত্তিতে লেখেন ‘Understanding Accounting’ নামের বইটি।

তবে বই প্রকাশের পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। অনেক প্রকাশক বইটি ছাপাতে অনাগ্রহ দেখান, কারণ সাঈদ তখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পিএইচডি নেই, অভিজ্ঞতা নেই—এই যুক্তিতে অনেকেই পিছিয়ে যান। কিন্তু হাল ছাড়েননি সাঈদ। মা-বাবার সহায়তায় তিনি বই প্রকাশে সফল হন।

তিনি বলেন, “আমি বইটি থেকে কোনো লাভ করতে চাই না। মা-বাবা যে অর্থ দিয়েছেন, তা ফেরত দিতে চাই—এটাই মূল লক্ষ্য।”

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নতুন সিলেবাস চালুর পর বাজারে যেসব বই পাওয়া যায়, তার দাম প্রায় ৬ হাজার টাকা। সেই তুলনায় সাঈদের লেখা বইটি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকায়, যা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সহনীয়।

সবচেয়ে বড় সমর্থন পেয়েছেন নিজের শিক্ষক আশরাফ স্যারের কাছ থেকে, যিনি বই প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়ায় পাশে ছিলেন। সাঈদ ইউসুফের এই গল্প প্রমাণ করে—সফলতা শুধু পরীক্ষার ফলাফলে নয়, তা গড়ে ওঠে লক্ষ্য, সংগ্রাম ও নিষ্ঠার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

অসুস্থ মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে দানবাক্সে চিঠি, সঙ্গে নগদ টাকা ও একজোড়া স্বর্ণের দুল

বাংলাদেশি মেধাবী সাঈদ ইউসুফের বিস্ময়কর যাত্রা: এ লেভেলেই লিখলেন পাঠ্যবই

আপডেট সময় ০১:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে সাঈদ ইউসুফ আহমদ নিজের প্রতিভা ও অধ্যবসায়ে গড়েছেন এক ব্যতিক্রমী নজির। এ-লেভেল শেষ করেই তিনি লিখে ফেলেছেন একটি পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যবই—‘Understanding Accounting’, যা ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে তিনি পড়াশোনা করছেন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং ও ফাইন্যান্সে

এক সময় যিনি দিনে তিনবার মাঠে ফুটবল খেলতেন, লিওনেল মেসির অনুরাগী ছিলেন, তিনিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের এ লেভেলের দ্বিগুণ চ্যাম্পিয়ন। আর সেই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অধ্যবসায়, আত্মজিজ্ঞাসা আর লক্ষ্যচ্যুত না হওয়ার এক শক্ত ভিত।

নিজের লেখার জার্নি সম্পর্কে সাঈদ জানান, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলাতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। ফলাফলও তেমন ভালো আসছিল না। কিন্তু ও-লেভেলের মক টেস্টে অ্যাকাউন্টিংয়ে মাত্র এক নম্বরের জন্য ফেল করার পরই নিজের ভেতরকার পরিবর্তন শুরু করেন।

তিনি জানান, দ্বিতীয় মক টেস্টে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার পর চারদিকে প্রশংসার জোয়ারে তিনি নিজেকে ফিরে পান। এক সময় বন্ধুরা তাকে বলতে শুরু করে— “দোস্ত, তুই পড়ানো শুরু কর।”

এরপর ‘এ এস’ ও ‘এ টু’ লেভেল— উভয় পরীক্ষাতেই বাংলাদেশে সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেন তিনি। এই অর্জনই তাকে আত্মবিশ্বাস দেয় শিক্ষকতা ও জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন গড়তে।

কোচিং চালু করার কথা থাকলেও বিদেশে চলে যাওয়ায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। পরে নিজের হাতে তৈরি করা নোটস এবং গবেষণার ভিত্তিতে লেখেন ‘Understanding Accounting’ নামের বইটি।

তবে বই প্রকাশের পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। অনেক প্রকাশক বইটি ছাপাতে অনাগ্রহ দেখান, কারণ সাঈদ তখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পিএইচডি নেই, অভিজ্ঞতা নেই—এই যুক্তিতে অনেকেই পিছিয়ে যান। কিন্তু হাল ছাড়েননি সাঈদ। মা-বাবার সহায়তায় তিনি বই প্রকাশে সফল হন।

তিনি বলেন, “আমি বইটি থেকে কোনো লাভ করতে চাই না। মা-বাবা যে অর্থ দিয়েছেন, তা ফেরত দিতে চাই—এটাই মূল লক্ষ্য।”

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নতুন সিলেবাস চালুর পর বাজারে যেসব বই পাওয়া যায়, তার দাম প্রায় ৬ হাজার টাকা। সেই তুলনায় সাঈদের লেখা বইটি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকায়, যা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সহনীয়।

সবচেয়ে বড় সমর্থন পেয়েছেন নিজের শিক্ষক আশরাফ স্যারের কাছ থেকে, যিনি বই প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়ায় পাশে ছিলেন। সাঈদ ইউসুফের এই গল্প প্রমাণ করে—সফলতা শুধু পরীক্ষার ফলাফলে নয়, তা গড়ে ওঠে লক্ষ্য, সংগ্রাম ও নিষ্ঠার ওপর।